Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

কথোপকথন ফাঁসের পর আর যুদ্ধাপরাধ মামলার বিচার চলতে পারে না : ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক

যুদ্ধাপরাধ মামলায় অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের প্রধান কৌঁসুলি ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, প্রিভি কাউন্সিলের রায়ে বলা হয়েছে, এ ধরনের ঘটনা (তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে বিচারপতির কথোপকথন) ফাঁস হয়ে  গেলে আর বিচার চলতে পারে না। মঙ্গলবার বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। আমার দেশ-এ বিচারপতি নিজামুল হকের কথোপকথন প্রকাশের পর গতকাল তিনি পদত্যাগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এই সাক্ষাতকারটি নেয়া হয়। পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাতকারটি প্রকাশ করা হলো।

বিবিসি : আপনারা গতকাল ট্রাইব্যুনাল থেকে বিচারপতি নিজামুল হকের পদত্যাগ চেয়েছিলেন। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি পদত্যাগ করলেন। এখন কি আপনারা সন্তুষ্ট?
ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক : বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম সাহেব পদত্যাগ করে ভালো কাজই করেছেন। কারণ তিনি যত বেশি দিন থাকতেন, বিচার বিভাগের জন্য এবং তার জন্য বিষয়টি ততই খরাপ হতো; ফলে বিচার প্রক্রিয়াটা ক্ষতিগ্রস্ত হলো। এখন বিচার প্রক্রিয়াটা শুরু থেকেই শুরু করতে হবে।
বিবিসি : অর্থাত আপনারা রিট্রায়াল (পুনর্বিচার) চাইছেন?
ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক : অবশ্যই রিট্রায়াল চাইছি। কারণ হচ্ছে, এটা খুন স্বাভাবিক ব্যাপার নয়। একজন বিচারপতি চলে গেলেন। উনি তো শেষ করে গিয়েছিলেন। এখন অন্য একজন এসে শেষ করবেন-বিষয়টা এ রকম নয়। আমাদের হাইকোর্টে তো একটা নিয়ম আছে। একজন বিচারপতি যদি চলে যান, তাহলে বিচারটা শুরু থেকে শুরু করতে হয়। বাংলাদেশ কেন, পৃথিবীর ইতিহাসেও এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি। বিচারপতি বাইরের একজন লোকের সঙ্গে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে শলাপরামর্শ করেছেন।
বিবিসি : আইনমন্ত্রী তো বলেছেন, একজন বিচারপতি পদ্ধতিগত প্রয়োজনে যে কারও সঙ্গে কথা বলতেই পারেন। তিনি তো বিষয়বস্তু প্রকাশ করেননি।
ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক : মাননীয় আইনমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, তিনি সঠিক বলেননি। অথবা উনি গত তিন দিনের আমার দেশ পত্রিকাটা পড়ার সুযোগ পাননি। আমার দেশ যে কত গভীরে গিয়েছে, কোন সাক্ষী কী বলবে, সাক্ষী যেটা বলবে সেটাকে কীভাবে কাটিয়ে দেয়া হবে, কোন সাক্ষীকে আবার ডাকতে হবে, কতজন সাক্ষী হবেন-এ সমস্ত আলাপ-আলোচনা করেছেন। শুধু তা-ই নয়, প্রসিকিউটররা মিলে সাক্ষীকে শিখিয়ে দিয়েছেন, কোর্টে গিয়ে কী বলবে। একজন সম্পর্কে বলেছেন, ভালো, আমরা যা শিখিয়ে দিয়েছি উনি তা-ই বলেছেন। আরেকজন সম্পর্কে বলা হয়েছে, আমি তার নাম বলব না, না ওনাকে তো আমরা কনট্রোল করতে পারব না। একজন সম্পর্কে বলেছেন, উনি অনেক কথা বলেছেন, সেগুলো বাদ দিতে হবে। কোন বিচারটা আগে হবে, কার রায় আগে হবে, কারটা পরে হবে। আইনে কি এটা আছে? এনটায়ার বিচার প্রক্রিয়াটাকে একটা বিশেষ দিকে প্রবাহিত করার জন্য কিছু কোটারি স্বার্থের লোকের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন। দুনিয়ার ইতিহাসে কোথাও এটা পাওয়া যাবে না।
বিবিসি : আপনারা রিট্রায়াল চাইছেন। এখানে রিট্রায়ালের তো বিধান নেই।
ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক : সাঈদী সাহেবের মামলায় রায় দিতে হলে একজন নতুন বিচারপতি নিয়োগ দিতে হবে। দুজন বিচারপতি রায় দিতে পারেন না। সংলাপে বিচারপতি সাঈদী সাহেবের চার্জটা কখন গঠন করা হবে, কখন বিচার হবে, গোলাম আযমের চার্জ কখন গঠন করা হবে, কখন বিচার হবে। সুতারাং শুরুতেই তো বিচারটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেছে। মাননীয় আইনমন্ত্রী, নিরপেক্ষতার কথা বলেছেন, স্বচ্ছতার কথা বলেছেন। সুতারাং স্বচ্ছতা চাইলে নতুন একজন বিচারপতি নিয়োগ করে নতুন করে বিচার শুরু করতে হবে।
বিবিসি : কথোপকথন ফাঁসের তদন্ত আপনি চান কি না?
ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক : তদন্ত হতে পারে। প্রিভি কাউন্সিলের রায় আছে যে, এ ধরনের ঘটনা ফাঁস হয়ে গেলে আর বিচার চলতে পারে না। কেউ এটা অস্বীকার করেনি। এমনকি বিচারপতি বলেছেন, তিনি কথা বলেছেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট