Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

সাম্প্রদায়িক দল নিষিদ্ধের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

ঢাকা: সাম্প্রদায়িক দল নিষিদ্ধের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানের মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী জাতীয় সম্মেলন।

রোববার দিনব্যাপী এই সম্মেলনের ঘোষণপত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নবীন প্রজন্মের মধ্যে সঞ্চারণের ওপরও জোর দেয়া হয়।এর পাশাপাশি রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে বিযুক্ত করে সংবিধান থেকে ধর্মীয় উপাদানগুলো বাদ দেয়ার দাবিও উঠেছে সম্মেলনে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ, সরদার ফজলুল করিম, মুস্তাফা নূরউল ইসলাম, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সৈয়দ শামসুল হক, বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, কাইয়ুম চৌধুরী, হামিদা হোসেন, আনিসুজ্জামান, কামাল লোহানী, রামেন্দু মজুমদার, সেলিনা হোসেন, সুলতানা কামাল ও মুহম্মদ জাফর ইকবালের আহ্বানে মহানগর নাট্যমঞ্চে এই সম্মেলন হয়।

তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সম্মেলনে রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ছিলেন- রাশেদ খান মেনন, তোফায়েল আহমেদ, হাসানুল হক ইনু, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, আনিসুর রহমান মল্লিক প্রমুখ।

ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির মুনতাসির মামুন, বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতা জ্যোতির্ময় বড়ুয়াসহ বাসদ, গণঐক্য, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম, সাম্যবাদী দল, পার্বত্য চট্রগ্রাম শান্তি পরিষদ, ছাত্র ইউনিয়ন, সুশাসনের জন্য নাগরিক, আহমদিয়া মুসলিম জামায়াত, তরিকত ফেডারেশনও এই সম্মেলনে সংহতি জানায়।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, একটি সাম্প্রদায়িক শক্তি ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনাকে নষ্ট করার চেষ্টা করছে। এর আগেও দেশে কয়েকবার এ ধরনের ঘৃণিত কর্মকাণ্ড হয়েছে।

কক্সবাজারের রামু ও উখিয়ার সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই হামলাকে প্রথমে বিচ্ছিন্ন মনে হলেও পরে প্রমাণিত হয়েছে এটি ছিল পরিকল্পিত। অন্যদিকে এর পরিপ্রেক্ষিতে নাগরিক সমাজের যতটা কঠোর প্রতিবাদ করা উচিত ছিল, তারা তা করতে পারেননি।”

এই হামলার পেছনে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচাল উদ্দেশ্য হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করেন আনিসুজ্জামান, যিনি ট্রাইব্যুনালে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়ে এসেছেন।

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক তৎপরতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এ বিচার বানচালে একদল সহিংস মানুষ রাজপথে নেমেছে। এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর বড় আঘাত। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সারা দেশে যে মতৈক্য তৈরি হয়েছে এটি তার ওপর আঘাত।”

ঢাকার মতো বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতেও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী সম্মেলন করার আহবান জানান অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

সম্মেলনের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ।

এতে সব সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী, জঙ্গিবাদী শক্তিকে পরাস্ত করে ভেদাভেদহীন গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ার আহ্বান জানানো হয়।

পাশাপাশি রাষ্ট্রে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত এবং ধর্ম বিশ্বাস ও ধর্ম পালনের ব্যক্তিগত অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিতের আহ্বানো জানানো হয় সম্মেলনে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল সংবিধানকে ধর্ম নিরপেক্ষ করার আহ্বান জানান।

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “তারা (সরকার) ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বললেও তাদের আমলে সংবিধান থেকে ‘বিসমিল্লাহ’ ও ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ বাদ দেয়নি।”

মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা থেকে দূরে সরার কারণে স্বাধীনতাবিরোধীরা শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করেন সুলতানা কামাল।

“স্বাধীনতাবিরোধীরা এতটাই শক্তিশালী হয়েছে যে তারা শুধু রাজনৈতিকভাবেই নয় বরং আমাদের মেধা ও মননকেও কলুশিত করেছে, যা আমরা এখন টের পাচ্ছি।”

তাই নবীন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা তুলে ধরার আহ্বান জানান অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী।

“নতুন প্রজন্ম, যারা এখনো স্কুলে পড়ছেন, তাদের সামনে দেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বের ইতিহাস তুলে ধরতে হবে, যাতে তাদের মধ্যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা সৃষ্টি হয়।”

জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু জামায়াতে ইসলামীসহ সকল সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের দাবি তোলেন।

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করায় বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার সমালোচনাও করেন ইনু।

সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক নেতাদের মুক্ত করতে জামাত-শিবির হরতালের নামে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সরকারের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ করেছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট