Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশের মুক্তি : এ কিসের আলামত!

পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ ২৩ সন্ত্রাসীর অন্যতম বিকাশ কুমার বিশ্বাসকে নাটকীয়ভাবে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। পত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, শুক্রবার সকালে কালো কাচ লাগানো দুটি গাড়ি বিকাশকে কাশিমপুর জেলগেট থেকে তুলে নিয়ে গেছে। পুলিশ বা গোয়েন্দারা তার অবস্থান কিংবা তার মুক্তি পাওয়া সম্পর্কে কিছুই জানে না। অথচ রেওয়াজ রয়েছে, তালিকাভুক্ত কোনো দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী জামিন পেলেও মুক্তি দেওয়ার আগে কারা কর্তৃপক্ষ পুলিশ ও গোয়েন্দাদের তা জানাবে। প্রয়োজনে মুক্তি পাওয়ার পর পরই জেলগেটে পুনরায় তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। বিকাশকেও ২০০৯ সালে জেলগেটে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কিন্তু এবার বিকাশের বেলায় তা করা হলো না কেন- তা আমাদের বোধগম্য নয়। জামিন হাতে পাওয়ার মাত্র ৪৫ মিনিটের মধ্যে কারা কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি তাকে ছেড়ে দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তার মুক্তির ব্যাপারে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তা যদি সত্যি হয়, তাহলে এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা আর কিছু হতে পারে না।
আমাদের চারপাশে কেবলই নানা রকম রহস্যজনক ঘটনা ঘটে চলেছে। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনো উন্মোচিত হয়নি। বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি এখনো এক রহস্য। সাবেক রেলমন্ত্রীর এপিএসের গাড়িচালক আজমের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি এখনো। সন্ত্রাস, গুম-খুন মানুষের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। জঙ্গিরাও নাকি আবার আত্মপ্রকাশ করছে। তার মধ্যে যদি দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের জেলখানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে পরিস্থিতি কোন জায়গায় গিয়ে দাঁড়াবে- তা ভাবতেও ভয় করে। এ ছাড়া আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারগুলো তো অনেক আজব রেওয়াজ সৃষ্টি করে রেখেছে। সেই রেওয়াজের সূত্র ধরে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা উল্লেখ করে কয়েক হাজার মামলা তুলে নিয়েছে। ফলে জেলখানা থেকে অর্ধ লাখের বেশি অপরাধী মুক্তি পেয়েছে। প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, তাদের মধ্যে হত্যা মামলারও অনেক আসামি ছিল। এখন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীরাও যদি রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য পেতে শুরু করে, তাহলে এই সমাজে আইনশৃঙ্খলা বলে কোনো কিছু অবশিষ্ট থাকবে কি?
বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর ক্ষমতাপ্রাপ্তির অল্প দিনের মধ্যেই জনমনে অনেক প্রশ্নের সৃষ্টি করেছেন। তিনি ছাত্রলীগকে বলেছিলেন, হরতাল-অবরোধকারীদের প্রতিহত করতে এবং তাদের ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিতে। প্রতিহত করার নমুনা তো আমরা দেখলাম নিরীহ পথচারী বিশ্বজিৎ দাসকে হত্যার মধ্য দিয়ে। প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, প্রতিপক্ষকে ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার কাজটিও ছাত্রলীগকর্মীরা বেশ ভালোভাবে সম্পন্ন করছে। এসব কিসের আলামত? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না? দেশে কি কোনো প্রাইভেট বাহিনী সৃষ্টির অপতৎপরতা চলছে? কিন্তু এ ধরনের অপতৎপরতার ফল কখনো ভালো হয়নি, হবেও না।
বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা একটি মহৎ কাজ। যেমন দেশে, তেমনি বিদেশেও এটি প্রশংসিত হচ্ছে। সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। আমরা আশা করি, বর্তমান সরকার অন্যান্য কাজেও স্বচ্ছতা বজায় রেখে তাদের জনসমর্থন ধরে রাখবে। তা না হলে শুধু সরকার অজনপ্রিয়ই হবে না, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজকেও ক্ষতিগ্রস্ত করা হবে।

দৈনিক কালেরকণ্ঠ

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট