Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশের মুক্তিতে কারা অধিদপ্তরের ভুমিকা রহস্যজনক

শীর্ষ সন্ত্রাসী ও বিপদজনক আসামীদের মুক্তি দেয়ার আগে বিষয়টি সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকে অবহিত করার নিয়ম থাকলেও বিকাশ কুমার বিশ্বাসের ক্ষেত্রে তা ঘটেনি। অভিযোগ রয়েছে, সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী, এমপি ও সাবেক প্রভাবশালী সাংসদের সহযোগিতায় বিকাশ মুক্তি লাভ করেছে।

 

অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রভাবশালীরা বিকাশ ও তার বাহিনীকে দিয়ে রাজনৈতিক কিলিং বা বড় ধরনের কোন নাশকতার ঘটনা ঘটাতে পারে। তবে পুলিশের উর্ধ্বতন কোন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে মমত্মব্য করতে নারাজ।

 

অভিযোগ উঠেছে, বিকাশের জামিনে মুক্তির ঘটনায় কারা অধিদপ্তরের রহস্যজনক ভুমিকা রয়েছে। তাকে মুক্তি দেয়ার আগে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার চোখ ফাঁকি দেয়ার জন্য ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কাশিমপুর কারাগারে আনা হয়েছে। যাতে এখান থেকে সে জামিন নিয়ে পালিয়ে যেতে পারেন।

এছাড়া গত এক বছরে কাশিমপুর কারাগার থেকে কমপক্ষে ৫০ জন সন্ত্রাসী জামিন নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠেছে। পাশাপশি এই কারাগারকে সন্ত্রাসী ও হিযবুত তাহরীরের জঙ্গিরা নিরাপদ মুক্তির স্থান বলে মনে করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন আদালত থেকে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও গুরুত্বপূর্ণ মামলার আসামিদেরকে আইনী প্রক্রিয়ায় জামিন দেয়া হয়। শীর্ষ সন্ত্রাসী ও  একাধিক চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি জামিন পেলে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়ার ২ ঘন্টা আগে কারা কর্তৃপক্ষ জামিনের বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রলায় , কারাগার থেকে সংশ্লিষ্ট থানা, এসবি, ডিবি, এনএসআইসহ বিভন্ন সংস্থার দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রতিনিধিদেরকে জানানোর নিয়ম রয়েছে। স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রামত্ম একটি বিজ্ঞপ্তি কারা অধিদপ্তরে রয়েছে।

 

তাছাড়া সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কারা অধিদপ্তর ও কেন্দ্রীয় কারাগারে পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করে। তারা সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের জামিনের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ওয়াকিটকির (ওয়ারলেস সেটে) মাধ্যমে জানিয়ে দেন। এরপর অপরাধের গুরুত্ব বুঝে জামিনপ্রাপ্ত আসামী মুক্তি পাওয়ার পরপর জেল গেট থেকে তাকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে অন্য কোন মামলায় বা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করে তার বিরুদ্ধে আইনী প্রক্রিয়ায় বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়।

 

কিন্তু বিকাশের জামিনের ক্ষেত্রে জেল গেটে দায়িত্বরত গোয়েন্দা সংস্থাকে এ বিষয়টি জানানো হয়নি। এই ক্ষেত্রে কারা কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করছে। এছাড়া এ বিষয়টি নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরকে সমেত্মাষজনক কোন জবাব দিতে পারেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাশিমপুর কারাগারের এক কর্মকর্তা বিষয়টি ওপরের মহল জানে বলে জানান।

 

সূত্র আরো জানায়, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আসামি মুক্তি পেলে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা বিষয়টি জেনে যান। এ জন্য দাগি ও গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের মুক্তি দেয়ার আগে প্রভাবশালীদের ইন্ধনে তাদেরকে কাশিমপুর কারাগারে নেয়া হয়। কারণ জামিন পাওয়ার পর কাশিমপুর কারাগার থেকে গোয়েন্দা সংস্থা ও সাংবাদিকদের চোখ ফাঁকি দেয়া সহজ । এছাড়া কাশিমপুর কারাগারের মুক্তি দেয়া ২/১টি ঘটনা জানাজানি হলেও অনেক  ঘটনা গোপন থেকে যায়। পাশাপাশি অনেক অপরাধী জেল গেট থেকে গ্রেফতার এড়াতে আগে কারাগার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাশিমপুর কারাগারে চলে যায়।

 

গোয়েন্দাদের মতে, গত এক বছরে কমপক্ষে দ্বিতীয় সারির  ৫০/৬০ জন অপরাধী ও হিযুবত তাহরীরের জঙ্গি সদস্য কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে পালিয়ে গেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। এ ব্যাপারে কারা অধিদপ্তরের আইজি প্রিজনের সঙ্গে মুঠো ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

 

জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে বিকাশ মিরপুর পাইকপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার হয়। পাইকপাড়া, কল্যাণপুর, নতুনবাজার, আনসার ক্যাম্প, পীরেরবাগ, আগারগাঁও, শেওড়াপাড়া, বাংলামোটর, মগবাজার, পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়া, লালবাগ, যাত্রাবাড়ী, মহাখালীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ত্রাসের বাজত্ব কায়েম করত। তার বিরম্নদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, মাসত্মানীসহ একাধিক মামলা রয়েছে। বিকাশ ১৪ বছরের বেশি জেল খেটেছেন।

 

সূত্রে ইনিউজ/আরকে/এসবি/১৯.০০ঘ

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট