Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

জামিনে মুক্তি পেয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশ আত্মগোপনে

 তিন ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশের জেলগেট এলাকা ত্যাগ করা নিয়ে। আগেই দু’টি গাড়ি নিয়ে কাশিমপুর কারাগারের ফটকে অবস্থান করছিল চারজন। তাদের গাড়িতে চড়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে বিকাশ। কাশিমপুর কারাগারের জেলার সুভাষ চন্দ্র ঘোষ জানিয়েছেন, জেলমুক্তির পর আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে চলে যায় বিকাশ। অন্য একটি সূত্র বলছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে সাদা পোশাকের চারজন লোক নিয়ে যায় বিকাশকে। তবে র‌্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে বিকাশের জামিনের বিষয়টি তাদের আগে জানানো হয়নি।
চৌদ্দ বছর পর জামিনে বেরিয়ে আত্মগোপন করেছে শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশ কুমার বিশ্বাস। গতকাল সকাল সোয়া আটটায় কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে বেরিয়ে যায় সে। দু’টি হত্যাসহ মোট চারটি মামলার আসামি সন্ত্রাসী বিকাশকে ১৯৯৭ সালে তার মিরপুরের শাহ আলী বাগের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০০১ সালে ঘোষিত দেশের ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকার ৮ নম্বরে  ছিল বিকাশের ছোট ভাই প্রকাশের নাম। সে সময়ে প্রকাশ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারলেও তার আগেই গ্রেপ্তার হয় বিকাশ। দীর্ঘদিন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকার পর ২০০৫ কারাগারে বসে মিরপুরে একটি চাঁদাবাজির ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়লে বিকাশকে নারায়ণগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়। এক বছর পর আবার তাকে ফেরত আনা হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। ২০০৯ সালের ১লা নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে নেয়া হয় কাশিমপুর কারাগারে। এক সময়ে মিরপুরে যুবলীগ  কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিল প্রকাশ ও বিকাশ দু’ভাই। প্রকাশের বিরুদ্ধে হত্যাসহ মোট ১৭টি মামলা আর বিকাশের বিরুদ্ধে আগারগাঁও তালতলা এলাকার জোড়া খুনসহ মোট ১৬টি  মামলা। হত্যা মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে ছাত্রলীগ নেতা জরিপ খনি, আগারগাঁও তালতলার জোড়া খুন ও  ব্যবসায়ী তাজু হত্যা মামলা। গত বৃহস্পতিবার আদালত থেকে তাজু হত্যা মামলায় জামিনের পর গতকাল সকালে সে কাশিমপুর কারাগার থেকে বেরিয়ে যায়। শীর্ষ সন্ত্রাসীরা জামিন পেলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর একটি অলিখিত নির্দেশ থাকলেও কাশিমপুর কারাগার কর্তৃপক্ষ তা জানায়নি। গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, সন্ত্রাসী বিকাশের মুক্তি পাওয়ার কথা বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছি। কিন্তু কারাগার কর্তৃপক্ষ আমাদের কিছু জানায়নি। জেলার সুভাষ চন্দ্র ঘোষ জানান, বিকাশের সর্বশেষ মামলার জামিননামা পাওয়ার পর গতকাল সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। তিনি আরও জানান, জামিননামা প্রাপ্তির পর কারাবিধি অনুসারে তাকে ছাড়া হয়েছে, মুক্তি পাওয়ার পর আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সে চলে গেছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, এক মন্ত্রীর ভাগনে পরিচয়ে দু’টি গাড়িতে চারজন লোক তাকে তুলে নেয়। অন্যসূত্র জানিয়েছে, মুক্তির পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকের পরিচয়ে সাদা পোশাকে দু’টি প্রাইভেট কারে আসা চারজন লোক গাড়িতে করে বিকাশকে তুলে দ্রুত ওই এলাকা ত্যাগ করে। অন্য সূত্র বলছে, মুক্তির পর বিকাশের নিকটাত্মীয়রা একটি মাইক্রোবাসে করে তাকে নিয়ে চলে যায়। সেখানে বিকাশের স্ত্রীও ছিল। বিকাশের এক নিকটাত্মীয় জানিয়েছেন, তার জানা মতে বিকাশকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকেরা আবার আটক করতে পারেনি, সে নিকটজনের সঙ্গেই চলে গেছে। একটি সূত্র জানায়, গতকাল বিকাশের মুক্তির বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন কারা কর্তৃপক্ষের অনেকে। কিন্তু চাপ থাকায় তারা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে পারেনি। ওই সূত্র বলছে, বন্ধের দিন সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে আসামি মুক্তি দেয়ার ঘটনাটি সাধারণত ঘটে না।
গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা বিকাশকে আটক করিনি, তার মুক্তির বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না, এছাড়া কেউ জেল থেকে বেরুলে আমাদের জানাতে হবে- এমন কোন আইনগত নির্দেশ নেই।
রাজধানীর মিরপুর, কল্যাণপুর, গাবতলী, তেজগাঁ এলাকার এক সময়ের ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী প্রকাশ বিকাশের আদি বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার শিষনগর গ্রামে। ২০০১ সালের ২৬শে ডিসেম্বর রাজধানীর ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ধরার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হলে ভারতে পালিয়ে যায় বিকাশের ভাই প্রকাশ। প্রকাশ এখন ভারতে বসবাস করছে। সে পালিয়ে গেলেও গ্রেপ্তার হয় বিকাশ। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে কারাবাসের পর গতকাল জামিনে মুক্তি পায় সে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট