Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

মাঠে থাকবে ১৪ দল

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত জামায়াত-বিএনপির বিরুদ্ধে মাঠে থাকতে হবে। এক্ষেত্রে যা নিয়ে যেভাবে থাকা প্রয়োজন তাই নিয়ে নেতা-কর্মীদের মাঠে থাকতে হবে বলে একমত হয়েছে ১৪ দলের নেতারা।

বুধবার ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগামী ২২ ডিসেম্বর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ঘোষিত গণমিছিল বাস্তবায়নে করণীয় নির্ধারণে এক যৌথ সভায় ১৪ দলের নেতারা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন।

বক্তারা বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে। তারা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে এ বিচার বন্ধ করতে চায়। এদের বিরুদ্ধে ১৪ দলসহ সকল অসামপ্রদায়িক শক্তিকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে থাকতে হবে।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, জাসদের (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল) সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিক, গণআজাদী লীগের সভাপতি আব্দুস সামাদ, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নরুর রহমান সেলিম,  ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)-এর সহ-সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের যুগ্ম-আহ্বায়ক অসিত বরণ রায়।

সভাপতির বক্তব্যে রাশেদ খান মেনন বলেন, যুদ্ধাপরাধ বিচারকে বিতর্কিত করার জন্য স্কাইপিতে বিচারপতির বক্তব্য হ্যাক করা হয়েছে। এ ষড়যন্ত্র হিসেবে বিএনপি-জামায়াত ট্রাইব্যুনাল বাতিলের কথাও বলেছে। এত বড় ষড়যন্ত্রের বিচার করতে হবে। ব্রিটেনে হ্যাক করার জন্য শাস্তি দেয়ার উদাহরণ রয়েছে।

বিএনপি-জামায়াত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করছে উল্লেখ করে মেনন বলেন, বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের লক্ষ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার কিংবা নির্বাচন নয়। যদি তারা কেয়ারটেকার সরকারের জন্য আন্দোলন করতো তবে এ নিয়ে তারা আলাপ-আলোচনায় আসতো। নির্বাচন বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করতো।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে। যার অংশ হিসেবে অনেকে এসে জামায়াতের সঙ্গে সংলাপ করার নছিহত করছেন। জামায়াত এ জন্য অর্থ ও লবিস্ট নিয়োগ করেছে। যার প্রমাণ তারা অন্যায়ভাবে একজন বিচারপতির কথা হ্যাক করছে।

জামায়াত পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা বিশ্বজিতের ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের একজন পিতা জামায়াত করে। অন্য আরেকজন শিবিরের কর্মী ছিল।

জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিচার না হওয়া পর্যন্ত সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে থাকার আহ্বান জানিয়ে নাসিম বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা ছাড়া সামনে কোনো বিকল্প পথ নেই। শত্রু এখন চিহ্নিত। আগে শত্রু ছিল ৭১’র ঘাতক। এখন তাদের সঙ্গে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

বিচারপতি নিজামুল হকের পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়ে নাসিম বলেন, নৈতিক কারণেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান পদত্যাগ করছেন। তিনি এটা করেছেন তার স্বচ্ছতা প্রমাণ করার জন্য।

শিল্পমন্ত্রী দীলিপ বড়ুয়া বলেন, বিএনপি-জামায়াত যেসব ধ্বংসাত্মক নৈরাজ্যমূলক কাজ করেছে তা প্রমাণ করে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন করে না।

তিনি বলেন, জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে যে কোন মূল্যে ময়দান দখলে রাখতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। বিএনপি-জামায়াত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের ষড়যন্ত্র করছে।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় রাস্তায় থাকতে হবে। ওরা হামলা করলে হাত গুটিয়ে বসে থাকবো এটা হতে পারে না। মাঠ দখলে রাখার জন্য যা নিয়ে যেভাবে থাকা দরকার সেভাবে থাকতে হবে।

গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নরুর রহমান সেলিম বলেন, জামায়াত-শিবির ও বিএনপি দেশকে ৭১’র পূর্ব অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এদের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে হবে। বিচার না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে সবাইকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে থাকতে হবে।

তিনি আরো বলেন, যারা বিচারপতি নিজামুল হকের কথা হ্যাক করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি নিজামুল হকের কথায় রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কথা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট