Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

এরশাদ মহা বিপদে!

 ক’মাস আগেও স্বপ্নে বিভোর ছিলেন তিনি। ক্ষমতা আর একক নির্বাচন ছাড়া আর কোন শব্দই উচ্চারিত হতো না তার মুখে। দিল্লি সফর তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিলো আরও। তবে পরে তিনি দেখেছেন রাজনীতির গতি আসলে বড়ই বিচিত্র। অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের জন্যও মাঝে মাঝে তা চমক নিয়ে হাজির হয়। পতিত স্বৈরশাসক এরশাদ দেখলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘ভারতবিরোধী’ হিসেবে পরিচিত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকেও উষ্ণ আতিথেয়তা দেখিয়েছে ভারত। রাজনীতির হিসাব উল্টে যেতে থাকে অতি দ্রুত। তবুও এরশাদ মাঝেমধ্যেই আওয়াজ তুলেছিলেন মহাজোট ত্যাগের। দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে আনপ্রেডিক্টেবল এই চরিত্র। তবে টাঙ্গাইল উপনির্বাচন সর্বপ্রথম বাস্তবতার জমিনে ফিরিয়ে আনে এরশাদকে। নভেম্বরের সে নির্বাচনে নিজেই প্রচারণায় গিয়েছিলেন জাতীয় পার্টি প্রধান। বড় আশা নিয়ে নির্বাচনের ফলের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন তিনি। তবে তার দলের প্রার্থী আবু ইউসুফ আবদুল্লাহ তুহিন শেষ পর্যন্ত ১১ হাজারের মতো ভোট পান। টাঙ্গাইলের ধাক্কায় এরশাদের একক নির্বাচন আর ক্ষমতায় যাওয়ার খোয়াবে বড় ধাক্কা লাগে। আলোচনা থেকে আস্তে আস্তে সরে যেতে শুরু করেন তিনি। যদিও এরপরও চ্যালেঞ্জ দেন, তাকে আর কেউ জেলে নিতে পারবে না। তবে রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের গতরাতের ফল এরশাদের রাজনীতির ভবিষ্যতের সামনে একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন বসিয়ে দিয়েছে। এটা সত্য, এ নির্বাচনে কাগজে কলমে জাতীয় পার্টি অথবা এরশাদসমর্থিত কোন প্রার্থী ছিলো না। এরশাদ নিজে শুরুতে মশিউর রহমান রাঙ্গাকে সমর্থন দিলেও তার সে সিদ্ধান্ত মেনে নেননি রংপুরের স্থানীয় নেতারা। তৃণমূল জাতীয় পার্টির ব্যানারে এরশাদকে চ্যালেঞ্জ করেন তারা। বিদ্রোহী দু’প্রার্থী মাঠে নামেন। চ্যালেঞ্জের মুখে পিছু হটেন এরশাদ। রাঙ্গার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা হয়। তবে মাঠে থেকে যান জাপা’র দুই বিদ্রোহী প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা এবং একেএম আবদুর রউফ। কিন্তু তারা কেউই জয়ের দেখা পাননি। শোচনীয় পরাজয় বরণ করতে হয়েছে জাপা’র দুই বিদ্রোহীকে। রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা শরফুদ্দিন ঝন্টু। রংপুরে বিদ্রোহী জাপা’র পরাজয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে তবে কি রংপুর থেকেই রাজনীতির ক্যারিয়ারের শেষের ইঙ্গিত পেলেন এইচ এম এরশাদ। অথচ ২২ বছর আগে তার জীবনের সবচেয়ে দুর্যোগের মুহূর্তে রংপুরের মানুষই ‘হামারা ছাওয়াল’ এরশাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কারাগারে থাকা অবস্থাতেও তাকে পাঁচটি আসনে জয়ী করেছিলেন তারা। বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে অনিশ্চিত চরিত্র এরশাদ। অনিশ্চয়তাই তার রাজনীতির একমাত্র নিশ্চয়তা। রাজনীতির মাঠে একের পর এক ধাক্কার পর এখন তিনি কি সিদ্ধান্ত নেন তাই দেখার বিষয়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট