Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

পৃথিবীর আয়ু কি র মাত্র ৪ দিন ?

চলতি বছর অর্থাত্ ২০১২ সালের ২১ ডিসেম্বর মায়া বর্ষপঞ্জির সমাপ্তি! এরপর এই পঞ্জিকায় আর কোন দিনের অস্তিত্ব নেই।

মায়ান পঞ্জিকা বিশেষজ্ঞদের মতে এর অর্থ হলো ধ্বংসলীলা! অর্থাত্ তাদের মত বিশ্বাস করলে আর মাত্র চার দিন পর আমাদের এই প্রিয় পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে! তবে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (নাসা) বিজ্ঞানীরা এই আশঙ্কা নাকচ করে দিয়েছেন।

নাসার জ্যেষ্ঠ গবেষক বিজ্ঞানী ডন ইয়োমান্স বলেছেন, ২১ ডিসেম্বর পৃথিবী ধ্বংস বা নাটকীয় কোন পরিবর্তনের আশঙ্কা পুরোপুরি ভুল। গত কয়েক দশক ধরে এ ধরনের অনেক আশঙ্কা করা হয়েছে যা শেষ পর্যন্ত ভুল বলেই প্রমাণিত হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেছেন, বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী কার্ল সাগানের সেই উক্তি পাঠকের মনে রাখা উচিত। এটি হলো, \’অসাধারণ কোন ঘটনার ভবিষ্যদ্বাণী করা হলে এর পক্ষে অসাধারণ কিছু তথ্য-প্রমাণ থাকতে হবে।\’

ইন্টারনেটের বিভিন্ন উত্স থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, নাসার এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই বিতর্কের অবসান হয়নি। বরং সেটি আরো জোরদার হয়েছে। মায়া সভ্যতা সম্পর্কে যাদের পড়াশোনা আছে তাদের মতে মায়ান পঞ্জিকাতে আজ পর্যন্ত যত ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে তার প্রতিটিই কালে সত্যে পরিণত হয়েছে। আর এ কারণেই পৃথিবী ধ্বংসের আশঙ্কা নিয়ে এত বেশি আলোচনা।

মায়া বিশ্বাস অনুযায়ী অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন কেউ একজন দূর থেকে আমাদের নিয়ন্ত্রণ করছেন। জীবনের প্রতিটি খুঁটিনাটি ঘটনা সেই অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন অস্তিত্বের নিখুঁত পরিকল্পনার অংশবিশেষ। পৃথিবীতে এই পরিকল্পনা বুঝতে একমাত্র উপায় হলো মায়ান পঞ্জিকা। সে কারণে মায়ান ক্যালেন্ডার বা মায়া পঞ্জিকা নিয়ে কিছু মানুষের আগ্রহের কখনো কমতি ছিল না।

মায়ান পঞ্জিকা সম্পর্কে ইন্টারনেটের বিভিন্ন সাইটে যেসব তথ্য রয়েছে সেগুলো এরকমঃ মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চল থেকে বেলিজ পর্যন্ত এবং গুয়াতেমালা, এল সালভাদর, হন্ডুরাস, নিকারাগুয়া ও কোস্টারিকার উত্তরাঞ্চলে পঞ্চদশ শতাব্দীর আগে কিছু সমাজে মায়া বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করা হতো। সময় এবং সৃষ্টির কুশলী বিন্যাস সম্পর্কে মায়ানরা অনেক আগেই অবগত ছিলেন।

তাদের ছিল ভবিষ্যত্ জানার ক্ষমতা। মায়ানরা জানতো যে চাঁদ, শুক্র এবং অন্য গ্রহ-তারা চক্রাকারে ঘুরছে। সেই সময়েই তারা নিখুঁতভাবে সময় গণনা করতে পারতো। তাদের একটি পঞ্জিকা ছিল যাতে সৌর বছরের প্রতিটি মিনিটের বর্ণনা ছিল। মায়ানরা মনে করতো প্রতিটি জিনিসের ওপর সময়ের প্রভাব রয়েছে এবং প্রতিটি জিনিস একেক সময় একেকটি অবস্থানে বিরাজ করছে। মায়ানদের কাছে মহাকাশের উপর ২২টি ভিন্ন ভিন্ন পঞ্জিকা ছিল।

অধিকাংশ আর্কেওলজিস্ট মনে করেন মায়ানরা খ্রিস্ট জন্মের প্রায় ৩ হাজার ১১৪ বছর আগে থেকে সময় গণনা করা শুরু করেছে। আমাদের বর্তমান পঞ্জিকা মতে খ্রিস্টের জন্মের বছরের জানুয়ারি মাস থেকে প্রথম বছর গণনা করা হয়। আর মায়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এই বছরটাকে হিসাব করা হয় শূন্য বছর। এই সময়টাকে লেখা হয় এভাবে : ০-০-০-০-০ একটা নতুন চক্র শুরু হওয়ার আগে ১৩ চক্রের ৩৯৪ বছর শেষ হয়ে যাবে। আর নতুন চক্রটি শুরু হবে ২০১২ সালে।

সবচেয়ে আশঙ্কার ব্যাপার হলো ২০১২ সালের ২১ ডিসেম্বরের পর থেকে মায়ান পঞ্জিকাতে আর কোনো দিনের উল্লেখ নেই। তাই এই দিনটিকে মনে করা হচ্ছে পৃথিবীর সর্বশেষ দিন। বিবিসির ওয়েবসাইটে পাওয়া একটি প্রতিবেদন থেকে দেখা গেছে, ডিক বিলি নামে একজন আমেরিকান ব্যাংকার মধ্য আমেরিকার মায়া সভ্যতার উপর ব্যাপক গবেষণার পর এই সিদ্ধান্তে আসেন যে, মায়ানরা আকস্মিকভাবে মারা গেছেন। তাদের এই মৃত্যুর পেছনে দায়ী তীব্র খরা। ১৯ শতকে এসে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন বিগত ৭০০০ বছরের মধ্যে মায়ানরা যে সময় মারা যায় সে সময় মধ্য আমেরিকা তীব্র খরায় আক্রান্ত হয়।

এই বিষয়ে যাদের আগ্রহ বেশি তারা ওয়েবসাইটে খোঁজ করতে পারেন। সেখানে বাংলা ও ইংরেজিতে অসংখ্য প্রতিবেদন ও তথ্য রয়েছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট