Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone
শেখ হাসিনা
আসুন আমরা এক হয়ে দেশের জন্য কাজ করি
খালেদা জিয়া
আমি বিশ্বাস করি ধর্য ছাড়া রাজনিতি সম্ভব নয়
নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার ভেতরে রহস্যজনক বিস্ফোরণে এস আই শাহজাহান পিপিএম নিহত হওয়ার ২ দিন পর বন্দর থানা পরিদর্শন করে পুলিশের ডিআইজি (অতিরিক্ত) মিজানুর রহমান বলেছেন, নিহতের পরিবার এখনও লিখিত না দিলেও মিডিয়াতে মৃত্যুর আগে দেয়া এসআই শাহজাহান ও তার পরিবারের বক্তব্য আমলে নেয়া হবে। গতকাল বিকালে মিজানুর রহমান প্রায় এক ঘণ্টা বন্দর থানায় অবস্থান করে বিস্ফোরণস্থলসহ বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার শেখ নাজমুল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশরাফুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) সাজ্জাদুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (ক অঞ্চল) গোলাম আজাদ খান, বন্দর থানার ওসি নূর মোহাম্মদ ব্যাপারী।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডিআইজি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আলামত হিসেবে পাওয়া উপকরণগুলোর কেমিক্যাল টেস্ট প্রক্রিয়াধীন আছে। পুলিশি তদন্ত রিপোর্টের বিষয়ে তিনি জানান, তদন্ত যথাযথ হয়েছে কিনা তা যাচাই বাছাই করতেই আমার এখানে আসা।
ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের গঠিত ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে নিহত এসআই শাহজাহানকে মদ্যপ হিসেবে উল্লেখ করে ঘটনার জন্য মদ পান ও পকেটে থাকা ইনহেলারকে (অ্যাজমা রোগীদের স্প্রে) দায়ী করেছেন। তবে নিহতের পরিবার এ রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, শাহজাহান মৃত্যুর আগে বলে গেছেন তার মৃত্যুর জন্য থানার ওসি নূর মোহাম্মদ ব্যাপারী ও সেকেন্ড অফিসার এস আই বিনয় কৃষ্ণ ধর দায়ী। মালখানার মালামাল বিক্রি করতে বাধা দেয়ায় তারা শাহজাহানকে হত্যা করেছে।
ডিআইজি পরিদর্শন শেষে আরও জানান, সিআইডি ঘটনার তদন্ত করছে। ডিআইজি সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় থানায় প্রবেশ করেন। তবে থানার ভিতরে ডিআইজি অবস্থানকালে সেখানে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। এসময় সিনিয়রদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলাপকালে বন্দর থানার পুলিশ সদস্যরাও দূরে অবস্থান করেছেন বলে থানা সূত্র জানিয়েছেন। পরে অবশ্য ডিআইজি মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।
বার্তা দেয়ায় গালাগাল
এদিকে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার ভেতর রহস্যজনক বিস্ফোরণের পরেই থানার ওয়্যারলেস (বেতার যন্ত্র) দিয়ে বার্তা দেয়ার কারণে অপারেটরের ওপর তেড়ে যান থানার ওসি নূর মোহাম্মদ ব্যাপারী। এসময় তিনি ওয়্যারলেস অপারেটরকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। তাকে (ওসি) জিজ্ঞেস না করে কেন বার্তা দেয়া হলো তা নিয়ে নানা প্রশ্ন করা হয় ওয়্যারলেস অপারেটরকে। এছাড়াও বিস্ফোরণের পর মুহূর্তে ওসি একাধিক পুলিশ সদস্যের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেন। ঘটনার রাতে ওসি’র এ আচরণের বক্তব্যের ভয়েস টেপ শুনে এসব তথ্য জানা গেছে।
ভয়েস টেপের সূত্রমতে, গত ১৩ই ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১০টায় থানা অভ্যন্তরে ভয়াবহ বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন এসআই শাহজাহান পিপিএম। ঘটনার পর পরই থানার ওয়্যারলেস অপারেটর ওয়্যারলেসের মাধ্যমে পুলিশের সর্বত্র ঘটনার বার্তা দিতে থাকেন। বলতে থাকেন, ‘থানার অভ্যন্তরে বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ এসআই শাহজাহানের শরীরে মুখ থেকে পা পর্যন্ত ও মাথার সাদা চামড়া উঠে গেছে, শরীরে হাত দিলে ব্যথা পাচ্ছে। শরীরে ছোঁয়া যাচ্ছে না।’ ঠিক ওই মুহূর্তে ওয়্যারলেস অপারেটর রুমে প্রবেশ করেন ওসি নূর মোহাম্মদ ব্যাপারী।
তিনি গিয়েই ওয়্যারলেস অপারেটরের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বলেন, ‘এই তুমি আমারে না জিজ্ঞেস করে একথা বললা কেন, বাইন… চো… বা… শালার পো শালা আমি তো সব শুনতাছি বাইন… চো… আগে ওসি বলবো তারপর তুই বলবি।’ এভাবে প্রায় কয়েক মিনিট ধরে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয় অপারেটরকে। ওসি আরও বলেন, ‘আমি তো স্যারকে বললাম স্যার এমন একটা ঘটনা ঘটেছে আমি কাগজপত্র রেডি করছি।’
এদিকে বিস্ফোরণের পর ওসি নূর মোহাম্মদ ব্যাপারী বলেছিলেন ঘটনার পরে তিনি বারুদের গন্ধ পেয়েছিলেন। তবে মঙ্গলবার পুলিশ তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে নিহত এসআই শাহজাহানকে মদ্যপ অফিসার হিসেবে উল্লেখ করেন এবং মদ পানের সময়ে আগুনে পুড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। ফলে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস আই) শাহজাহান মৃত্যুর আগে যে বক্তব্য দিয়ে গেছেন তার সঙ্গে পুলিশের তদন্ত রিপোর্টের কোন মিল নেই।
উল্লেখ্য, ১৩ই ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় থানা অভ্যন্তরে ভয়াবহ বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয় এস আই শাহজাহান পিপিএম। আশংকাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হলে ১৭ই ডিসেম্বর সোমবার ভোররাত ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।