Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

অবরুদ্ধ ৮৪ ঘণ্টা

বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রহরা, ভেতরে অবরুদ্ধ রিজভী আহমেদ। নেই পর্যাপ্ত খাবার। নেই রাতে ঘুমানো ও গোসলের ব্যবস্থা। এভাবেই টানা ৮৪ ঘণ্টা দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সময় পার করছেন তিনি। প্রায় অর্ধাহারে ও নির্ঘুম কাটছে তার সময়। তবুও  দলের কার্যালয় ছাড়ছেন না। দাপ্তরিক কাজে সহযোগিতা ও তাকে সঙ্গ দিতে গিয়ে সেখানে
অবস্থান করছেন আরও কয়েকজন। ’৮৪ সালে স্কপের ডাকা সামরিক শাসন বিরোধী হরতালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ রিজভী আহমেদ বরণ করেছেন পঙ্গুত্ব। ছাত্রদলের ইতিহাসে একমাত্র নির্বাচিত সভাপতি হলেও মূল্যায়ন পাননি বিএনপির শাসনামলে। রাজনৈতিকভাবেও ছিলেন উপেক্ষিত। জাত রাজনীতিক হিসেবে ওয়ান-ইলেভেনের সময় জরুরি সরকারের বিরুদ্ধে তার কণ্ঠ ছিল সোচ্চার। দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে তিনি হয়ে ওঠেন সার্বক্ষণিক রাজনীতিক। চলতি বছর দলের নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলী ইস্যুতে আন্দোলনের সময় মামলার শিকার অন্য নেতাদের মতো আত্মগোপনে যাননি। মামলা মাথায় নিয়েও কাজ করেছেন দলীয় কার্যালয়ে। জেলও খেটেছেন। রোববারের রাজপথ অবরোধ কর্মসূচিতে নৈরাজ্য সৃষ্টির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে নতুন মামলা। এতে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কিন্তু ঝুঁকি মাথায় নিয়েও দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করছেন তিনি। অবরুদ্ধ অবস্থায় ব্যস্ত রয়েছেন দপ্তরের দায়িত্বে। বাইরে তাকে গ্রেপ্তার করতে অপেক্ষমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও সতর্ক।
৮ই ডিসেম্বর শনিবার সকালে নাশতা সেরে নয়াপল্টন কার্যালয়ে গিয়েছিলেন রিজভী আহমেদ। পরদিন ৯ই ডিসেম্বর ছিল ১৮ দলের রাজপথ অবরোধ কর্মসূচি। পরদিন মির্জা আলমগীর ও রিজভী আহমেদসহ শ’ শ’ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় কয়েকটি মামলা। সেদিন সকালে কার্যালয়ের সামনে পুলিশি প্রহরায় দলীয় কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন তারা। ওই দিন সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে একটি বৈঠকে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কার্যালয় থেকে বেরুলে গ্রেপ্তার করা হয় ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা আলমগীরকে। এ অবস্থায় দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে তার ওপর বর্তায় অনেক কর্তব্য। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সমন্বয়, জেলা ও তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা ও কেন্দ্রীয় নির্দেশনা পৌঁছে দেয়া এবং কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের মামলা-হামলার সার্বিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহসহ অনেক কাজ। দলের স্বার্থেই গ্রেপ্তার এড়াতে কার্যালয়ে থেকে যান রিজভী। এরপর কেটে গেছে চার দিন। বাইরে পুলিশ, ভেতরে রিজভী আহমেদ। চারদিনের অবরুদ্ধ সময়ে পেটে ভাত জুটেছে মোট চার বেলা। ১০ই ডিসেম্বর দুপুরে কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আনা চাল-ডালে পাকানো খিচুড়ি খেয়েছিলেন। রাতে জুটেছিল ভাত ও লাউ সব্জি। কিন্তু কর্মচারীদের খাবার ফুরিয়ে যাওয়ায় পরদিন হরতাল চলাকালে ছিলেন প্রায় অভুক্ত। নির্বিচারে গ্রেপ্তারের কারণে দলীয় কার্যালয় থেকে বের হতে পারছেন না কর্মচারীরা। ফলে যোগাড় করা যাচ্ছে না খাবারও। ১২ই ডিসেম্বর দুপুরে একজন মহিলা এমপির নেয়া ভাত খেয়েছেন তিনি। কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের এমন অবস্থা দেখে গতকাল বাসায় রান্না করা খাবার নিয়ে এসেছিলেন মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফারজানা রহমান হোসনা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা শেষে দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড়ে খাবার নিয়ে ঢুকে পড়েন তিনি। দুপুরে সে খাবার খেয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম ও রিজভী আহমেদসহ কয়েকজন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ চার দিন দলীয় এমপি ও সিনিয়র নেতাদের হাতে করে নেয়া রুটি, বিস্কুট খেয়ে কাটিয়েছেন অবরুদ্ধরা। খাবারের মতোই সমস্যা রাতের ঘুম নিয়ে। পুরো কার্যালয়ে মহাসচিব ও দপ্তর সম্পাদকের কক্ষে রয়েছে দু’টি সিঙ্গেল খাট। রিজভী আহমেদ নিজের ছোট্ট খাটটিতে ঘুমানোর সুযোগ পেলেও অন্যদের অবস্থা তথৈবচ। বিএনপি কার্যালয়ে প্রতিটি ফ্লোরে টয়লেট থাকলেও গোসলের ব্যবস্থা নেই। প্রথম দুই দিন কাটিয়েছেন এক কাপড়ে। বাসায় যেতে না পারলেও মোবাইলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে রিজভীর। পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাসা থেকে তার ওষুধপত্রও পাঠানো হয়েছে দলীয় কার্যালয়ে।
খাবার, ঘুম ও গোসলের অসুবিধা হলেও দিনভর মুহূর্তের ফুরসৎ নেই রিজভী আহমেদের। ভোর থেকেই শুরু হয় ব্যস্ততা। অনবরত বাজছে দু’টি ফোন। জেলা ও তৃণমূল নেতারা ফোন করে সারা দেশের তথ্য পৌঁছে দেন তার কাছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নানা তথ্য জানতে চান। অব্যাহতভাবে ফোন করে তথ্য জানতে চান গণমাধ্যমকর্মীরা। দিনভর কেন্দ্রীয় নেতারা যাতায়াত করছেন কার্যালয়ে। গমগম করে গণমাধ্যমকর্মীদের সমাগমে। সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ও তথ্যের ভাণ্ডার রিজভী আহমেদ। বন্ধু-সহকর্মী অনেকেই মোবাইলে নিচ্ছেন তার খোঁজ। দিবসের বাণী, দিন শেষে ব্রিফিংয়ের ড্রাফট সবই করছেন হাসিমুখে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের বলেছেন, গ্রেপ্তারের আশঙ্কা থাকলেও আতঙ্কে ভুগছেন না। তার দল যে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছে তা ন্যায় ও সংবিধানসঙ্গত। আর দলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ায় তিনি দায়িত্ব ফেলে কোথাও যেতে চান না। সরকার চাইলে তাকে কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করতে পারে। গতকাল ভোরে পুলিশের সঙ্গে টানা-হেঁচড়ার সময় রক্ষা পেয়েছেন নেতাদের সহযোগিতায়। তাকে গ্রেপ্তার করতে কয়েক দফায় কার্যালয়ে ঢোকার চেষ্টা করেছে পুলিশ। এরই মধ্যে গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন প্রয়োজনে দলীয় কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর নেতাকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আশঙ্কা। যে কোন মুহূর্তে গ্রেপ্তার করা হতে পারে রিজভীকে। এদিকে তাকে দাপ্তরিক কাজে সহযোগিতা ও সঙ্গ দিতে চার দিন ধরেই কার্যালয়ে অবস্থান করছেন বিএনপি  অঙ্গদলের কয়েকজন নেতাকর্মী। যাদের মধ্যে আছেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বেলাল আহমেদ, মৎস্যজীবী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুর রহমান, প্রশিক্ষণ সম্পাদক তারিকুল আলম তেনজিং ও কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট