Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি খালেদা জিয়া : দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষায় আরেকটি যুদ্ধে নামতে হবে

ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর : বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। চোর, লুটেরা ও দুর্নীতিবাজ আওয়ামী লীগ দেশ ধ্বংসে নেমেছে। এবার দেশ, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষায় আরেকটি যুদ্ধে নামতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে বিএনপি আয়োজিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ আহ্বান জানান।
নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষনা দিয়ে বেগম জিয়া বলেন, আন্দোলন দমাতে সরকার আমাদের বহু নেতাকে গ্রেফতার করেছে। আরো অনেককে গ্রেফতার করবে। কিন্তু এ লড়াইয়ে বিজয় নিয়েই আমরা ঘরে ফিরবো।
সারা দেশ থেকে আগত কয়েক হাজার মুক্তিযোদ্ধার উদ্দেশ্যে বেগম খালেদা জিয়া আরো বলেন, সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা আপনারা। আপনারা রণাঙ্গনে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। শুধু সীমান্ত পাড়ি দিলেই মুক্তিযোদ্ধা হওয়া যায় না। একাত্তর থেকে পঁচাত্তরে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা লুটপাট করেছে। মানুষের বাড়ি থেকে ব্যাংকও লুট করেছে তারা। আপনারা যুদ্ধ করেছেন, আপনাদের কোনো মূল্যায়ণ তারা করেনি। জিয়াউর রহমান আপনাদের দিকনির্দেশনা দিয়ে রনাঙ্গণে লড়াইয়ের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছে। আর তারা ক্ষমতা নিয়ে দেশের সম্পদ বাইরে পাঁচার করেছে। তারা ৪০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছে। এজন্য তাদের বিচার হওয়া উচিত। তারা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। এজন্য তারা লুটপাট করে দেশকে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করেছে। আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাদের নেতাদের কথা শুনেনা। এজন্য শেখ মুজিব বলেছিলেন, সবাই পেয়েছে সোনার খনি, আমি পেয়েছি চোরের খনি। এই চোরেরা কিভাবে মুক্তিযোদ্ধা হয় প্রশ্ন তুলে বেগম জিয়া বলেন, এই চোরদের থেকে নতুন চোরের জন্ম হয়েছে। তাদের লুটপাট ও ডাকাতির কারনে যেমন ৭৪ সালে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল, তাদের দুর্নীতির কারনে আজকের বাংলাদেশেও বহু সংকটে পতিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্ম আওয়ামী লীগের অতীত ইতিহাস সম্পর্কে অবহিত নয়। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের দায়িত্ব হলো নতুন প্রজন্মের কাছে আওয়ামী লীগের অতীত কুকর্ম তুলে ধরা।
খালেদা জিয়া বলেন, দ্রব্যমূল্য কমাতে সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই। তারা কেবল লুটপাটে ব্যস্ত। যেখানেই লুটপাট সেখানেই আওয়ামী লীগ। এ আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় বাকশাল করেছিল। আজীবন ক্ষমতায় থাকতে তারা এসব করেছিল। এখনও রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ ও নেতাদের নিপিড়ন করে আজীবন ক্ষমতায় থাকতে চায়।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, সরকার বিরোধী দলগুলোকে কোনো মিছিল-মিটিং করতে দেয় না। দেশটাকে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি মনে করে। এটা হতে পারে না, হতে দেয়া হবে না। মুক্তিযোদ্ধারা আবার জেগে উঠুন, নতুন প্রজন্ম আপনাদের সাথে আছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেন, আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। বিদেশে আমাদের বন্ধু আছে, কোনো প্রভু নেই। আওয়ামী লীগ মনে করে, তাদের বিদেশী প্রভুরা আজীবন ক্ষমতায় রাখবে। যতই ষড়যন্ত্র করা হোক, জনগণের শত্রু আওয়ামী লীগ ক্ষমতা আকড়ে থাকতে পারবে না।
দেশের কৃষি, ব্যবসা ও শিল্প খাতের করুন পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্যাস-বিদ্যুত-পানির অভাবে কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিদেশী বিনিয়োগ আসছে না। গার্মেন্টে আগুন দিয়ে শ’শ মানুষ হত্যা করা হচ্ছে।
সরকারি মদদে সন্ত্রাস চলছে অভিযোগ এনে বেগম জিয়া বলেন, এখন রাজপথে পুলিশের সামনে কুপিয়ে মানুষ হত্যা করছে। আর প্রধানমন্ত্রী বলছেন, এরা অন্য দলের। কারন তারা গ্রেফতার হলে তারা -তো বলবে, আমরা হুকুম পেয়েছি। হত্যা করেছি। এজন্য প্রধানমন্ত্রী অন্যের দোষ চাপাতে চাচ্ছেন।
বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বলেন, সরকারের মন্ত্রী-এমপি সবাই চোর। তাদের কারনেই হলমার্ক, শেয়ারবাজার এবং ডেসটিনি কোটি কোটি টাকা লুট করেছে। পদ্মা সেতু ঋণচুক্তি বাতিল হয়ে গেছে। ভিওআইপি থেকে প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়রা কোটি কোটি টাকা লুট করেছে। এর জবাব একদিন জনগণকে দিতে হবে।
তিনি বলেন, যমুনা সেতু আপনারা করতে পারেননি। আমরা করেছি। পদ্মা সেতু শুরুই করতে পারলেন না, তার আগেই ঘুষ নিয়ে প্রকল্প থমকে দিলেন। বিশ্বব্যাংক বলেছে, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে। আপনারা দুই আবুলকে বাদ দিয়ে মামলা দিয়েছেন। কারন আবুলদের ধরলে কান টানলে মাথা আসবে। সরকারের শীর্ষ স্থানীয়রা ধরা পড়ে যাবে।
সাংবাদিকদের ওপর সরকারি নিপিড়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, সাগর-রুনি হত্যার আজ পর্যন্ত কোনো কিনারা হয়নি। দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সত্য প্রকাশ করে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন।
বিএনপি আমলে মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার বিবরণ তুলে ধরে খালেদা জিয়া বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় আমি প্রতিষ্ঠা করেছি। এ সরকার ক্ষমতায় এসে ৭০ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে তালিকাভুক্ত করেছে। আমরা ক্ষমতায় এলে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দেব। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি করবো। ঢাকায় আপনাদের জন্য একটি হাসপাতাল করবো। যাতে আপনারা এবং পরিবারের সদস্যরা চিকিতসা সুবিধা পান।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শাহজাহান ওমর বীরউত্তমের সভাপতিত্বে আরো বক্তৃতা করেন এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, আব্দুল্লাহ আল নোমান, সাদেক হোসেন খোকা, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, শমসের মবিন চৌধুরী বীরবিক্রম, মেজর জেনারেল অব. মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, মেজর জেনারেল অব. আইনুদ্দিন বীরপ্রতিক, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান পটল, যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, কর্নেল অব. জয়নুল আবদিন, মেজর অব. ড. রেজা, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক শফিউজ্জামান খোকন, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল জব্বার, ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, সৈয়দ জয়নাল আবেদিন, ইসতিয়াক আজিজ, গিয়াস উদ্দিন আহমদ, সালেহ আহমদ, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মের সভাপতি শ্যামা ওবায়েদ।
মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ৩৬ জন জেলা কমান্ডার।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট