Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বড় জয়ে আবাহনী শীর্ষে

গ্রামীণফোন বাংলাদেশ লীগের উদ্বোধনী ম্যাচে ফেনী সকারের বিরুদ্ধে জোড়া গোল ফিরেছিলেন লেফট উইঙ্গার তৌহিদুল আলম। তৌহিদের মতো জোড়া গোল করে ফিরলেন স্ট্রাইকার শাখাওয়াত হোসেন রনিও। মোহামেডানের বিরুদ্ধে তার দুই গোলেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লো আবাহনী। গত মওসুমে পেশাদার লীগের দ্বিতীয় রাউন্ডে মুখোমুখি হয়েছিল দেশীয় ফুটবলের সমর্থক নির্ভর দু’দল। সে ম্যাচে লীগ চ্যাম্পিয়ন আবাহনীকে ২-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল সাদা-কালোরা। গতকাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে মর্যাদার লড়াইয়ে আবারো মুখোমুখি হয়েছিল আবাহনী-মোহামেডান। শ্রেষ্ঠত্বের এ ম্যাচে গত বছর হারের প্রতিশোধটা ভালভাবেই নিয়েছে আকাশী-হলুদ শিবির। চির শত্রুদের বিপক্ষে দারুণ এ জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে ওঠে এসেছে আবাহনী। ৬ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট এখন ১৩। আর এক ম্যাচ কম খেলা ১২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে শেখ রাসেল ক্রীড়া। ১০ পয়েন্ট নিয়ে গোল গড়ে শেখ জামালকে পেছনে ফেলে সাদা-কালোরা রয়েছে তালিকার তৃতীয় স্থানে। তবে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব খেলেছে মাত্র চার ম্যাচ।
দেশের ঐতিহ্যবাহী এ দু’দলের লড়াই মানেই অন্যরকম এক উত্তেজনা। মাঠের খেলার চেয়ে মাঠের বাইরে সমর্থকদের মধ্যে লড়াই। দর্শকের মতো বড় ম্যাচের উত্তাপ টের পেয়েছিলেন আবাহনীর ইরানি কোচ আরেদশী পূর্ণেমাতও। ম্যাচ শেষে সেটা প্রকাশও করলেন তিনি। ‘আমার আগের দুই ম্যাচের কৌশল ভুল ছিল। তাই খেলোয়াগড়রা মাঠে তা বুঝতে পারেনি। আজ তারা সেটা করতে  পেরেছে বলেই জয় পেয়েছি।’ দলের জয়ে মূল ভূমিকা পালন করায় বেশ উচ্ছ্বসিত শাখাওয়াত হোসেন রনি। বলেন, ‘আগের ম্যাচগুলোতে এমন বল পেলে নার্ভাস হয়ে পরতাম। কিন্তু আজ সেটা কমিনি। কোচ আমাকে মাঠে নামার আগে মাথা ঠাণ্ডা রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেটাই প্রয়োগ করেছি।’ গতকাল হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে মাত্র ১২ মিনিটেই গোলের দেখা পায় আকাশী-হলুদ শিবির। শাখাওয়াত হোসেন রনির গোলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে এগিয়ে যায়  গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। ডানপ্রান্ত দিয়ে অসাধারণ খেলা তৌহিদুল আলম মোহামেডানের দুই ডিফেন্ডার শরীফুল ও ইয়াসিনকে ডস দিয়ে স্কয়ার পাস করেন। বক্সের ভেতরে ছুটে এসে রনি আলতো টোকায় গোল আদায় করে নেন (১-০)। উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে আবাহনী গ্যালারি। ম্যাচে ফিরে আসতে কম চেষ্টা করেনি মোহামেডান। ১৭ মিনিটে মতিউর মুন্নার বাড়ানো বল নিয়ে ডি-বক্সের প্রায় ৩০ গত দূর থেকে মোহামেডানের নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড চিগুজির জোরালো শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট না হলে তখনি সমতায় ফিরে আসতে পারতো জুয়েল রানার শিষ্যরা। ৪০ মিনিটে দলকে নিশ্চিত গোল খাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেন আবাহনীর অধিনায়ক ওয়ালী ফয়সাল। মোহামেডানের ঘানাইয়ান স্ট্রাইকার মোস্তফা ইব্রাহিমের হেড গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন ওয়ালী। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে গোল পরিশোধে মরিয়া মোহামেডান গোলের সুযোগ পেয়েছিল ৭ মিনিটেই। কিন্তু কপালটা মন্দই বলতে হবে তাদের। বক্সের ভেতর থেকে মোস্তফা ইব্রাহিমের নেয়া শট অল্পের জন্য বারঘেঁষে বাইরে না গেলে তখনি সমতায় ফিরে আসতে পারতো তারা। ম্যাচের ৬১ মিনিটে ফাঁকা পোস্ট পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হলেও দুই মিনিট পরেই আবাহনী শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়ে আনেন শাখাওয়াত হোসেন রনি। আতিকুর রহমান মিশুর পাসে আউদু ইব্রাহিম ক্রস করেন রনির উদ্দেশ্যে। বল ধরেই সরাসরি শটে গোলরক্ষক তিতুমীর চৌধুরী টিটোকে পরাস্ত করে ব্যবধানের গ্রাফটা আরও একধাপ ওপরে টেনে নিয়ে যান (২-০)। শেষ পর্যন্ত অনেক চেষ্টার পরও ম্যাচে আর ফিরে আসাতো দূরের কথা, ব্যবধানও কমাতে পারেনি মতিঝিল পাড়ার ক্লাব দলটি। চলতি এ আসরে এটা তাদের দ্বিতীয় হার। এর আগে তারা শেখ জামালের কাছে পরাস্ত হয়েছিল। টানা তিন ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে এমন হারের কারণ হিসেবে দলের সহকারী কোচ জুয়েল রানা অভিজ্ঞতার পার্থক্যটাকেই সামনে টেনে আনেন। বলেন, ‘ওদের দলে অভিজ্ঞ ফুটবলার বেশি ছিল। বিগ ম্যাচে এটাই বড় এডভান্টেজ। আমাদের ডিফেন্ডাররা মিস করেছে। আর ম্যাচের পার্থ্যকটা গড়ে দিয়েছে ওদের বিদেশী ফুটবলাররা।’
আবাহনী: সোহেল, ওয়ালী, সুজন, মিশু, প্রাণতোষ, সামাদ ইউসুফ, তৌহিদ (এনামুল), ইয়কো সামনিক, টুয়াম ফ্রাঙ্ক, আউডু ইব্রাহিম ও রনি (আরমান আজিজ)।
মোহামেডান: মামুন খান, রজনী, ইয়াসিন, শরীফুল, সোহেল রানা, মতিউর মুন্না (মোবারক), মেজবাবুল হক মানিক (মারুফ), কলি ওসমান, মুস্তাফা ইব্রাহিম, ড্যামিয়েন চিগোজি ও ওসেই মরিসন।
আজকের খেলা
ফেনী সকার-মুক্তিযোদ্ধা
ফেনী স্টেডিয়াম
দুপুর ২টা ৩০ মিনিট
শেখ জামাল-আরামবাগ
বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম
বিকাল ৪ টা ৩০ মিনিট

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট