Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিস্ফোরণে দগ্ধ এসআই শাহজাহানের মৃত্যু: ‘ওসি ও সেকেন্ড অফিসারই বাবাকে হত্যা করেছে’

 নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা কার্যালয়ের ভেতরে রহস্যজনক বিস্ফোরণে গুরুতর আহত পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহজাহান পিপিএম মারা গেছেন। দুর্ঘটনার চারদিনের মাথায় মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতরিয়ে গতকাল ভোর ৪টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। তাদের অভিযোগ, থানার মালখানার বিরোধের জের ধরে এ হত্যা ঘটানো হয়েছে। মৃত্যুর আগে শাহজাহান পরিবারের কাছে তার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের নাম বলে গেছেন। এমনকি তার কথোপকথনের ভিডিও ফুটেজ রয়েছে বলে দাবি করেছেন নিহতের স্ত্রীর বড় ভাই আবুল হোসেন। গতকাল একাধিক বেসরকারি টিভি চ্যানেলে ওই ভিডিও ফুটেজ প্রচার হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ পুলিশ প্রশাসনে তোলপাড় চলছে। অন্যদিকে থানার ভেতর ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় থানা অভ্যন্তরে ওই বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনার পর পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। নিহত শাহজাহান টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার পাঁচকামরী কুরালিয়া গ্রামের মরহুম মোহাম্মদ আলীর ছেলে। এদিকে থানার ভেতরে এ ধরনের বিস্ফোরণের ব্যাপারে প্রায় সঙ্গে সঙ্গে সিআইডি’র বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দলকে ঘটনা তদন্তের আহ্বান জানালে সিআইডি ঢাকা অফিস থেকে ওই রাতেই ৭ সদস্যের বিশেষজ্ঞ টিম ঘটনা তদন্তে নারায়ণগঞ্জে আসে। সারারাত ঘটনাস্থল তদন্ত করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন তারা। তবে সিআইডি’র তদন্তের পাশাপাশি জেলা পুলিশ সুপার শেখ নাজমুল আলম অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্যের আরও একটি তদন্ত টিম গঠন করেন। তবে কোন তদন্ত টিমই তাদের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারেনি।
নিহতের পরিবার জানায়, বন্দর থানার মালখানায় রাখা ৫০ বছরের পুরনো মূল্যবান জিনিসপত্র বিক্রি করতে বাধা দেয়ার কারণে ওসি নুর মোহাম্মদ ও সেকেন্ড অফিসার বিনয় কৃষ্ণ করের ক্রোধের বলি হয়েছেন এসআই শাহজাহান। নিহতের বড় ছেলে মোরশেদ জাহান শুভ জানান, তার পিতা মৃত্যুর আগে তাদের বলে গেছেন ঘটনার সঙ্গে ওসি নূর মোহাম্মদ ও সেকেন্ড অফিসার এসআই বিনয় কৃষ্ণ কর জড়িত। তারাই পরিকল্পিত ভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। শুভ জানান, ওসির একটি অনৈতিক কাজ সমর্থন না করায় ওসি ও সেকেন্ড অফিসারের সঙ্গে তার পিতার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। আড়াই মাস আগে বন্দর থানার ওসি হিসেবে নূর মোহাম্মদ যোগ দেন। এর পর থানার মালখানা থেকে তিনি ও সেকেন্ড অফিসার কিছু মালামাল সরাতে চেষ্টা করেন। কিন্তু মালখানার দায়িত্বে থাকা এসআই শাহজাহান তাতে রাজি না হওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হন। এর জের ধরেই পরিকল্পিত ভাবে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত করা হয়েছে। ঘটনার আগে কি ঘটেছিল এমন প্রশ্নের জবাবে শুভ জানান, তার পিতা ঘটনার রাতে বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। ঘটনার সময় থানায় বিদ্যুৎ ছিল না। ওই সময় ওসি ও সেকেন্ড অফিসার বাবার ওপর কিছু একটি ছুড়ে মারে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিস্ফোরণ ও আগুনের সৃষ্টি হলে বাবা অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারাত্মক ভাবে আহত হন। শুভ বলেন, ওসি ও সেকেন্ড অফিসারই বাবাকে হত্যা করেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় বাবা থানার ২-১ জনকে এ কথাটি জানালেও সবাই বিষয়টি চেপে যায়। নিহত এসআই শাহজাহানের স্ত্রীর বড় ভাই আবুল হোসেন জানান, তার ভগ্নিপতির দেয়া বক্তব্য ভিডিও রেকর্ড করা রয়েছে। এদিকে গতকাল সকালে এসআই শাহজাহানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বন্দর থানায় কর্তব্যরত অফিসার ও পুলিশ কনস্টেবলদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। একটি সূত্র জানায়, ঘটনার রাতে ওসি মাতাল ছিলেন। অভিযোগের ব্যাপারে ওসি নূর মোহাম্মদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি এ থানায় আড়াই মাস আগে যোগ দিয়েছেন। আর শাহজাহান এক বছর আগে। এত অল্প সময়ের মধ্যে কারও সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হওয়া সম্ভব নয়। শাহজাহানের পরিবারের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেও তিনি দাবি করেন। ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার শেখ নাজমুল আলম বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এসআই শাহজাহানকে  দেখতে গেলে তার পরিবার বা এসআই শাহজাহান এ ব্যাপারে তাকে কিছু বলেননি। তবে এখন যদি তার পরিবারের সদস্যদের কোন অভিযোগ থাকে তাহলে তিনি ব্যবস্থা নেবেন। নিহত এসআই শাহজাহান ঢাকার মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের একটি ভাড়া বাড়িতে স্ত্রী লায়লা, ছেলে মোরশেদ জাহান শুভ, মেয়ে ফাতেমা-তুজ জোহরা ও জয়াকে সঙ্গে নিয়ে বসবাস করতেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট