Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ওসি ও সেকেন্ড অফিসারসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা- এসআই শাহজাহানের মৃত্যু

 নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার কোয়ার্টারে রহস্যজনক বিস্ফোরণে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহজাহান পিপিএমের মৃত্যুর ঘটনার ৬ দিন পর আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেছে নিহতের পরিবার। গতকাল দুপুরে নিহত শাহজাহানের স্ত্রী লায়লা সাজু বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন। মামলায় বন্দর থানার ওসি নূর মোহাম্মদ, সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিনয় কৃষ্ণ কর ও অজ্ঞাত আরও দু’জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন দাহ্য বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে শাহজাহানকে হত্যা করা হয়েছে। তবে  জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক চাঁদনী রূপম মামলাটি আমলে নিলেও তাৎক্ষণিক কোন আদেশ দেননি। তিনি আদালতে জানান, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী আদেশ দেবেন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, শাহজাহানের মৃত্যুর পর পুলিশের গঠন করা প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ মনগড়া। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজশে পুরো বিষয়টি ভিন্ন দিকে ধাবিত ও ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়। বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট খালেদ হোসেন সরকার রুমী সাংবাদিকদের জানান, মামলায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলায় বাদী অভিযোগ করেন, শাহজাহান ১৯৮২ সালে পুলিশের কনস্টেবল পদে যোগ দেন। পরে তিনি পদোন্নতি পেয়ে এসআই হন। নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় এসআই’র দায়িত্ব পালনের সময়ে তাকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মালখানার দায়িত্ব দেন। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরেই থানার ওসি নূর মোহাম্মদ বেপারী ও সেকেন্ড অফিসার এসআই বিনয়কৃষ্ণ কর মালখানার মালামাল সরিয়ে নিতে শাহজাহানকে বলেন। কিন্তু এতে তিনি রাজি হননি। গত ১৩ই ডিসেম্বর রাত ১০টা ৪০ মিনিটে শাহজাহান থানার ভেতরে কোয়ার্টারের সামনের বারান্দায় দাঁড়িয়েছিলেন। তখন ওসি নূর মোহাম্মদ বেপারী ও সেকেন্ড অফিসার বিনয় কৃষ্ণ করসহ অজ্ঞাত আরও দু’জন একটি উচ্চ দাহ্য ক্ষমতাসম্পন্ন বোমা শাহজাহানের দিকে ছুড়ে মারে। বিকট শব্দে বিস্ফোরণে শাহজাহান মারাত্মক দগ্ধ হন। এতে তার শরীরের কমপক্ষে ৮০ শতাংশ অংশ পুড়ে যায়। তাকে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (তদন্ত) সাজ্জাদুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু পুলিশ মনগড়া প্রতিবেদন দাখিল করে। গত ১৮ই ডিসেম্বর পুলিশ তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, গাছের পাতা সংগ্রহ করে আগুনে তাপ পোহানো অবস্থায় মদপান করতে গিয়ে শাহাজাহান অগ্নিদগ্ধ হন। তার পকেটে থাকা ইনহেলার ও মদের বোতল থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। তদন্তকালে থানার ওসি ও সেকেন্ড অফিসারের সঙ্গে শাহজাহানের দ্বন্দ্বের বিষয়ে কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত ১৩ই ডিসেম্বর রাত ১০টা ৪০ মিনিটে বন্দর থানার কোয়ার্টারের সামনে বিস্ফোরণে এসআই শাহজাহান অগ্নিদগ্ধ হন। পরে তাকে গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে আইসিসিইউতে ভর্তি করা হলে ৪ দিন পর তার মৃত্যু হয়। শাহজাহান তার মৃত্যুর জন্য ওসি ও সেকেন্ড অফিসারকে দায়ী করেন এবং তাকে বোমা মারার সকল ঘটনার বিবরণ বলে যান। ওই ঘটনার বিবরণ শাহজাহানের ছেলে মোরশেদ জাহান শুভ্র তার মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে রাখেন।
বিস্ফোরণের পর দগ্ধ শাহজাহানকে থানায় এক ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়: বিস্ফোরণে দগ্ধ হওয়ার পরও এসআই শাহজাহানকে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে না নিয়ে এক ঘণ্টা থানার বারান্দায় বসিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে ভাড়া করা একটি ভাঙাচোরা মাইক্রোবাসে করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গতকাল এ ঘটনায় আদালতে হত্যা মামলা দায়েরের পর এসব অভিযোগ করেন নিহতের বড় ভাই ফরিদ আহাম্মেদ।
ফরিদ আহম্মেদ আরও জানান, আমার ভাই শাহজাহানকে পুলিশের পক্ষ থেকে চরমভাবে অবহেলা করা হয়েছে। শাহজাহানের মৃত্যুর পর তাকে মদ্যপায়ী হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে। এমনকি তার মৃত্যুতে পুলিশের পক্ষ থেকে কোন শোকবার্তাও দেয়া হয়নি। কিছুক্ষণের জন্য ধরে নেয়া গেল শাহজাহান মদ্যপায়ী ছিল। কিন্তু ঘটনার দিন সে তো থানাতেই ছিল। এমন না যে শাহজাহান কোথাও কোন অপকর্ম করে সেখানে ঘটনার শিকার হয়ে মারা গেছে। যদি তা-ই হতো তবে পুলিশের এমন আচরণকে সমর্থন করা যেতো। শাহজাহানের ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্ফোরণ মামলা হতে পারতো। তা না হয়ে শাহজাহান মৃত্যুর সঙ্গে ৩ দিন লড়ে মারা যাওয়ার পর একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শাহজাহানকে হাসপাতালে দেখতে জেলা পুলিশ সুপার শেখ নাজমুল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও বন্দর থানার ওসি গিয়েছিলেন। কিন্তু দূর থেকে দেখে তারা চলে যান। কারও সঙ্গে কোন কথা বলেননি। শাহজাহানকে হাসপাতালে দেখাশোনার জন্য শুধুমাত্র একজন পুলিশ কনস্টেবল দেয়া হয়েছিল। সে-ও ঠিকমতো তার দায়িত্ব পালন করেনি। একদিন পরেই সে হাসপাতাল থেকে চলে যায়। পুলিশের কোন সদস্য অসুস্থ হলেও যেখানে পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে তার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা হয়, সেখানে শাহজাহানের চিকিৎসার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে একটি টাকাও দেয়া হয়নি।
কর্তব্যরত একজন এসআই নিহত হওয়ার পর পুলিশের এমন আচরণে সুষ্ঠু বিচারের ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করে ফরিদ বলেন, নারায়ণগঞ্জ আদালত থেকে যদি আমরা সুষ্ঠু বিচার না পাই তবে আমরা হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্টে যাবো। প্রয়োজন হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কাছেও যাবো। যে কোন কিছুর বিনিমিয়ে হলেও এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের
শাস্তির ব্যাপারে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবো।
নিহত শাহজাহানের ছেলে মোরশেদ জাহান শুভ্র জানান, আমার বাবা অত্যন্ত সততার সঙ্গে চাকরি করে গেছেন। তিনি ডিউটিরত অবস্থায় বিস্ফোরণে ঝলসে গিয়ে মারা যান। তার মৃত্যুকে নিয়ে পুলিশের তদন্ত কমিটি থেকে একটি মনগড়া প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা কেউ এ প্রতিবেদনের পক্ষে কথা বলেননি। এতে স্পষ্ট হয় যে আমার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে আর তার হত্যার সঠিক বিচারের জন্য আমাদেরকে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে।
শুভ বলেন, আমরা আমাদের পিতার মৃত্যুর ঘটনার সঠিক তথ্য জানতে চাই। আর তিনি তো মৃত্যুর
আগে তাকে হত্যার করার কারণ বলে গেছেন যার ভিডিও রেকর্ড আছে আমাদের কাছে। আমরা সাংবাদিকদের সহযোগিতায় আমার বাবাকে হত্যার সঠিক বিচার দাবি করছি।
মামলা সিআইডি/ডিবিতে হস্তান্তরের দাবি: নিহত এসআই শাহজাহানের ছেলে শুভ্র বলেন, ঘটনার পর পুলিশ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও তাদের রিপোর্ট যুক্তিসঙ্গত নয়। বরং, পুলিশের কিছু ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছিল। তাছাড়া এ হত্যার সঙ্গে থানার ওসি ও সেকেন্ড অফিসার জড়িত এ কারণেই ভবিষ্যতে মামলাটি পুলিশ তদন্ত করলে কোন গতি পাবে না। সে জন্যই পুলিশকে বাদ দিয়ে ডিবি কিংবা সিআইডিকে দিয়ে তদন্ত করাতে হবে। এজন্য তারা প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট