Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

রংপুর সিটি নির্বাচন: মেয়র ঝন্টু

 রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু নগরপিতা নির্বাচিত হয়েছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৯৪টি কেন্দ্রের ফলে ঝন্টু পেয়েছেন ৭০,২৭৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা পেয়েছেন ৩৭,৩১৮ ভোট। আর আবদুর রউফ মানিক পেয়েছেন ৮৩২৩ ভোট। এর আগে হাতাহাতি, সংঘর্ষ, আহত, গ্রেপ্তার সহ বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন চলাকালে ৩৩নং ওয়ার্ডের তামপাট ইউনিয়নের মাহিন্দ্রফাতা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রের সামনে নাগরিক কমিটির মেয়র প্রার্থী শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুর সমর্থকদের সঙ্গে গণমঞ্চের প্রার্থী কাওছার জামান বাবলার সমর্থকদের মধ্যে উস্কানিমূলক কথা বলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ঘটে।
দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত হয়েছে প্রায় ১০ জন। আহতদের মধ্যে দু’জনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ৩ যুবককে গ্রেপ্তার করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এছাড়াও ওই দু’প্রার্থীর সমর্থকের মধ্যে জুম্মাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও শালবন প্রাইমারি বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রের সামনে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে র‌্যাব-পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এসব ঘটনায় দু’পক্ষ একে অপরকে দায়ী করে। এছাড়া, ২০নং ওয়ার্ডের মুলাটোল-গুড়াতিপাড়া এলাকার দু’কাউন্সিলর প্রার্থী বহুলুল ইসলাম জেপলিন ও তৌহিদুল ইসলামের বিরোধের কারণে ওই ওয়ার্ডে অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়।
এদিকে প্রচণ্ড শীত ও কুয়াশাকে উপেক্ষা করে রংপুর সিটি করপোরেশনের ৩৩ টি ওয়ার্ডের ভোটাররা উৎসাহ আর উদ্দীপনা নিয়ে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোট কেন্দ্রে আসতে শুরু করেন। সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণের আগেই প্রতিটি ভোট  কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতিতে দীর্ঘ লাইনে পরিণত হয়। ভোট গ্রহণের শুরুর প্রথম দিকেই মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা তার ভোট আদর্শপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু গুপ্তপাড়া প্রাইমারি বিদ্যালয়ে ও একেএম আবদুর রউফ মানিক মুন্সিপাড়া মরিয়ম নেছা বালিকা  বিদ্যালয়ে ও কাওছার জামান বাবলা মাহিগঞ্জ দেওয়ানটুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে নির্বাচনী এলাকা পর্যবেক্ষণে বেরিয়ে পড়েন। ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনকালে প্রার্থীরা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হচ্ছে, এ নির্বাচনের ফল যা-ই হোক তা মেনে নেবেন। ওদিকে  অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করতে ৫৫০০ নিরাপত্তাকর্মী সহ পুলিশ, আর্মড পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও র‌্যাবের টহল সহ ৪৮ ম্যাজিস্ট্রেটের নজরদারি জোরদার ছিল।
প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো নবগঠিত রংপুর বিভাগের রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। ১৮২ ভোট কেন্দ্রের ১০৭০টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে শুধুমাত্র ১১ নং ওয়ার্ডের ৪ কেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হয়েছে। সরজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, কেরানীহাট উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে  ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোট দিচ্ছেন। রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (আরসিসিআই) স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. আনোয়ারুল হক জানান, তার কেন্দ্রে ২৪১৩ ভোটারের মধ্যে প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজের প্রিজাইডিং অফিসার আবু আহমেদ মো. জাকারিয়া শাহিদ বলেন, তার কেন্দ্রে ১৮৯৪ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৭৫ ভাগ ভোট কাস্ট করা হয়েছে। সরকারি কমার্শিয়াল কলেজের প্রিজাইডিং অফিসার মিজানুর রহমান জানান, এ ভোট কেন্দ্রের ১১৪৩ ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬২৭ ও মহিলা ভোটার রয়েছে ৫১৮। ভোট কেন্দ্রে মহিলা ভোটারদের উপস্থিতি ভাল থাকলেও পুরুষ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল কম। ভোট কেন্দ্রের পরিবেশ উৎসবমুখর ছিল বলে দাবি করেছেন এএসআই মাহবুব রহমান। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক ব্যানার থেকে কোন প্রার্থী দেয়া না হলেও আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির বহিষ্কৃত নেতা, ওয়ার্কার্স পার্টি, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন, বাসদ দলের সহ ১২ মেয়র প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নেন। ওইসব দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে  নেতাকর্মীরা ও সমর্থকরা কাজ করেছেন। ২০৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩ লাখ ১৯ হাজার ৭৯২ জন ভোটার। নির্বাচনে ৩৩ ওয়ার্ডের জন্য ৩৩৯ কাউন্সিলর ও ১১ সংরক্ষিত আসন মহিলা কাউন্সিলর পদের জন্য ৯১ মহিলা প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। রসিক নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীরা হলেন, শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু (মোটরসাইকেল), মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা (হাঁস), একেএম আব্দুর রউফ মানিক (চশমা), কাওছার জামান বাবলা (আনারস), কাজি মাজিরুল ইসলাম লিটন (টেলিভিশন), সাফিয়ার রহমান সফি (দোয়াত কলম), কমরেড আব্দুল কুদ্দুস (তালা), এড. ফিরোজ কবির চৌধুরী গুঞ্জন (কাপ পিরিচ), গোলাম মোস্তফা (জাহাজ), ইঞ্জিনিয়ার ফারুক আজিজ শাহীন (ঘোড়া), মেহেদি হাসান বনি (প্রজাপতি), আলী হায়দার সরকার দুলু (টেবিল)। সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রংপুরে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।
এরশাদের সমর্থন নিতে মেয়র প্রার্থীদের নাটকীয়তার অবসান
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সমর্থনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আর নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে গতকাল রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচন শেষ হয়েছে। নির্বাচন শুরুর পূর্বে জাতীয় পার্টির বহিষ্কৃত মেয়র প্রার্থী একেএম আবদুর রউফ মানিককে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সমর্থন দিয়েছেন এমন খবর বুলেটিন ছাপিয়ে বিভিন্ন এলাকা ও ভোটারদের মাঝে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থকরা। জাতীয় পার্টির আরেক বহিষ্কৃত প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার সমর্থকরা ভোটারদের মাঝে প্রচার করেছে দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ভাইপো রংপুর-১ গঙ্গাচড়া আসনে এমপি হুসেইন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ তাকে সমর্থন করেছেন। ওদিকে নাগরিক কমিটির প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুর সমর্থকদের দাবি ছিল জাতীয় পার্টি এরশাদের সমর্থন রয়েছে তার দিকে। এ গুজবের মধ্য দিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এব্যাপারে জাতীয় পার্টির প্রেস সচিব সুনীল শুভ রায়ের সঙ্গে কথা হলে তিনি কোন প্রার্থীকে সমর্থন দেয়া হয়নি বলে জানান। তিনি আরও বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টি অংশ না নেয়ায় দলের চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের সমর্থিত কোন প্রার্থী নেই। যারা এমন মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা তাদের নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার কৌশল অবলম্বন করছেন। উল্লেখ্য, শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু, মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও আবদুর রউফ মানিক এক সময় জাতীয় পার্টির নেতা ছিলেন। ২০০০ সালে ঝন্টু জাতীয় পার্টি ত্যাগ করে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। চলতি রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও একেএম আব্দুর রউফ মানিককে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়।
নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় ইসির সন্তোষ
স্টাফ রিপোর্টার জানান, রংপুর সিটি করপোরেশন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। তবে এই কমিশনের অধীনে ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকেই মডেল নির্বাচন হিসেবে উপহার দেয়া হবে বলে জানান তিনি। বৃহস্পতিবার বিকাল সোয়া পাঁচটায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের একথা বলেন সিইসি। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক ছাড়াও কমিশন সচিব মোহাম্মদ সাদিক, অতিরিক্ত সচিব সিরাজুল ইসলাম, যুগ্ম সচিব জেসমিন টুলী ও উপসচিব মিহির সারোয়ার মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।
সিইসি বলেন, সবার আন্তরিক সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে রংপুরের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। সীমিত আকারে ইভিএম-এর ভোট সাফল্যজনকভাবে হয়েছে। ইভিএমের চারটি কেন্দ্রে ভোট শেষের এক ঘণ্টার মধ্যে ফল ঘোষণা সম্ভব হয়েছে। এসব কেন্দ্রে গড়ে ৮৫ শতাংশ ভোট পড়ে বলেও জানান তিনি। তবে রংপুর সিটি করপোরেশনে শীত উপেক্ষা করেই প্রথম নির্বাচনে ভোট দিতে মানুষের আগ্রহ বেশি থাকায় নির্বাচনের ভোটের হার ৭০-৭৫ শতাংশ হতে পারে বলে মনে করেন নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক।
ইভিএমে এই প্রথমবার দেশীয় ব্যাটারি ব্যবহার করে ইসি। এরই ধারাবাহিকতা আগামীতেও অব্যাহত রাখবে বলে জানান সিইসি। এ বিষয়ে সিইসি বলেন, প্রথমবার দেশীয় ব্যাটারি ব্যবহার করে সুফল পেয়েছি। এ থেকে আমরা শিক্ষা নিয়ে পরে তা অব্যাহত রাখার চেষ্টার করা হবে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে নির্বাচন কমিশনার মোবারক সাংবাদিকদের জানান, বর্তমান ইসির অধীনে এটাই একক কোন বড় নির্বাচন। এর আগে দুটি উপনির্বাচন করেছেন তারা। রংপুরে এত উপস্থিতি ইসির প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুসংহত হবে। এভাবেই নিরপেক্ষতা অর্জন করেছি, তা আগামীতেও থাকবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব বলেন, রংপুরে মাত্র তিন লাখ ভোটার। জনগণের আস্থা রয়েছে আমাদের প্রতি। আমরা নিরপেক্ষভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন হলেই বলতে পারবো- মডেল নির্বাচন করেছি আমরা। বর্তমান কমিশন গত ফেব্রুয়ারিতে নিয়োগের পর এপ্রিলে ডিসিসির দুই ভাগে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। বর্তমানে এ দুই সিটি নির্বাচন আদালতের আদেশে স্থগিত রয়েছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট