Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

শিবির নেতাদের ধরতে ডিবি’র কৌশল

ছাত্রশিবির নেতাদের গ্রেপ্তার করতে নয়া কৌশল নিয়েছে ডিবি। নয়া কৌশলে সফলও হয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। একই দিনে তারা গ্রেপ্তার করতে পেরেছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ২৮ নেতাকে। এক নেতাকে গ্রেপ্তার করে তার মোবাইল থেকে ফোন করে ও মেসেজ পাঠিয়ে অন্য নেতাদের ডেকে এনে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে বার বার চেষ্টা করেও মহানগর শিবির নেতাদের গ্রেপ্তার করতে সফল হতে পারছিল না গোয়েন্দা পুলিশ। শিবির ধরার নয়া কৌশলে তারা সফল হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা।
গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রশিবিরের ২৮ নেতার মধ্যে ২৭ জনকে ৩ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। পুলিশের তেজগাঁও থানার একটি মামলায় গতকাল তাদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ২৭ জনের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। একজন অসুস্থ থাকায় তার রিমান্ড আবেদন নাকচ করে আদালত। অন্যদিকে আটক জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মুক্তির দাবিতে মিছিলের প্রস্তুতিকালে গতকাল সকাল ১১টায় রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকা থেকে শিবিরের ৯ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল পর্যন্ত তাদেরকে আদালতে নেয়া হয়নি বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তারকৃত জামায়াতের প্রচার সম্পাদক তাসনিম আলমকে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেপ্তারে নতুন কৌশলে গোয়েন্দা পুলিশ দুই দিনে শিবিরের কেন্দ্রীয় এক নেতা, মহানগরের বিভিন্ন থানার সভাপতিসহ গুরুত্বপূর্ণ ২৮ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। এই অভিযানে গোয়েন্দা পুলিশের একজন উপ-পুলিশ কমিশনার, দুই অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, একজন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারসহ একদল চৌকস সদস্য অংশ নেন। গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াত নেতাদের সাজা হলে সারাদেশে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাবে শিবির- এমন তথ্যের ভিত্তিতে শিবির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারে নতুন করে অভিযান শুরু হয়েছে।  ডিবি’র এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেপ্তার করতে নানা তৎপরতা চালালেও এতদিন বড় ধরনের সফলতা আসেনি। হার মানতে হয়েছে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের। এমন অবস্থায় নতুন করে কৌশল নিয়ে মাঠে নেমে কিছুটা সফলতা পাওয়া গেছে।
ওই কর্মকর্তা জানান, অভিযানে একজন উপ-পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে যোগ হয় ডিবি’র দু’জন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ও পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী সোয়াটের একজন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার। এরা হলেন- মশিউর রহমান, শহিদুল্লাহ ও আশিকুর রহমান। এই টিম কাজ শুরু করে ১৯শে ডিসেম্বর থেকে। ২০শে ডিসেম্বর রাজধানীসহ সারাদেশে ইসলামী ও সমমনা ১২ দলের হরতালের আগের দিন গেণ্ডারিয়া থেকে তিনজনকে আটক করার পর তাদের তথ্যের ভিত্তিতে শিবিরের কেন্দ্রীয় মাদরাসা বিষয়ক সম্পাদক শাহীনুর রহমান ও নারায়ণগঞ্জ জেলা শিবিরের সভাপতি ইলিয়াস মোল্লাকে আটক করা হয়। তাদের দিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নেতাদের ফোন করে আনার চেষ্টা করলেও শিবিরের বেশির ভাগ নেতা বিষয়টি বুঝে যান। তাই রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি করে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি ডিবি। তবে শাহীনুর রহমানের গ্রেপ্তারের খবর জানতেন না মহানগর পশ্চিমের সভাপতি সাজ্জাদ হোসাইন। এ অবস্থায় তার মোবাইল থেকে ফোন করে তার অবস্থান শনাক্ত করে ডিবি। পরে সন্ধ্যায় আটক করা হয় সাজ্জাদকে। এরপর ডিবি পুলিশ পুরো কৌশলের প্রয়োগ করতে থাকে। সাজ্জাদের মোবাইল থেকে ফোন করে আনা হয় সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়াকে। দু’জনকে একত্র করে এর পর একে একে ফোন করা হয় পশ্চিমের ১২ থানার সভাপতি ও সেক্রেটারিকে।
ডিবি’র ওই কর্মকর্তা জানান, সাজ্জাদ ও কিবরিয়া প্রথমে অন্য নেতাদের ফোন করতে চাননি। পরে নানা কৌশলে বাধ্য করা হয় তাদের। ‘মিরপুর ১০ নম্বরে আগামীকালের কর্মসূচি নিয়ে জরুরি একটি বৈঠক আছে তাড়াতাড়ি আসো’- এমন একটি বার্তা পাঠানো হয় নেতাদের কাছে। ওই কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি টনিকের মতো কাজ করে। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ১২ থানার সভাপতি ও সেক্রেটারিসহ ২৮ জনকে আটক করে পুলিশ। তাদের নিয়ে আবার গভীর রাতে রাজধানীর বিভিন্ন মেসে তল্লাশি চালানো হয়। ডিবি’র ওই কর্মকর্তা মনে করেন কৌশলী এই ভূমিকার কারণে এক সঙ্গে শিবিরের এত নেতাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। তিনি মনে করেন, এই আটকের মধ্য দিয়ে শিবিরের তৎপরতা কিছুটা হলেও কমবে। শিবিরের একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেছেন, ‘গোয়েন্দা পুলিশের কৌশলে কয়েকজন নেতা ধরা পড়েছেন এ কথা সত্য। কিন্তু তাই বলে শিবিরের তৎপরতা কমে যাবে এমনটা আমরা মনে করি না।’
তিনি জানান, রাতেই তাদের কাছে খবর আসে সাজ্জাদ গ্রেপ্তার হয়েছেন। আর বিষয়টি জানাজানি হওয়াতে কর্মীরা সতর্ক হয়ে গেছে। এখন আর ওই কৌশল কাজে লাগবে বলে তিনি মনে করেন না।
ছাত্রশিবিরের এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার এড়াতে নানারকম নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে শিবিরের একাধিক নেতাকে বাসা পাল্টানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কারও কারও মোবাইল ফোন পরিবর্তন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এমনকি পরিচিত কারও নম্বর থেকে ফোন কল এলে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের কথায় কোথাও বের না হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া, বের হওয়ার জন্য বিশেষ একটি সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহারের নির্দেশ রয়েছে। এবিষয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, আমাদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রশিবির নেতারাও গ্রেপ্তার এড়াতে কেন্দ্র সহ জেলা-উপজেলা নেতাদের জন্য বিশেষ সাংকেতিক চিহ্ন পাসওয়ার্ড পদ্ধতি চালু করেছে বলে ছাত্রশিবিরের এক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন।
ফকিরাপুলে শিবিরের ৯ কর্মী আটক
রাজধানীর ফকিরাপুল ও দৈনিক বাংলার মোড় এলাকায় ৯ শিবিরকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতাসহ মহানগরের গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীর মুক্তির দাবিতে গতকাল সকালে শিবির মিছিল বের করলে পুলিশ ওই মিছিল থেকে ওই ৯ জনকে আটক করে। আটককৃতদের থানা হাজতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সকাল ১১টার দিকে ফকিরাপুল থেকে শতাধিক শিবিরকর্মী একটি মিছিল বের করার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ তাদের ধাওয়া করে আটক করে। পল্টন থানার এসআই আলাউদ্দীন আলী জানান, মতিঝিল থানার ফকিরাপুল ও দৈনিক বাংলার মোড়ে গতকাল সকাল ১১টার দিকে শিবির কর্মীরা একত্রিত হয়। পুলিশ সেখানে গিয়ে জমায়েতের কারণ জানতে চাইলে শিবির কর্মীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ ধাওয়া করে ফকিরাপুল ও দৈনিক বাংলার মোড় থেকে ৯ জনকে আটক করে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট