Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

মাহমুদুর রহমানকে যে কোন সময় গ্রেফতারের গুঞ্জন

ঢাকা ১৩ ডিসেম্বর : দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার বিরুদ্ধে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ করা যায় কিনা সেটাও খতিয়ে দেখছে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পদত্যাগি চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নিজামুল হকের স্কাইপ কথোপকথন প্রকাশ করায় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এবং প্রকাশক হাসমত আলীর বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর  এ মামলাটি দায়ের করেন আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর সাইদুর রহমান। মহানগর হাকিম এসএম আশিকুর রহমান মামলাটি এজাহার হিসাবে গণ্য করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তেজগাঁও থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।মামলায় রাষ্ট্রেদ্রোহের অভিযোগও আনা হয়েছে। এই মামলায় রাতেই আমার দেশ কার্যালয়ে অভিযান এবং সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করা হবে বলে জোর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মী আমার দেশ কার্যালয়ে ছুটে গেছেন। সাংবাদিক নেতারাও সংহতি জানাতে কাওরান বাজারস্থ আমার দেশ কার্যালয়ে রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, আড়াই বছর আগে ২০১০ সালের ১ জুন সরকার আমার দেশের প্রকাশনা বন্ধ করে বিনা ওয়ারেন্টে সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করে। টানা ১৪  রিমান্ডে ও দশ মাস কারাভোগের পর তিনি আইনী প্রকিদ্ধয়ায় মুক্তি লাভ করেন।

ব্রাসেলসপ্রবাসী আহমদ জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে বিচারপতি মো. নিজামুল হকের স্কাইপি কথোপকথন হ্যাকিং ও তা প্রকাশে দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং গ্রেফতারের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে বৃহস্পতিবার শেষ বিকালে রুল জারি করেছে হাইকোর্টের বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের দু’সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকাটি মুদ্রণ ও প্রকাশনা আইনের কোনো ধারা লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ঢাকার জেলা প্রশাসককে বলা হয়েছে। প্রয়োজন হলে বিষয়টি প্রেস কাউন্সিলের বিবেচনার জন্যও পাঠাতে বলা হয়েছে। বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী এবং বিচারপতি ফরিদ আহমেদের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে।
রুল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় এ ধরনের আক্রমণাত্মক সংবাদ প্রকাশ না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে বিচারপতি মো. নিজামুল হকের স্কাইপি সংলাপ প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারপতি এম ওবায়দুল হাসান নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রসিকিউশনের এক আবেদনে এ আদেশ দেয়া হয়। প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত দৈনিক আমার দেশ ও দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় স্কাইপি কথোপকথন প্রকাশের কথা উল্লেখ করে এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা চান। স্কাইপি কথোপকথন প্রকাশে সৃষ্ট বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার পদত্যাগ করেন বিচারপতি মো. নিজামুল হক। এরপর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

পরে স্কাইপি হ্যাকিং এবং তা প্রকাশের জন্য আমার দেশ-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে  হাইকোর্টে আবেদন করেন আইনজীবী আজহার উল্লাহ ভূঁইয়া। তার পক্ষে শুনানি করেন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের ছেলের ল’চেম্বারের সদস্য ব্যারিস্টার এ কে এম শফিউদ্দিন। তিনি বলেন, প্রকাশিত সংবাদে গোপনীয়তার শর্ত ভঙ্গ করা হয়েছে। সংবিধানের লঙ্ঘন হয়েছে। এ সময় বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, এখানে তো ফৌজদারি অপরাধও হয়েছে। আইটি আইনের লঙ্ঘন হয়েছে। আদালত আবেদনটি সংশোধন করে দিতে বলে এবং একই সঙ্গে আইটি অ্যাক্ট দেখতে চায়। এর কিছু সময় পর আইনজীবী আইটি অ্যাক্ট নিয়ে আসেন। আদালত জানতে চায়, হ্যাকিংয়ের শাস্তি কী? এ সময় আইনজীবী বলেন, সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছর কারাদণ্ড। এরপর হাইকোর্ট রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য জানতে চায়। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদারকে উদ্দেশ্য করে সামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, এত বড় ঘটনার পরও সরকার নির্বিকার কেন। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, যে কেউ এ ব্যাপারে মামলা দায়ের করতে পারে। তাছাড়া ট্রাইব্যুনালও ব্যবস্থা নিতে পারে। এ সময় শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ওটা তো আদালত অবমাননা। ওখানে তো সাজা মাত্র ছয় মাস। পরে হাইকোর্ট রুল জারি করে। একই সঙ্গে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়ে থাকলে তা ৭ জানুয়ারির মধ্যে জানাতে বিবাদীদের নির্দেশ দেয় আদালত। ৮ জানুয়ারি এ মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

আবেদনকারী আইনজীবী আমার দেশ সম্পাদকসহ পত্রিকাটির ১২ জন সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করেছেন। আমার দেশ-এর প্রকাশক, সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ারও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে ওই আবেদনে।

উল্লেখ্য, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে দৈনিক আমার দেশ এর আগে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে বিচারপতি তথ্য গোপন করে লন্ডনে বাড়ি কেনাসহ আয়ের সাথে সঙ্গতিহীন সম্পদের তথ্য প্রকাশ করা হয়। পরে মাহমুদুর রহমান বিচারপতির বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের মাধ্যমে তাকে অভিশংসনের জন্য রাষ্ট্রপতি বরাবর আবেদন জানান। রাষ্ট্রপতি সে আবেদন বিবেচনায় নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। আবেদনটি বিবেচনায় নেয়ার বিষয়টি গত ৮ নভেম্বর ভঙ্গভবন থেকে চিঠি দিয়ে মাহমুদুর রহমানকে জানানো হয়েছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট