Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

প্রধানমন্ত্রী আগমনে একগুচ্ছ স্বপ্ন পূরণের আশায় বুক বেধেছে যশোরবাসী

  বেনাপোল প্রতিনিধ, ১৫ ডিসেম্বর : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে একগুচ্ছ স্বপ্ন পূরণের আশায় বুক বেঁধেছে যশোরবাসী। ইতিমধ্যে যশোরের উন্নয়নে বেশ কিছু প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। যা জেলা প্রশাসক ও দলীয় ফোরামের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর হাতে পৌছানো হয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক নেতাদের ৯টি দাবি পূরণ হলে যশোর পরিচিত হবে একটি আধুনিক নগর হিসেবে। একইসাথে বাড়বে কর্মসংস্থান ও পরিবর্তিত হবে লাইফ স্টাইল।
ব্রিটিশ-ভারতের প্রথম জেলা শহর যশোর। মহান মুক্তিযুদ্ধেও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শত্রুমুক্ত জেলা এই যশোর। প্রবাসী সরকারের প্রথম জনসভাটিও হয় এই যশোর শহরের ঐতিহাসিক টাউন হল মাঠে ১১ ডিসেম্বর ১৯৭১। দেশের পৌরসভা গুলোর তালিকার মধ্যেও যশোর পৌরসভা দ্বিতীয় প্রাচীনতম। কিন্তু এ প্রাচীন জেলাটির যতোটা উন্নয়ন এখানকার মানুষ আশা করেছিলো, তা আজো পূরণ হয়নি। অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভাকে ‘রাজনৈতিক বিবেচনায়’ সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা করা হলেও যশোরবাসী হয়েছে বঞ্চিত। এই অবহেলিত যশোরের মানুষ বর্তমান সরকারের প্রায় শেষ মুহূর্তে হলেও অনেক আশায় বুক বেধেছে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে।
প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২০ ডিসেম্বর যশোর আসবেন। এদিন তিনি যশোর শহরের বকুলতলা মোড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ও ই-তথ্য সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এছাড়া তিনি বক্তৃতা করবেন ঈদগাহ ময়দানের বিশাল জনসভায়। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ও সমাবেশ সফল করতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা এখন চরম ব্যস্ত। তাদের প্রাণপন চেষ্টায় যশোর সাজছে নতুন আঙ্গিকে। ইতিমধ্যে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো সংস্কার ও দখলমুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন দফায় দফায় সভা করছে। সমাবেশ সফল করতে চলছে জোর প্রচারণা।
বর্তমান সরকারের চারবছরের শাসনামলে এই প্রথম যশোর আসছেন প্রধানমন্ত্রী। তাই যশোরের উন্নয়নে নানাবিধ ঘোষণা নিয়ে আশাবাদী এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। যতদূর জানা গেছে, আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে বেশকিছু দাবি দাওয়া তোলা হবে। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় বেশকিছু দাবি তুলে ধরাও হয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৯টি দাবি হচ্ছে যশোরকে সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিমান ঘাটিকে আন্তর্জাতিক কার্গো বিমানবন্দরে রূপান্তর, বেনাপোলে ইপিজেড নির্মাণ, একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, যশোর এমএম কলেজে আরো ১৯টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু ও হোস্টেল বৃদ্ধি, যশোর স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে প্রতিষ্ঠা, ভৈরব নদ সংস্কার ও দু’পারে বিনোদন পার্ক তৈরি, কপোতাক্ষ সংস্কার এবং বিদ্যুতহীন ৩শ’ কিলোমিটার লাইনে বিদ্যুত সরবরাহ।
এসব দাবি কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুবুল আলম হানিফের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসকের মাধ্যমেও পাঠানোর হয়েছে। এসব দাবি পূরণ হলে যশোর পরিচিত হবে একটি আধুনিক নগর হিসেবে। একইসাথে বাড়বে কর্মসংস্থান ও পরিবর্তিত হবে জীবনধারা।
এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি আলী রেজা রাজু দাবি সম্বলিত প্রস্তাবনা পাঠানোর কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, যশোরের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সর্বদাই সচেষ্ট। প্রধানমন্ত্রী হয়তো সব দাবি পূরণে আশ্বাস নাও দিতে পারেন। যে কারণে এই মুহূর্তে এসব দাবি মিডিয়ায় প্রকাশ করতে ইচ্ছুক নই। কারণ দাবির কথা জানলে জনমনে আকাঙ্খা বাড়বে। আর সেটা পূরণে ব্যর্থ হলে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে আমাদের।
তবে উপরোক্ত দাবির সাথে একমত যশোরের বিশিষ্ট রাজনীতিবীদ ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ। যশোরের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কি চান এমন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তারা।
এর মধ্যে জাসদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি রবিউল আলম বলেন, ভৈরব ও কপোতাক্ষ নদ সংস্কার আমাদের প্রাণের দাবি। তার মতে মাথাভাংগা নদীকে পদ্মার সাথে সংযোগ দিয়ে উজান থেকে পানি ভৈরব ও কপোতাক্ষে আনতে পারলে এ অঞ্চলে কৃষি বিপ্লব আরো তরান্বিত হবে। জলাবদ্ধতা নিরসন হবে। একইসাথে এ অঞ্চলের মানুষ নদী পথের যোগাযোগ ব্যবস্থা পাবে। একইসাথে তিনি যশোরকে সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা, বেনাপোল বন্দরের উন্নয়ন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের উপর জোর দেন।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য ও জেলা সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ বলেন, সরকারি এমএম কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় করা, সবজি ও ফুল সংরক্ষণে কোল্ডস্টোরেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং তা সরাসরি বিদেশে পাঠানোর জন্য যশোর বিমান বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের কার্গো বন্দরে পরিণত করার দাবি জানান। এছাড়া যশোর অঞ্চলের রাস্তাঘাট সংস্কারে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি ও বিসিককে ইপিজেড-এ রূপান্তরিত করার দাবি জানান তিনি।
যশোর ইনস্টিটিউট এর সম্পাদক শেখ রবিউল আলমও যশোরকে সিটি কর্পোরেশন ঘোষণার উপর জোর দেন। একইসাথে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, যশোরকে শিল্পজোন হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
টিআইবি’র সচেতন নাগরিক কমিটি যশোরের সভাপতি ও সাংস্কৃতিক সংগঠক আবু সালেহ তোতা কেশবপুরে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মভিটায় একটি সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। একইসাথে তিনি যশোরকে সিটি কর্পোরেশন ঘোষণারও দাবি জানান।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন থেকে যশোর উন্নয়নের লক্ষ্যে অনেক দাবি পাওয়া গেছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করা হয়েছে। এসব দাবি গুলো এক জায়গায় করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই তা পাঠানো হবে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট