Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

‘ছুরি মারে রাজন কোপায় শাকিল আমি চালাই রড’

 পেছন দিক থেকে বিশ্বজিৎকে ছুরি মারে রাজন। তার হাত ও পায়ে চাপাতি দিয়ে কোপায় শাকিল। আরও ১৫ জনের হাতে রড ও লাঠিসহ বিভিন্ন অস্ত্র ছিল। তাদের সঙ্গে আমিও রড দিয়ে ২-৩টা বাড়ি দিয়েছি। গতকাল দুপুরে আদালতে এমন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কর্মী এমদাদুল হক মিলন। মহানগর মুখ্য হাকিম  শাহরিয়ার মাহমুদ আদনানের খাসকামরায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে এমদাদুল হক মিলন বলেছে, জবি ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আমার সহসভাপতি হওয়ার কথা ছিল। ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে ঘটনার আগের রাতে সভাপতি ও সেক্রেটারি আমাদের ব্রিফ করেছিলেন। নির্দেশনা দিয়ে বলেছিলেন, যে কোন মূল্যে বিএনপি-জামায়াতের অবরোধ কর্মসূচি বানচাল করতে হবে। পরের দিন ৯ই ডিসেম্বর বিএনপি-জামায়াতের অবরোধ কর্মসূচি আছে। ওই দিন আমাকে ক্যাম্পাসে থাকতে হবে, যাতে অবরোধকারীরা পিকেটিং করতে না পারে। যদি শিবির, ছাত্রদল, বিএনপি ও জামায়াত কিছু ঘটাতে চায়, তবে যে কোন মূল্যে তাদের প্রতিরোধ করতে হবে। এমন প্রস্তুতি নিয়ে পরের দিন সকাল ৮টা থেকে সভাপতি ও সেক্রেটারির নেতৃত্বে ক্যাম্পাস থেকে মিছিল শুরু করি। এ সময়  বিএনপি’র উকিলরা মিছিল নিয়ে সামনে এগোতে থাকলে তাদের ধাওয়া করি। জজকোর্টের ভিতর ঢুকে কয়েকজনকে মারধর করি। একপর্যায়ে রায়সা বাজার ঘুরে ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে আসার পর ২-৩টি ককটেল ফাটে। ওই সময় সবাই বলে, একটা ছেলে ইনটেনসিভ ডেন্টাল কেয়ারে উঠেছে। তখন মিছিল থেকে ‘ধর ধর’ চিৎকার ওঠে। ওই ছেলের পিছন পিছন দৌড় দেয় রাজন, শাকিল, ইউনুছ, টিপু, কিবরিয়া, তমাল, আলাউদ্দিন, ইমরান, তাহসিন ও মোস্তফা। দাবড়িয়ে দোতলায় ওঠে তারা। রাজনের হাতে ছুরি, শাকিলের হাতে চাপাতি, অন্যদের হাতে রড ও লাঠি ছিল। ওই সব অস্ত্র দিয়ে সেখানেই আঘাত করতে থাকে। শাকিল চাপাতি দিয়ে হাতে ও পায়ে কোপাতে থাকে। রাজন পেছন দিক থেকে ছুরি মারে। মারধর করার সময় ছেলেটি বার বার চিৎকার করছিল, ‘আমি হিন্দু, আমারে মাইরেন না।’ পরে ছেলেটাকে নিচের দিকে নিয়ে এলে আমি সহ শাওন, নাহিদ, আজিজ, লিমন, আলামিন, রফিক ও পাভেল আটকাই। আমার হাতে রড ছিল। ছেলেটা তখন রক্তাক্ত। ছেলেটি বিক্ষিপ্তভাবে দৌড়ানোর চেষ্টা করছিল। পরে শাঁখারীবাজারের দিকে দৌড়ে পালানোর সময় আমি রড দিয়ে ২-৩টা বাড়ি মারি। একপর্যায়ে সে শাঁখারীবাজারে দিকে চলে যায়। সবার সঙ্গে আমিও ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ক্যাম্পাসে যাই। ওইদিন সভাপতি শরীফের জন্মদিন ছিল। এ উপলক্ষে ক্যাম্পাসের ভাস্কর্যের সামনে কেক কাটা হয়। এর কিছুক্ষণ পর খবর পাই, ছেলেটিকে এক রিকশাওয়ালা মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গেছে এবং সেখানেই মারা গেছে। মৃত্যুর পর জানতে পারি, ও আসলেই হিন্দু। ওর নাম বিশ্বজিৎ। পরে এক ছোট ভাইয়ের পরিচয়ের সূত্র ধরে চাঁপাই নবাবগঞ্জ পালিয়ে যাই। স্বপ্নপুরী আবাসিক হোটেলে নিজেকে লুকানোর চেষ্টা করি। পরে সেখান থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। উল্লেখ্য, গত ২৫শে ডিসেম্বর চাঁপাই নবাবগঞ্জের সদর উপজেলার আরামবাগ এলাকার স্বপ্নপুরী রেস্টহাউস থেকে ইমদাদুলকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর তাকে ঢাকায় আনা হয়। আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর আগে ২৩শে ডিসেম্বর অন্য তিন আসামি রফিকুল ইসলাম ওরফে শাকিল, জিএম রাশেদুজ্জামান ওরফে শাওন ও মাহফুজুর রহমান ওরফে নাহিদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে তারা বলেছিল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে ২১ জন  মিলে বিশ্বজিতের ওপর হামলা করেছে। দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে কাইয়ুম মিয়া টপু ও কিবরিয়াকে।  এদিকে গ্রেপ্তারকৃত চার আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানিতে যাদের নাম এসেছে তাদের বেশির ভাগই ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদারক কর্মকর্তা ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বলেন, বিজ্ঞ আদালতে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানিতেই বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের মোটিভ ও আসামিদের পরিচয় উদঘাটিত হয়েছে। বাকি আরও কয়েকজন আসামির জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ইতিমধ্যে মামলা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। পলাতক বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি শিগগিরই তদন্তকাজ সম্পন্ন হবে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট