Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

স্কুলে অস্ত্রধারীর তাণ্ডব শোকে ভাসছে যুক্তরাষ্ট্র

শোকসাগরে ভাসছে যুক্তরাষ্ট্র। অস্ত্রধারী এডাম লানজা এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে একটি স্কুলের ২০ শিশুসহ কমপক্ষে ২৭ জনকে হত্যা করেছে। ওই শিশুদের বয়স ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে। এমন বেদনাবিধুর ঘটনায় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পর্যন্ত কেঁদেছেন। তিনি শোক প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন, আমাদের হৃদয় আজ ভেঙে গেছে। ঘাতক যে বা যারাই হোক রাজনৈতিক বিবেচনা দূরে রেখে উচিত পদক্ষেপ নেয়া হবে। এ সময় তার চোখে  অশ্রু ছল ছল করে ওঠে। ওবামা হাত দিয়ে সেই অশ্রু মোছেন। তিনি এ ঘটনায় আগামী ১৮ই ডিসেম্বর সূর্যাস্ত না হওয়া পর্যন্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এক সঙ্গে এতগুলো শিশুর প্রাণহানিতে শুধু যুক্তরাষ্ট্রই শোকে আচ্ছন্ন নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নিন্দা জানানো হয়েছে। শোক প্রকাশ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশী একমাত্র ছাত্র মামনুন আহমেদ। যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে ২০ বছর বয়সী এডাম লানজা আক্রমণ চালিয়ে রক্তের হোলি ছুটিয়ে দেয়। এর আগে বাড়িতে সে নিজের মাকেও হত্যা করে। তার মা ছিলেন ওই স্কুলের শিক্ষিকা। পরে স্কুলে হামলা চালানোর পরে সে আত্মহত্যা করে। খবরে বলা হয়, এডাম লানজা স্বয়ংক্রিয় পিস্তল ও রাইফেল নিয়ে ঢুকে পড়ে ওই স্কুলে। তখন সবেমাত্র ক্লাস শুরু হয়েছে। এমন সময় সে এক একটি ক্লাসে গিয়ে পাগলের মতো গুলি ছোড়ে। শিশুরা তখন যে যেভাবে পারে পালিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে। তাদের আর্তনাদে কেঁপে ওঠে ওই স্কুলের বাতাস। কিন্তু খুনির মন গলেনি। সে এই অভিযানে ওই স্কুলের কমপক্ষে ৬ জন স্টাফকেও হত্যা করে। কিন্তু কি কারণে সে এমন হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তা জানা যায়নি। তবে তদন্ত চলছে, হামলার সময় সে তার অন্য ভাই রায়ানকে সঙ্গে নিয়েছিল কিনা। ওদিকে হোয়াইট হাউজে সংক্ষিপ্ত এক সংবাদ সম্মেলন করেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন। বলেন, যেসব শিশুকে হত্যা করা হয়েছে তাদের বেশির ভাগই ছোট্ট ছোট্ট শিশু। তাদের বয়স ৫ থেকে ১০ বছর। তাদের সামনে পুরোটা জীবন পড়েছিল। তাদের জন্মদিন, গ্র্যাজুয়েশন, বিয়ে, নিজের মতো করে একটি সংসার। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষকও। তারা এসব শিশুর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে সাহায্য করছিলেন। তিনি বলেন, এসব শিশু আমাদের সন্তান। তাই আমরা সম্মিলিতভাবে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।
বাংলাদেশী ছাত্র মামনুন নিরাপদ
কানেকটিকাটে বন্দুকধারীর গুলি থেকে রক্ষা পেয়েছে ওই স্কুলে পড়া একমাত্র বাংলাদেশী ছাত্র মামনুন আহমেদ (৬)। তাকে জীবিত কাছে পেয়ে পিতামাতা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছেন। নিউ ইয়র্ক সিটি থেকে ৬০ মাইল উত্তর-পূর্বের শহর নিউ টাউনে স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে শুক্রবার সকালে যখন বন্দুকধারীর তাণ্ডব চলে, তখন বিদ্যালয়েই ছিল মামনুন। সে প্রথম গ্রেডের ছাত্র। সে বলেছে, স্কুলে একটি অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিল। এরই মধ্যে সবকিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। ক্লাস টিচার আমাদের ক্লোজেটে ঢুকিয়ে চুপ হয়ে থাকতে বলেন। কিছুক্ষণ পর অন্য শিক্ষিকা ও পুলিশের সাহায্যে আমরা স্কুল থেকে বেরিয়ে আসি। এরপর আর কিছু জানি না। আমার খুব ভয় লেগেছিল। এখনও ভয় পাচ্ছি। তার মা সুরাইয়া আহমেদ বলেন, স্কুলে ৯টা ৪০ মিনিটে একটি অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। সেজন্য প্রস্তুত হচ্ছিলাম। এমন সময় টেলিফোন বেজে ওঠে। বলা হলো স্কুলে না যেতে। এরপর টেলিভিশনে গুলির খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন সুরাইয়া। বলেন, ছুটে যাই স্কুলের কাছে। বেলা ১২টায় দেখতে পেলাম আরও কিছু ছেলের সঙ্গে লাইন ধরে মামনুন বের হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের বড় ছেলে পড়ে কাছেরই মিডল স্কুলে। তাদের স্কুলও নিরাপত্তার কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ে হামলাকারী বন্দুকধারীর নাম এডাম লানজা। তার এলোপাতাড়ি গুলিতে ২০ স্কুলশিশুসহ ২৭ জন নিহত হন। তার মা ওই স্কুলের শিক্ষিকা। তাকে হত্যার পর এডাম আত্মহত্যা করে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট