Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

হাইকোর্টের রুল : আমার দেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে!

ঢাকা ১৩ ডিসেম্বর : দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার বিরুদ্ধে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ করা যায় কিনা সেটাও খতিয়ে দেখছে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। পত্রিকাটির সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও আলোচিত ‘স্কাইপ সংলাপ’ এর প্রতিবেদক অলিউল্লাহ নোমানকে গ্রেফতারের জন্য পরোয়ানা জারিরও প্রক্রিয়া চলছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ঢাকা মহানগর হাকিমের কোর্টে বুধবার সন্ধ্যার পরও এ বিষয়ে জোর ততপরতার খবর পাওয়া গেছে।একটি মামলা করে তার ওপর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য শুনানী চলছে বলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ((রাত সাড়ে ৭টায়) প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে। হাইকোর্টের একটি রুলের রুলের ওপর ভিত্তি করে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগুলো বুধবার বিকেল থেকে জোর তৎপরতা শুরু করেছে।
আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে বিচারপতি মো. নিজামুল হকের স্কাইপ কথোপকথন হ্যাকিং ও তা প্রকাশে দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং গ্রেপ্তারের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। স্বরাষ্ট্রসচিব, আইজিপি এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের দু’সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকাটি মুদ্রন ও প্রকাশনা আইনের কোন ধারা লংঘন করেছে কি না তা খতিয়ে দেখতে ঢাকার জেলা প্রশাসককে বলা হয়েছে। প্রয়োজনহলে বিষয়টি প্রেস কাউন্সিলের বিবেচনার জন্যও পাঠাতে বলা হয়েছে। বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী এবং বিচারপতি ফরিদ আহমেদের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল এ রুল জারি করে।
রুল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় এ ধরনের আক্রমনাত্মক সংবাদ প্রকাশ না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদিকে, বিচারপতি মো. নিজামুল হকের স্কাইপ সংলাপ প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-
বিচারপতি এম ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার প্রসিকিউশনের এক আবেদনে এ আদেশ দেয়। প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত ‘আমার দেশ’ ও ‘সংগ্রাম’ পত্রিকায় স্কাইপ কথোপকথন প্রকাশের কথা উল্লেখ করে এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা চান। স্কাইপ কথোপকথন প্রকাশে সৃষ্ট বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে  মঙ্গলবার পদত্যাগ করেন বিচারপতি মো. নিজামুল হক। এরপর ট্রাইব্যুনাল পূর্নগঠন করে প্রজ্ঞাপণ জারি করা হয়।
এদিকে, স্কাইপ হ্যাকিং এবং তা প্রকাশের জন্য আমার দেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে আবেদন করেন আইনজীবী আজহার উল্লাহ ভূঁইয়া। তার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার একেএম শফিউদ্দিন। তিনি বলেন, প্রকাশিত সংবাদে গোপনীয়তার শর্ত ভঙ্গ করা হয়েছে। সংবিধানের লংঘন হয়েছে। এসময় বিচারপতি সামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, এখানেতো ফৌজদারী অপরাধও হয়েছে। আইটি আইনের লংঘন হয়েছে। আদালত আবেদনটি সংশোধন করে দিতে বলেন। একইসঙ্গে আইটি অ্যাক্ট দেখতে চান। পরে কিছু সময় পর আইনজীবী আইটি অ্যাক্ট নিয়ে আসেন। আদালত জানতে চান, হ্যাকিংয়ের শাস্তি কি? এসময় আইনজীবী বলেন, সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছর কারাদণ্ড। এরপর হাইকোর্ট রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য জানতে চান। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদারকে উদ্দেশ্যে করে সামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, এতবড় ঘটনার পরও সরকার নির্বিকার কেন। ডেপুটি এটর্নি জেনারেল বলেন, যেকেউ এ ব্যাপারে মামলা দায়ের করতে পারে। তাছাড়া, ট্রাইব্যুনালও ব্যবস্থা নিতে পারে। এসময় সামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ওটাতো আদালত অবমাননা। ওখানেতো সাঁজা মাত্র ছয় মাস। পরে হাইকোর্ট রুল জারি করে। একইসঙ্গে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়ে থাকলে তা ৭ই জানুয়ারির মধ্যে জানাতে বিবাদীর নির্দেশ দেন। ৮ই জানুয়ারি এ মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে দু’দফা সংক্ষিপ্ত শুনানী শেষে জারিকৃত আদেশে বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপ সংলাপ প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এ সঙ্গে সরকারের প্রতি জারিকৃত রুলে প্রিন্টিং এন্ড পাবলিকেশন্স এ্যাক্ট অনুযায়ী দৈনিক আমার দেশ এর বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবেনা এবং সংলাপ হ্যাকিং ও তা প্রকাশের দায়ে সংশ্লিষ্টদের বরুদ্ধে কেন গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেয়া হবে না তা দুই সপ্তাহের মধ্যে আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে।  আবেদনকারি আইনজীবী আমার দেশ সম্পাদকসহ পত্রিকাটির ১২ জন সংবাদকর্মীর বরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেছেন।  আমার দেশের প্রকাশক, সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে ফৌজদারী কার্যবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ারও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে ওই আবেদনে।

স্কাইপে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রধানের  কথপোকথন আমার দেশে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশের পর সৃষ্ট বিতর্কের প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আজাহার উল্লাহ ভূঁইয়া বৃহস্পতিবার এই আবেদন করেন।
বিচারপতি এইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি ফরিদ আহমেদের বেঞ্চে এ বিষয়ে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন এ কে এম শফিউল্লাহ।

শুনানিতে বিচারক সামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, সাইবার অপরাধের কারণে ব্রিটেনের বিখ্যাত নিউজ অব দ্য উইক বন্ধ হয়ে গেছে। এর সম্পাদক এখন কারাগারে। বাংলাদেশে যা ঘটেছে সেটাও ‘সাইবার ক্রাইম’।

আবেদনকারী আজাহার উল্লাহ ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, আমার দেশের প্রকাশক, সম্পাদকসহ ১২ জনকে এ মামলায় বিবাদী করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিচারপতি সামসুদ্দিন চৌধুরীর বরুদ্ধে দৈনিক আমার দেশ এর আগে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে বিচারপতি তথ্য গোপন করে লন্ডনে বাড়ি ক্রয়সহ সম্পদের তথ্য প্রকাশ করা হয়। পরে মাহমুদুর রহমান বিচারপতির বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ তুলে সুপ্রীম জুড়িশিয়াল কাউন্সিল গঠনের মাধ্যমে তাকে অভিশংসনের জন্য রাষ্ট্রপতি বরাবর আবেদন জানান। রাষ্ট্রপতি সেই আবেদন বিবেচনায় নিয়ে নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছেন। আবেদনটি বিবেচনায় নেয়ার বিষয়টি গত ৮ নভেম্বর ভঙ্গভবন থেকে চিঠি দিয়ে মাহমুদুর রহমানকে জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ব্রাসেলসভিত্তিক আইন বিশেষজ্ঞ আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে আর্ন্তজাতকি অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের কথিত কথোপকথন সম্প্রতি দৈনির আমার দেশে প্রকাশের পর তার পদত্যাগের দাবি উঠে। এ নিয়ে বিতর্কের মুখে মঙ্গলবার পদত্যাগপত্র জমা দেন বিচারপতি নিজামুল। তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়।

 

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট