Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

মুক্তিযুদ্ধের সামরিক ঘোষণা দিয়েছেন “জিয়া”: মতিয়া

ঢাকা : মুক্তিযুদ্ধের সময় ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র জিয়া মুক্তিযুদ্ধের সামরিক ঘোষণা দিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। তবে তিনি বলেছেন, সীমান্ত পার হলেই যে মুক্তিযোদ্ধা হওয়া যায় না, বরং পাকিস্তানের এজেন্ট হওয়া যায়, জিয়াই তার প্রমাণ।

সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।

বিএনপির দেয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনায় বুধবার বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ‘দেশের মানচিত্র পাল্টানোর ষড়যন্ত্র’ এবং ‘মুক্তিযোদ্ধাদের পদানত’ করার অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি সরকার ‘হটানোর’ আন্দোলনে মুক্তিযোদ্ধাদের শরিক হওয়ারও আহ্বান জানান।

খালেদা জিয়ার এ ধরণের বক্তব্যের জবাবে মতিয়া চৌধুরী বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় নয় মাস ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট-এ কর্নেল জানজুয়ার হেফাজতে ছিলেন তিনি। তার স্বামী তাকে নিতে লোক পাঠালেও তিনি তখন যাননি। সেই আতিথেয়তার কারণে প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় তিনি সব ধরণের রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ভেঙে জানজুয়ার মৃত্যুতে শোক বার্তা পাঠিয়েছিলেন। তারপক্ষে এ ধরণের কথা বলা সম্ভব।”

কৃষিমন্ত্রী বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেকে দেশ ছেড়ে সীমান্তের ওপারে চলে গিয়েছিলেন। জিয়াও তখন বার্মার দিকে গিয়েছিলেন। পরে তাকে ধরে এনে মুক্তিযোদ্ধারা কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে মুক্তিযুদ্ধের সামরিক ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরে তিনি একটি সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু ওই সেক্টরে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ হয়েছে, তার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।”

“এতে যে তিনি মুক্তিযোদ্ধা হয়ে যাননি, মুক্তিযুদ্ধের পর তার কর্মকাণ্ডে তা প্রমাণ হয়েছে। স্বাধীনতার পর তিনি মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছেন। তার দল বিএনপির প্রধান খালেদা জিয়াও স্বাধীনতা বিরোধীদের রক্ষা এবং তাদের গাড়িতে পতাকা উড়িয়েছেন,” বলেন তিনি।

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানচিত্র বদলানোর কথা খালেদা জিয়া আগেও বলেছেন, এখনও বলছেন। মানচিত্র বদলানো দূরের কথা আওয়ামী লীগ দেশের জনগণের ক্ষতিকর কিছু করবে না, এটা মানুষ জানে। তার এ ধরণের বক্তব্য পাগলের প্রলাপে পরিণত হয়েছে।”

বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ প্রসঙ্গে মতিয়া চৌধুরী বলেন, “গত বছর ১৮ ডিসেম্বর বিএনপি মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশের আয়োজন করে জামায়াতকে নিয়ে ‘লংকাকাণ্ড’ করেছে। বোমাবাজি আর ভাঙচুরসহ তাণ্ডবলীলা চালিয়েছে।”

মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলামের বক্তব্যের সমালোচনা করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনিও পালিয়ে ভারত গিয়েছিলেন। কিন্তু এতে তিনি মুক্তিযোদ্ধা হয়ে যাননি। বরং জেনারেল ইয়াহিয়ার সাধারণ ক্ষমার ঘোষণার পর তিনি সব ছেড়ে সপরিবারের দেশে ফিরে আসেন। এরপর থেকে তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সকলেই জানেন।”

তিনি বলেন,“তরিকুল ইসলাম ওই সময় যে রাজনৈতিক দলে ছিলেন, সেই দলের প্রধান তখন ‘মুক্তিযুদ্ধকে দুই কুকুড়ের লড়াই’ বলেছিলেন। তিনি কি ছিলেন, তা নিয়ে এরপর আর কারো কিছু জানার বাকি থাকে না। তাই তিনি আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে প্রশ্ন তুলতেই পারেন।”

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট