Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

দেশ এখন মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত: বিএনপি

বাংলাদেশ মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম। বলেছেন, সরকার বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী, কমিশনার চৌধুরী আলমসহ ১৫৬ জন নেতাকর্মীকে গুম করেছে। বাংলাদেশে মানুষ গুমের সারি দীর্ঘ হচ্ছে। দেশ পরিণত হয়েছে মৃত্যু উপত্যকায়। তিনি বলেন, একটি প্রধান দলের মহাসচিবকে জেলে বন্দি করে রাখার সংস্কৃতি গত ৩০ বছর ছিল না। তাদের আমলে আমরা এমন গণতন্ত্র ভোগ করছি, যাকে ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না, অনুধাবন করা যায় না। দেখে মনে হচ্ছে- আমরা এখন হীরক রাজার দেশে বসবাস করছি। এখন সময় এসেছে- হীরক রাজার রশি ধরে টান মেরে গদি খান খান করার। গতকাল বিকালে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ১৮ দলের বিক্ষোভ সমাবেশে এ মন্তব্য করেন তিনি। তরিকুল বলেন, বড় বড় ব্যবসা-বাণিজ্য সরকার দলীয় লোকজন দখল করেছে। বেসরকারি ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, টেলিভিশন চ্যানেল থেকে শুরু করে জাহাজনির্মাণ শিল্প, টেলিকম খাত- সব একচেটিয়া অধিকারে রেখেছে তারা। তিনি বলেন, গত চার বছরে সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা দেশের সব বড় বড় প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েছেন। ২৩টি বেসরকারি ব্যাংকের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর বেশির ভাগের মালিক আওয়ামী লীগ নেতারা। একটি ব্যাংকের অনুমোদন পেতে হলে সরকারের কোষাগারে ৪০০ কোটি টাকা জমা দিতে হয়। এত টাকা তারা কোথায় পেলেন? টেলিকম খাতে সরকারের একচেটিয়া লুটপাটের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ৮৫টি ইন্টারনেট গেটওয়ে লাইসেন্স দিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে লুটপাট করে ২০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়স্বজনদের অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার সুযোগ করে দিয়েছে সরকার। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের জেলে ঢুকিয়ে সরকার গায়ের জোরে দেশ শাসন করতে চায়। এ সরকার ‘পাষণ্ড’ সরকার। দু’দিন ধরে চেষ্টা করলেও আমাদের দলের কর্মী রিপনকে প্যারোলে মুক্তি দেয়নি। ফলে তিনি খিলগাঁওয়ে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত তার স্ত্রীর জানাজায় শরিক হতে পারেননি। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের যৌথ আন্দোলনের সন্তান তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এখন সে সন্তানকে শেখ হাসিনা গলা টিপে হত্যা করেছে আর জামায়াত তাকে রক্ষা করতে মাঠে নেমেছে। আমরাও সঙ্গে আছি। তিনি বলেন, যতই মামলা হোক আর আদালতে হাজিরা দিতে যাবো না। ঘরে থাকতে না দিলেও সমস্যা নেই, জঙ্গলে চলে যাবো। ১৯৭১ সালে স্বৈরাচারী সরকার যেমন টিকতে পারেনি বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারও পারবে না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান, প্রচার সম্পাদক তাসনীম আলমসহ ১৮ দলীয় জোটের সকল নেতা-কর্মীর মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে এ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিরোধী দল। ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালামের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীরউত্তম, শামসুজ্জামান দুদু, বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, জামায়াতের নেতা মজিবুর রহমান, ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, হামিদুর রহমান আযাদ এমপি, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এমপি, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক জাফরুল হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সরফত আলী সপু, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, খেলাফত মজলিশের যুগ্ম মহাসচিব শেখ গোলাম আকবর, ছাত্রদল সভাপতি আবদুল কাদের ভূঁঁইয়া জুয়েল ও শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা আতিকুর রহমান আতিক বক্তব্য দেন। এর আগে দুপুর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে জড়ো হন ১৮ দলের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা সরকারের সমালোচনা করে ও বিরোধী নেতাদের মুক্তির দাবিতে নানা স্লোগান দেন।
সারা দেশে ১৮ দলের বিক্ষোভ: বিরোধী দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মুক্তি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে সারা দেশে বিক্ষোভ করেছে ১৮ দল। তবে পুলিশি বাধায় কোন কোন জেলায় বিক্ষোভ করতে পারেনি বিরোধী দল। মাগুরায় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে পুলিশ। এর আগে মিছিল বের করলেও তা ছত্রভঙ্গ করে দেয়। রাজশাহীতে শিবির ঝটিকা মিছিল বের করলে ২ জনকে আটক করে পুলিশ। এছাড়া ঝিনাইদহ ও শরীয়তপুরের পুলিশি বাধায় ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় ১৮ দলের মিছিল। রাজশাহী ও হবিগঞ্জে একই দাবিতে মানববন্ধন করেছে ১৮ দল। তবে চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, সিরাজগঞ্জ ও বরিশালসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ১৮ দল।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট