Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

২০১৪ সালে দেশ মুক্তি পাবে: ড. কামাল

 রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে দেশ ২০১৪ সালে মুক্তি পাবে বলেই মনে করছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, সামনের এক বছর পর প্রধানমন্ত্রীসহ অনেককেই দেশের মানুষ আর ক্ষমতায় দেখতে চাইবে না। গতকাল বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম আয়োজিত ‘গণতন্ত্র ও চলমান রাজনীতি’ শীর্ষক অনলাইন সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। ড. কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বুঝতে হবে তিনি গণতন্ত্রের সেবক, জনগণের সেবক। তিনি যদি সেটা বুঝতে না পারেন তা হলে তখন সেটা আমাদের  বোঝানোর দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি বলেন, ষাটের দশকের তরুণদের কাছে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠীর আচরণ গা-সওয়া হয়নি বলেই তারা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলেন। তাই এখন আমাদের গা-সওয়া হলে চলবে না। আমাদেরও রুখে দাঁড়াতে হবে। রাজনীতিতে পুলিশ বাহিনীকে নিকৃষ্টভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে মত দিয়ে ড. কামাল বলেন, পুলিশকে রুগ্‌ণ রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করতে হবে। তাদের জনগণের বন্ধু করতে হবে। তিনি বলেন, নতুন বছরের প্রাক্কালে-বিজয়ের মাসের শেষে আমরা একটা পরিবর্তন চাই। যেখানে নাগরিকদের ভূমিকা থাকবে। রুগ্‌ণ রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাবের বদলে একটি সুস্থ রাজনীতি হবে। যে রাজনীতির জন্য আমরা অতীতে বহির্বিশ্বে অনেক সম্মান পেয়েছি। ড. কামাল বলেন, আমার মনে হয় না সরকারপ্রধান রাতে ভাল ঘুমান। কারণ একজন প্রধানমন্ত্রী সফল হলে ১৬ কোটি মানুষ সফল হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর আশপাশে যারা থাকেন তারা তাকে ভাল করতে দেন না। ১৫ই আগস্ট স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা জীবন দিয়ে গেছেন তারা কিসের জন্য দিয়েছেন? সেটা আমাদের বুঝতে হবে। দীর্ঘ সময় আমরা পরাধীনতার গ্লানি ভোগ করেছি। এখনও আমরা সেই গ্লানি থেকে মুক্ত হতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বহাত্তরের সংবিধানকে ফিরিয়ে আনতেও কম জীবন দিতে হয়নি। কাদের সিদ্দিকীর বাহিনীরই ৮০০ মানুষ জীবন দিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা সেজে মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে। অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে জেলবন্দি করা হয়। জেলে বিনা বিচারে ও গোপন বিচারে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে। এসব ভুলে গেলে চলবে না। পাকিস্তান আমলের অপশাসনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৪৬ সনের ভোটে বাঙালিরা পাকিস্তানকে ৫০ ভাগ ভোট দিয়েছিলাম, আশা ছিল আমাদের অধিকার পাবো। কিন্তু যখনই আমাদের ভাষার ওপর আঘাত এলো, অশ্রদ্ধা দেখালো-আমরা একবাক্যে ‘নো’ বলার শক্তি দেখিয়েছি। এ শক্তি প্রদর্শন করতে পেরে আমরা গর্ববোধ করি। নাগরিকদের দেশদ্রোহী আখ্যা দেয়া প্রসঙ্গে ড. কামাল বলেন, কোন দলের ৭৫ ভাগ মেজরিটি থাকলেই কি সেই ক্ষমতাসীন দলের সমলোচনা করা যাবে না? যে সমালোচনা করবে তাকেই দেশদ্রোহী বলা শুরু করবে তারা। এটা যেন রাজা-রাণীর দেশ! সামন্তপ্রভুর রাজত্বে এমনটা ঘটে, গণতন্ত্রে তো এটা চলতে পারে না! জনগণই এ দেশের ক্ষমতার মালিক। সরকারের কাজের, অন্যায়ের, ভুলের সমালোচনা করা জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। যারা নাক উঁচু করে জানতে চান, ‘নাগরিক সমাজ কারা? তাদের বলতে চাই প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সকল জনপ্রতিনিধি জনগণের সেবক। আর এটা বলা যদি দেশদ্রোহিতা হয় তাহলে আমি এ কথা বলে গর্ববোধ করি।’ আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের বিবেক ও সংবিধান থেকে দিকনির্দেশনা নিতে চাই। দেশটা কোন গোষ্ঠী বা পরিবারের নয়। সৎ ভাবে নির্ভয়ে কাজ করবে, প্রয়োজনে ঝুঁকি নেবে- এমন লোক প্রয়োজন। সারা দেশে ৩০০টি নির্বাচনী এলাকায় এমন লোক নিশ্চয়ই আছে। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক শব্দ নিয়ে টানাটানি করতে চাই না। সবাই চাই অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন। আর এ নিরপেক্ষ বলতে এক দলকে বোঝায় না। তবে নিরপেক্ষ না থাকার যে প্রবণতা দেশের কোন রাজনৈতিক দলই সেখান থেকে বের হতে পারেনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের প্রতি ইঙ্গিত করে ড. কামাল হোসেন বলেন, রাজনৈতিক প্রয়োজনে দলীয় কর্মীদের লেলিয়ে দেয়ার মতো নির্দেশ যারা দেন আমি মনে করি এটা তাদের মানসিক অসুস্থতা। এমন ব্যক্তিদের মনোচিকিৎসা দেয়া উচিত। আইনজীবী ড. তুহিন মালিক, গবেষক ড. বদিউল আলম মজুমদার অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট