Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

মন্ত্রী কিভাবে বিচারের বিষয়ে বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক করেন?- শুনানিতে ব্যারিস্টার রাজ্জাক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নিজামুল হকের বিরুদ্ধে সংবিধান এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন ট্রাইব্যুনালে আসামি পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার  আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেছেন, এ মামলায় বিচারপতি নিজামুল হক একই সঙ্গে প্রসিকিউটরের ভূমিকাও পালন করেছেন। ব্রাসেলস থেকে আহমেদ জিয়াউদ্দিনের দেয়া ডিকটেশন অনুযায়ী তিনি কাজ করেছেন। তার ডিকটেশনেই গোলাম আযমের মামলায় চার্জে জামায়াতকে সহযোগী বাহিনী হিসেবে দেখানো হয়েছে। আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বিচারের বিষয়ে বিচারপতি নিজামুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি কিভাবে এ বৈঠক করেন। যেখানে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে ট্রাইব্যুনাল সদস্যদের একটি বৈঠক আয়োজনের কথাও বলেছেন আইন প্রতিমন্ত্রী। অধ্যাপক গোলাম আযমের পুনর্বিচার চেয়ে দায়ের করা আবেদনের শুনানিতে তিনি এসব কথা বলেন। বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল ১-এ গতকাল এ শুনানি হয়। ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বলেন, বিচারপতি হক আহমেদ জিয়াউদ্দিনকে বলেছিলেন, গোলাম আযম আর সাঈদীর মামলায় কোন মুলতবি দেয়া হবে না। কোন সাক্ষী আনা হবে, কোন সাক্ষী কি বলবেন- তা নিয়ে বিচারপতি নিজামুল হক, আহমেদ জিয়াউদ্দিন এবং প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম পরস্পরের সঙ্গে কথা বলেছেন। এসব কথোপকথনে এটা বেরিয়ে এসেছে যে, বিচারপতি হক একই সঙ্গে প্রসিকিউটরের দায়িত্বও পালন করেছেন। তারপরও এ মামলা রিট্রায়াল না হয়ে পারে? সাবেক সেনা প্রধান শফিউল্লাহকে কেন সাক্ষী হিসেবে আনা হয়নি তা-ও বোঝা যায় তাদের স্কাইপ সংলাপে। শফিউল্লাহ সাহেবকে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম কন্ট্রোল করতে পারবেন না- এ জন্যই তাকে আনা হয়নি। বিচারপতি, প্রসিকিউশনের মধ্যে যোগসূত্র হিসেবে কাজ করেছেন জিয়াউদ্দিন। তারা আলোচনা করেছেন গোলাম আযম, সাঈদী ও কাদের মোল্লার মধ্যে কার রায় আগে হবে, কার রায় পরে হবে। গোলাম আযমের মামলায় সুলতানা কামালের সাক্ষ্যকে বলা হয়েছে ফার্স্ট ক্লাস। জিয়াউদ্দিনের লম্বা হাত এমনকি দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল পর্যন্ত পৌঁছেছে। ওই ট্রাইব্যুনাল নিয়েও তিনি কথা বলেছেন। তিনি কার উপকার করলেন প্রসিকিউশনের, ট্রায়ালের না বিচারপতি হকের? তিনি পুরো বিচার প্রক্রিয়াকেই ধবংস করে দিয়েছেন। ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, বিচারপতি মো. নিজামুল হক সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং ৯৪ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছেন। তিনি আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি অস্বীকার করেছেন। তিনি বিচারপতিদের জন্য প্রণীত আচরণবিধিও লঙ্ঘন করেছেন। এ বিচারে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ হস্তক্ষেপ করেছে। হজে যাওয়ার আগে আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বিচারপতি মো. নিজামুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি এ-ও বলেছেন, হজ থেকে ফিরে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে ট্রাইব্যুনাল সদস্যদের বৈঠকের আয়োজন করবেন। এ সময় ট্রাইব্যুনাল ব্যারিস্টার রাজ্জাকের কাছে জানতে চান, মন্ত্রীদের সঙ্গে বিচারপতিদের দেখা হতে পারে না? জবাবে ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, মন্ত্রীদের সঙ্গে অবশ্যই বিচারপতিদের দেখা-সাক্ষাৎ হতে পারে। তবে কখনওই তারা বিচারাধীন বিষয়ে কথা বলতে পারেন না। তিনি বলেন, আহমেদ জিয়াউদ্দিনের ডিকটেশন অনুযায়ী গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ফর্মাল চার্জে পরিবর্তন আনা হয়েছে। রাজাকার অর্ডিন্যান্সে পরিষ্কার বলা আছে, একমাত্র রাজাকার বাহিনীই সহযোগী বাহিনী। অথচ আহমেদ জিয়াউদ্দিনের ডিকটেশনে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনে জামায়াত, আলবদরকেও সহযোগী বাহিনীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরপর ট্রাইব্যুনাল ব্যারিস্টার রাজ্জাকের কাছে জানতে চান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে পুনর্বিচারের বিধান আছে কিনা? জবাবে ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, এ আইনের ৬(৬) ধারায় বলা আছে, নতুন সদস্য এলে নতুন করে শুনানি হবে না। এটা ঠিকই আছে। এ ট্রাইব্যুনালে এর আগে দু’জন সদস্য পরিবর্তন হয়েছে। আমরা তো তখন নতুন করে বিচার চাইনি। এবার যে পরিবর্তন হয়েছে তা সাধারণ কোন পরিবর্তন নয়। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান কি অবস্থায় পরিবর্তন হয়েছে তা আপনাদের দেখতে হবে। বিচারপতি মো. নিজামুল হক কোন সাধারণ কারণে পদত্যাগ করেননি। তিনি কি পরিস্থিতিতে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন তা আমাদের মনে রাখতে হবে। তিনি পুরো বিচারপ্রক্রিয়াই ধবংস করে দিয়ে গেছেন। ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, আইনের ৬(২) ধারায় বলা আছে, ট্রাইব্যুনাল স্বাধীন থাকবে এবং বিচার হতে হবে স্বচ্ছ। আমরা পুনর্বিচার চাই না। আমরা তারও বেশি কিছু চাই। আমরা স্বচ্ছ বিচার চাই। তিনি বলেন, আইনে পুনর্বিচারের বিধান না থাকলে রুলসের ৪৬ ধারায় ট্রাইব্যুনালকে অন্তর্নিহিত ক্ষমতা দেয়া আছে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে ট্রাইব্যুনাল যে কোন আদেশ দিতে পারে। পরে ব্যারিস্টার রাজ্জাক এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আদালতের দেয়া নজির উপস্থাপন করেন। তাকে শুনানিতে সহায়তা করেন এডভোকেট শিশির মুহাম্মদ মুনির। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট