Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

১০ শর্তে খালেদার গণসংযোগের অনুমতি :গণসংযোগ শুরু সকাল ১০টায়

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবিতে সারাদেশে মহানগর পর্যায়ে ১৮ দলের গণসংযোগ আজ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ গতরাতে ১০ শর্তে এ গণসংযোগের অনুমতি দিয়েছে। রাজধানীতে গণসংযোগের নেতৃত্ব দেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধী নেতা খালেদা জিয়া। গাবতলীতে পথসভার মাধ্যমে গণসংযোগ শুরু হবে সকাল ১০টায়। সেখান থেকে গণসংযোগে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর ১১টায় কাওরান বাজার, সাড়ে ১২টায় যাত্রাবাড়ী, দেড়টায় সবুজবাগ বালুর মাঠ ও বেলা আড়াইটায় বাড্ডার ভাটারায় পথসভার মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হবে। একই সময়ে বিএনপি স্থায়ী কমিটির ৬ সদস্যের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও রংপুরে গণসংযোগ করবেন ১৮ দলের নেতারা। গণসংযোগ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যানার, পোস্টার সাঁটানো, লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছে বিএনপি। শান্তিপূর্ণ এ কর্মসূচিতে পুলিশের অনুমতি পাওয়ার পর গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগের সমর্থনে মাইকিংও করেছে দলটির বিভিন্ন ইউনিট। বিএনপি নেতারা জানান, গণসংযোগকে উপলক্ষে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর যে রাস্তা ব্যবহার করবে তার দু’পাশে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির প্রতি সমর্থন জানাবে।

জনতার চাপে সরকার বাধ্য হবে: তরিকুল
এদিকে আজকের গণসংযোগে জনগণের চাপেই সরকার নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়কের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম। গতকাল সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণসংযোগের প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি। তরিকুল বলেন, আমাদের কর্মসূচি হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার, মানুষের জানমাল ও ইজ্জত রক্ষা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সব রাজবন্দির মুক্তির দাবিতে এ কর্মসূচি। আর জনদাবির এ কর্মসূচিতে জনতার ঢল নামবে। গণসংযোগকালে খালেদা জিয়া রাজধানীতে ছয়টি স্পটে গেলেও বক্তব্য দেবেন পাঁচটি স্পটে। আগামীকাল সকাল ১১টায় গাবতলীর হানিফ কাউন্টার থেকে শুরু করবেন। সেখান থেকে কল্যাণপুর, পঙ্গু হাসপাতাল, কাওরান বাজার, এফডিসি, মগবাজার, কাকরাইল মসজিদ, কার্জন হল, গুলিস্তান হয়ে পুরান ঢাকার নর্থ সাউথ রোড যাবে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর। পুরান ঢাকার ধোলাইখালে পথসভা শেষে দয়াগঞ্জ হয়ে যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক রোড হয়ে সায়েদাবাদ, মানিকনগর, বৌদ্ধ মন্দির পেরিয়ে সবুজবাগের বালুর মাঠে পথসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি। সেখান থেকে বাসাবো, খিলগাঁও, মালিবাগ, রামপুরা হয়ে বাড্ডার ভাটারায় শেষ পথসভাটি করবেন তিনি। তরিকুল ইসলাম বলেন, গণসংযোগ কর্মসূচি সফল করতে প্রশাসন ও নগরবাসীর কাছে  সহযোগিতা চাই। পাশাপাশি সাময়িক অসুবিধার জন্য জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, এরশাদও বলেছিলেন ক্ষমতা ছাড়বে না, আবার পাকিস্তানের ইয়াহিয়াও বলেছিলেন- কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা থাকতে পারেননি, এ সরকারও পারবে না। বিরোধী দলের কর্মসূচিতে সরকারের সহযোগিতা সংলাপ বা সমঝোতার ক্ষেত্রে সহায়কে হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আশা করি সরকার তার বিরুদ্ধে গণঅনাস্থা দেখে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে দেশকে নৈরাজ্যের হাত থেকে রক্ষা করবে। আর সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে বলে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সিলেটে এমকে আনোয়ার, রাজশাহীতে নজরুল ইসলাম খান, রংপুরে লে.  জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, খুলনায় ড. আবদুল মঈন খান এবং বরিশালে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ১৮ দলের নেতাদের নিয়ে গণসংযোগ করবেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, রুহুল কবির রিজভী, মহানগর সদস্য সচিব আবদুস সালাম, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জামায়াতের ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, এলডিপির খালেদ সাইফুল্লাহ, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আবদুল কাদের, ন্যাপের শহিদুল ইসলাম ডাবলু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জনআকাঙক্ষা পূরণেই রাজপথে নামছেন খালেদা: নজরুল
এদিকে বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জনগণের আকাঙক্ষা পূরণেই আজ রাজপথে নামছেন বলে মন্তব্য করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। বলেছেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের ৭টি মহানগরীতে একই সময়ে ১৮ দলের গণসংযোগ কর্মসূচি চলবে। সরকার বাধা না দিলে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণই থাকবে। আর বাধা দিলে তখন জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে কি কর্মসূচি দেবে। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী  পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গ্রেপ্তার ও বিপন্ন গণতন্ত্র’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। নজরুল ইসলাম বলেন, স্বৈরাচারকে পাশে নিয়ে গণতন্ত্রের কথা বলা যায় না। কিন্তু আওয়ামী লীগ তা পারে। তারা একসময় জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল। তখন জামায়াতের বিরুদ্ধে  কোন অভিযোগ ছিল না। এখন এরশাদ যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোন আন্দোলনে নামেন, তা হলে তার বিরুদ্ধেও অনেক অভিযোগ চলে আসবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এমন এক যন্ত্র- যার একদিকে রাজাকার ঢোকালে অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে  বেরিয়ে আসে। সংগঠনের সভাপতি আবুল কাশেম হায়দারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর রাশেদুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল করিম খোকন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রফেসর আরিফ বিল্লাহ, আবদুল লতিফ খান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিএম আরিফ প্রমুখ বক্তব্য দেন।
নির্যাতণে গণআন্দোলন বন্ধ করা যাবে না: রফিকুল
এদিকে মহানগর নাট্যমঞ্চে একটি অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেছেন, অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে গণআন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। এর জ্বলন্ত প্রমাণ মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনা। তাই এই সময়ে ঘরে বসে থাকলে চলবে না। রাজপথে আসতে হবে। গতকাল খেলাফত মসজিসের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন তিনি। আজকের রাজনৈতিক সঙ্কটের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দায়ী করে রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি সবার মত উপেক্ষা করে একক সিদ্ধান্তে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বিলুপ্ত করেছেন। তার সিদ্ধান্তে প্রভাবিত হয়ে রায় ঘোষণার ১৬ মাস পর মূল রায় পরিবর্তন করে ‘নির্দলীয়’ শব্দ বাদ দিয়ে লিখিত রায় দেয়া হয়। তাই এই সঙ্কটের জন্য বিচার বিভাগকেও দায় গ্রহণ করতে হবে। খেলাফত মজলিসের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা ইসহাকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা আহমাদুল্লাহ আশরাফ, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুজাহিদুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট