Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

কাপুরুষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত : বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী


 ঢাকা, ২১ ডিসেম্বর : বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরকে আমি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করি। তিনি একজন কাপুরুষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী । সেদিন বিশ্বজিতকে নির্মমভাবে ছাত্রলীগের সোনার ছেলেরা কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করল আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চোখে দেখলেন না। এ অবস্থা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত । স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি। কিন্তু তিনি তাদের নির্দেশ না দিয়ে ছাত্রলীগ, যুবলীগের সোনার ছেলেদের জামায়াত শিবির প্রতিহত করার নির্দেশ দিলেন। আর সে কারনেই উতসাহিত হয়ে ছাত্রলীগের সোনার ছেলেরা বিশ্বজিতকে নির্মমভাবে প্রকাশ্য-দিবালোকে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করল। গোটা জাতি ও বিশ্ব যে দৃশ্য দেখল সেই দৃশ্য  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চোখে পড়ল না।
কয়েকজন সাধারণ নাগরিকের উদ্যোগে ডি.আর.ইউ কনফারেন্স লাউঞ্জে শুক্রবার সকালে ‘সম্প্রতি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসার সভাপতিত্বে ও আমিনুল ইসলাম মল্লিকের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট রাষ্ট্রচিন্তক ও সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. পিয়াস করিম। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দেশপ্রেমিক যুবশক্তির চেয়ারম্যান আহসানউল্লাহ শামিম, রুর‌্যাল জার্নালিষ্ট ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান এস.এম জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।
কাদের সিদ্দিকী বললেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  ও পুলিশের চোখে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পড়ল তাই তাকে গ্রেফতার করা হল। তিনি বলেন, তারা তো জনগণের কাছে যায়  না তাই জনগণের কথা শোনে না। আমি নিজে সাধারণ মানুষের কথা শুনেছি। তারা বলেছে, বিশ্বজিতের খুনীদের পুলিশ গ্রেফতার না করে বিএনপির মহাসচিবকে গ্রেফতার করে রাজনীতিতে সংঘাত আরও সৃষ্টি করল।
তিনি আরও বলেন, আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত  সম্পাদক  মাহমুদুর রহমানকে পুরুস্কৃত করা উচিত তার সাহসী ভূমিকার জন্য। তিনি গোটা জাতির সামনে স্কাইপির মাধ্যমে বর্তমান সরকারের যুদ্ধাপরাধী বিচারের ষড়যন্ত্র তার পত্রিকায় প্রকাশ করে যে সাহসী ভূমিকা পালন করলেন তাতে তিনি পুরস্কৃত হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে তিনি অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছেন।
তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, গতকাল রাতের  টকশোতে একজন সম্মানিত বক্তা প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেছিলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বক্তব্যে সামলিয়ে কথা বলুন। আমাদের সন্তানরা আপনার বক্তব্য শোনে। তখন আমি বুঝতে পারিনি তিনি কোন বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। সকালে পত্রিকা পড়ে আমিসহ গোটা জাতি বুঝতে পারল প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের ভাষা। এদেশে সকল রাজনৈতিক দলই পরচর্চা আর পরনিন্দায় ব্যস্ত। কেউ দেশ নিয়ে, দেশের সাধারণ মানুষ নিয়ে ভাবে না। তারা ভাবে কিভাবে নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করা যায়। তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন আগে আমি এখানে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্পর্কে বক্তব্যে বলেছিলাম স্বাধীনতার সময় তিনি পাকিস্তানী আমলা ছিলেন। এ বিষয়ে অনেক কথা উঠেছে। আমি যারা আমার বিরুদ্ধে কথা বলছেন তাদেরকে বলতে চাই সেটি আমার কথা নয়। সেই সময়কার পাকিস্তানী গেজেট দেখুন, সেখানে স্পষ্ট আছে সেই সময় তিনি পাকিস্তানী আমলা ছিলেন না স্বাধীনতাযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ছিলেন। তিনি আরও বলেন, পুলিশ যে হরতাল করে তা আমি এর আগে জীবনেও দেখিনি। এবার দেখলাম পুলিশ কিভাবে হরতাল পালন করে। যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, দেশের জনগন বর্তমান সরকারের প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচার চায় না। তারা চায় প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। আগে নিজের পরিবারের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করুন। তারপর অন্যদের বিষয়ে ভাবুন।
ড. পিয়াস করিম তার বক্তব্যে নামসর্বস্ব বাম দলের এক নেতার সমালোচনা করে বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে সকলেরই রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন জামাত-শিবিরকে ধরুন নিষিদ্ধ করে দিলেন, তারা যদি অন্যনামে আত্মপ্রকাশ করে এবং রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালায় তখন তাদের কিভাবে প্রতিহত করবেন। আর বর্তমানে যারা জামায়াত শিবির করছেন তাদের ৮০ ভাগ লোকই স্বাধীনতার পরে জন্মগ্রহণ করেছেন। তারা কেউ স্বাধীনতার শত্রু হতে পারে না। তিনি পদ্মাসেতু নিয়ে বলেন, এই আমলে আর পদ্মাসেতু হওয়া সম্ভব নয়। তবে এদেশের মানুষ পদ্মাসেতু দেখতে চায়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট