Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

আমিনীর জানাজা বিকেল ৩টায়, জাতীয় ঈদগাহে

ঢাকা: দেশের শীর্ষ আলেম, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনীর জানাজার নামাজ বুধবার বিকেল তিনটায় জাতীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে লালবাগ শাহী মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে।

মুফতি আমিনী মঙ্গলবার দিবাগত রাত  ১২টা ১৫ মিনিটে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইবনে সিনা হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।

আমিনীর প্রেস সেক্রেটারি আহলুল্লাহ ওয়াসেল জানান, রাত সোয়া ৯টার দিকে হঠাৎ তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করেন। তখন তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। কিন্তু ব্যথা না কমায় রাত সোয়া ১১টার দিকে তাকে নিয়ে ইবনে সিনা হাসপাতালে যাওয়া হলে হাসপাতালে এক ঘণ্টা চিকিৎধীন থাকার পর সোয়া ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ফজলুল হক আমিনী স্ত্রী, দুই ছেলে ও চার মেয়ে রেখে গেছেন। বুধবার বিকেল তিনটায় জাতীয় ঈদগাঁ ময়দানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তাকে কামরাঙ্গিচর হাফেজ্জী হুজুরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে বলে জানা গেছে।

মুফতি আমিনী বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান ১৮ দলীয় জোটের শরিক দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা ছিলেন। রাজধানীর লালবাগ জামেয়া কোরআনিয়া এবং বড় কাটারা আশরাফুল উলুম মাদরাসাসহ বেশ কয়েকটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন তিনি।

আমিনী ১৯৪৩ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদরের আমিনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দেশে এবং করাচিতে ইসলামী শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালে তিনি কামরাঙ্গীরচরে মরহুম হাফেজ্জী হুজুর প্রতিষ্ঠিত মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। সেই বছরে হাফেজ্জী হুজুরের মেয়ের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন আমিনী। ১৯৭২ সালে কর্মজীবনে মাত্র নয় মাসে পবিত্র কোরআনের হাফেজ হন তিনি।

১৯৭৫ সালে তিনি জামেয়া কোরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ মাদরাসার শিক্ষক ও সহকারী মুফতি হিসেবে যোগ দেন। পরে একই প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রিন্সিপাল ও প্রধান মুফতির দায়িত্ব পান। ১৯৮৭ সাল থেকে তিনি ওই মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিসের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

মাওলানা আমিনী ১৯৮১ সালে খেলাফত আন্দোলনে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতি ও ইসলামী আন্দোলন শুরু করেন। পরে ওই দলের সেক্রেটারি জেনারেল নিযুক্ত হন। পরে তিনি উলামা কমিটি বাংলাদেশ ও ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। একই সময় তিনি ইসলামী মোর্চারও মহাসচিব ছিলেন। একপর্যায়ে ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটি ও মাদরাসা হেফাজত কমিটি বাংলাদেশের আমির হিসেবে দেশে ইসলাম রক্ষার আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন।

বর্তমান সরকারের ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে গিয়ে মুফতি আমিনী সরকারের রোষানলে পড়েন এবং গত প্রায় দুই বছর তাকে ঢাকার লালবাগ মাদরাসা ক্যাম্পাসে একরকম বন্দি করে রাখে সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। একাধিকবার মামলায় তাকে গ্রেফতার ও হয়রানি করা হয়। ইসলামের পক্ষে সাহসী ভূমিকা রাখায় তার ছেলেকেও গুম করা হয়েছিল।

মুফতি ফজলুল হক আমিনী অষ্টম জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। মুফতি আমিনীর মৃত্যুতে বিএনপি চেয়ারপারসন ও ১৮ দলীয় জোট নেতা খালেদা জিয়াসহ রাজনৈতিক নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তার মৃত্যুতে দেশের ধর্মীয় অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট