Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

মোবাইল ফাঁদ : ঢাকা মহানগর শিবিরের সভাপতি-সেক্রেটারিসহ ৪১ নেতা গ্রেফতার, মুক্তি না দিলে রোববার হরতালের হুমকি

ঢাকা, ২২ ডিসেম্বর : গোয়েন্দাদের মোবাইল ফোনের ফাঁদে ধরা পড়লেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪১ নেতা। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিনব কৌশলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে শিবিরের ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখার সভাপতি সাজ্জাদ হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়াসহ ৪১ নেতাকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে ৭টি ল্যাপটপসহ বেশ কিছু সরকারবিরোধী নথিপত্র উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ডিএমপির পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে ৩৬ জনকে গ্রেফতারের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। এদিকে গ্রেফতার হওয়া শিবির নেতাদের মুক্তির দাবিতে হরতালের হুমকি দিয়েছে শিবির। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের মুক্তি দেওয়া না হলে রোববার হরতালের ডাক দিতে পারে তারা। অভিযানে নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস মোল্লাকেও গ্রেফতার করা হয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (উত্তর) মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, নানা কৌশল গ্রহণ করে শিবির নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
যারা গ্রেফতার হয়েছে তাদের মধ্যে ২৪ জনই শিবিরের বিভিন্ন থানার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মিরপুর থেকে মহানগর পশ্চিম সভাপতি সাজ্জাদ হোসাইন ও মো. ইসমাইল নামে শিবিরের এক কর্মীকে আটক করা হয়। সাজ্জাদের মোবাইল ফোন থেকে মহানগর সেক্রেটারিসহ বাকি ২৫ নেতার নম্বর সংগ্রহ করা হয়। শিবিরের সূত্র জানায়, ইসমাইল সার্বক্ষণিক মহানগর সভাপতির সঙ্গে থাকতেন। তাই তার মাধ্যমেই বাকি শিবির নেতাদের বৈঠকের কথা বলে ডেকে আনে গোয়েন্দা পুলিশ। বৈঠকের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে এলে বাকিদেরও গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে শিবিরের ৩৬ নেতাকে গ্রেফতারের তথ্য জানানো হয়। তবে শিবিরের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের ২৭ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, কারওয়ান বাজারে পুলিশের ওপর হামলাসহ সম্প্রতি রাজধানীতে বিভিন্ন নাশকতার সঙ্গে শিবিরের জড়িত থাকার অভিযোগ পান তারা। এরপরই তারা ওই ঘটনায় নেপথ্যের মদদদাতাদের খোঁজার চেষ্টা করেন। তাদের ধরতে গোয়েন্দা ফাঁদ পাতা হয়। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা।
আটক শিবির নেতাদের কয়েক দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে শিবিরের বেশ কিছু কাগজপত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। ওই কাগজপত্রে শিবিরের বিভিন্ন গোপন তথ্য রয়েছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা সূত্র। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ওপর হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় আরও কারা জড়িত এ ব্যাপারে গ্রেফতার হওয়া শিবির নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ডিবির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেফতার হওয়া শিবির নেতারা হলেন ৯১ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি শরিয়ত উল্লাহ (২০), কাফরুল থানার সাধারণ সম্পাদক মো. রাসেল মাহমুদ (২৫), ঢাকা মহানগরের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও রুকন আমিনুল ইসলাম শাহ, মহানগর পশ্চিমের সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়া (২৭), শাহআলী থানার সভাপতি আবদুল আলিম (২৩), মোহাম্মদপুর থানার সভাপতি মশিউর রহমান (২৫), দারুস সালাম থানার ৯নং ওয়ার্ডের সভাপতি আলী আকবর (২২), রূপনগর থানার সেক্রেটারি আতিক হাসান (২৪), দারুস সালাম থানার ওয়ার্ড সেক্রেটারি সাফায়েত হোসেন (২০), কাফরুল থানার সভাপতি আ. হান্নান সরকার (২৫), পল্লবী থানার কর্মী নাজমুল ফকির গাজী (১৮), মিরপুর থানার সভাপতি ওয়েজ খান্নু সোহেল (২৪), পল্লবী থানার ওয়ার্ড সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন (২১), মিরপুর থানার সেক্রেটারি, মো. রফিকুল ইসলাম, শেরেবাংলা নগর থানার সভাপতি মো. মোজাহিদুল ইসলাম (২৪), মোহাম্মদপুর থানার সেক্রেটারি এনামুল হক (২১), পল্লবী থানার ২নং ওয়ার্ড সভাপতি নিজাম উদ্দিন (২৫), পল্লবী থানার ছাত্রশিবির সেক্রেটারি মো. জোবাইর হোসাইন রাজন (২২), শাহআলী থানার সেক্রেটারি আশরাফুল ইসলাম ফেরদৌস (২০), আদাবর থানার সভাপতি ওমর ফারুক (২৫), রূপনগর থানার সভাপতি গোলাম মর্তুজা (২৫), মহানগর পশ্চিম অঞ্চলের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ইসরাইল হোসেন (২৫), আদাবর থানার সেক্রেটারি এনামুল হক (২৩), পল্লবী থানার ছাত্রশিবির সভাপতি আবির হোসেন (২৭), দারুস সালাম থানার সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম (২২), দারুস সালাম থানার সভাপতি জাকারিয়া হোসেন (২৬), ঢাকা মহানগর পশ্চিমাঞ্চলের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন (২৯), আদাবর থানার ওয়ার্ড সভাপতি আ. হাই (২২), সদস্য মো. হাবিবুর রহমান (২২), সাথী মো. হাবিবুল্লাহ (২১), মো. আমজাদ হোসেন, মো. ইব্রাহিম (২৯), মাহমুদুল হাসান (২২), মো. আক্তার হোসেন (১৮), এবিএম মাহমুদুল হাসান (১৮) ও আবুল হাসনাত।
ডিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিভিন্ন সময়ে গাড়ি ভাংচুর, পোড়ানো, পুলিশের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে। ডিবির কর্মকর্তারা জানান, গ্রেফতার হওয়া শিবির নেতাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
আরেক অভিযানে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিবির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা সূত্র। অবশ্য শিবির তার গ্রেফতারের সংবাদ অস্বীকার করেছে। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর দয়াগঞ্জ থেকে শিবিরের কেন্দ্রীয় মাদ্রাসাবিষয়ক সম্পাদক শাহীনুর রহমানসহ ১০ জনকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। তবে পুলিশের তরফ থেকে এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
এক শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে নিরপরাধ কেউ রয়েছে কি-না তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় ওই কর্মকর্তা জানান, রাজধানীতে নাশকতার সঙ্গে জড়িত হিসেবে যেসব শিবির কর্মীকে চিহ্নিত করা হয়েছে তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
মহানগর পশ্চিম শিবিরের ২৭ নেতাকে গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেন শিবিরের প্রচার সম্পাদক আ স ম ইয়াহিয়া। তিনি বলেন, পুলিশ সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে মোবাইল ফোনে ফাঁদ পেতে এক কর্মীর মাধ্যমে ২৭ নেতাকে গ্রেফতার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই বলে জানান এই শিবির নেতা। কারওয়ান বাজারে আইনমন্ত্রীর গাড়িবহরে হামলার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা গ্রেফতার হয়েছেন তারা সবাই মহানগর পশ্চিমের নেতা। কারওয়ান বাজার মহানগর দক্ষিণের আওতাভুক্ত। তাই পশ্চিমের নেতাদের কারওয়ান বাজারে মিছিল-সমাবেশ করার কোনো যুক্তি নেই।
শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. দেলাওয়ার হোসেন দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। শুক্রবার বিবৃতিতে শিবির সভাপতি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, শনিবারের মধ্যে তাদের মুক্তি না দেওয়া হলে হরতাল দেওয়া হবে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট