Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

নিউইয়র্কে দু’টি পৃথক সমাবেশে ট্রাইব্যুনাল বিলুপ্ত ও নিজামুল হকের পদত্যাগ দাবী

 নিউইয়র্ক, ১০ ডিসেম্বর: বিচারকের আসনে বসে অভিযোগকারীর সাথে শলাপরামর্শ করে রায় তৈরীর ব্যবস্থাসহ বিচারকার্যের সকল গোপনীয়তা ফাঁস করার মধ্য দিয়ে তথাকথিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসটি) চেয়ারম্যান প্রমাণ করেছেন বিচার নয় তারা বিচারের নামে একটি নাটক মঞ্চস্থ করে চলেছেন। এ ধরনের একটি ট্রাইব্যুনালের অস্তিত্ব জাতির জন্য কলঙ্কজনক। অবিলম্বে এই প্রহসনের ট্রাইব্যুনাল বিলুপ্ত ঘোষণা ও বিচারপতি নিজামুল হককে পদত্যাগ করতে হবে।
১০ ডিসেম্বর সোমবার নিউইয়র্ক সময় সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল) বাংলাদেশী অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসে দু’টি পৃথক সমাবেশে প্রবাসী বাংলাদেশীরা এ দাবী জানান। কোয়ালিশন অফ বাংলাদেশী আমেরিকান এসোসিয়েশন এবং সাঈদী মুক্তি আন্দোলন সমাবেশ দু’টির আয়োজন করে। সমাবেশ দু’টিতে বক্তারা ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম ও ব্রাসেলস প্রবাসী বাংলাদেশী আহমেদ জিয়াউদ্দিনের মধ্যকার বিচার সম্পর্কিত কথোপকথন প্রকাশ করায় দৈনিক আমার দেশ ও যুক্তরাজ্যের দি ইকনমিষ্টের দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করে বলেন, সকল প্রকার ঝুঁকি উপেক্ষা করে ও ভয়ভীতির উর্ধ্বে উঠে সত্য প্রকাশের মাধ্যমে তারা দেশবাসীর সামনে বর্তমান সরকারের চেহারা উন্মোচন করেছেন। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারীর কারণে যুক্তরাষ্ট্রে যেভাবে প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল, বাংলাদেশের বর্তমান আওয়ামী সরকারেরও উচিত তাদের অপরাধ স্বীকার করে পদত্যাগ করা।
জ্যাকসন হাইটসের টক অফ দি টাউনে কোয়ালিশন অফ বাংলাদেশী এসোসিয়েশন আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ডা: ফজলুল হক ও পরিচালনা করেন মনজুর আহমেদ। বক্তব্য পেশ করেন সাঈদী মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি আবদুল খালিক, নিউজবাংলাবিডি.কমের সম্পাদক আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু, হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ফর বাংলাদেশ এর সাধারণ সম্পাদক নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির প্রফেসর দেলোয়ার হোসেন মজুমদার, জাতীয় যুব কমান্ড যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি চৌধুরী আলম, হিউম্যানিটি ক্লাবের সভাপতি রশিদ আহমেদ, এডভোকেট আবুল হাশেম, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক ও তারেক আন্তর্জাতিক পরিষদের চেয়ারম্যান আকতার হোসেন বাদল, ফিরোজ আহমেদ, ইস্কান্দার আলী মির্জা, কায়কোবাদ কবীর প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি পর্যায়ে সংঘটিত প্রতিটি অপকর্মের জন্য দায়ী আওয়ামীলীগ । মহান মুক্তিযুদ্ধের আগে তারা সারা দেশে বিহারিদের হত্যা করেছে এবং দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যাদেরকেই তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও প্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে হয়েছে তাদেরকে নির্বিচারে হত্যা করেছে, বেপরোয়া লুণ্ঠন, দখল ও ধর্ষণ করেছে। তাদের কৃত সকল অপরাধ যাতে বিচারের বাইরে থাকে সেজন্য তারা প্রেসিডেন্টের মাধ্যমে আদেশ জারী করিয়ে নিয়েছে। আওয়ামী ঘাতকরা সেই আদেশ বলে নিজেদের দায়মুক্তি করিয়েছে। অথচ তারাই জোর গলায় বলছে যে অপরাধ করে দায়মুক্তির কলঙ্ক থেকে দেশকে মুক্ত করতেই তারা মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার করতে ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করেছে। তারা বলেন, যাদের নিজেদের হাতই রক্তে রঞ্জিত তাদের মুখে এমন বক্তব্য আর ভূতের মুখে রাম নাম একই কথা।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম আওয়ামী সরকার লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ আর হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা হত্যা করেছিল। ভারতের পরামর্শে সেনাবাহিনীকে নামে মাত্র বাহিনী রেখে ঠাঙ্গাড়ে বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলেছিল শক্তিশালী রক্ষীবাহিনী, যে বাহিনীর কাজই ছিল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমন। এবার ক্ষমতায় এসে একদিকে তারা জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের উপর যুদ্ধাপরাধীর দায় চাপিয়ে তাদের ফাঁসিতে ঝুলানোর চক্রান্তে লিপ্ত,  পাশাপাশি তারা জামায়াত শিবিরের অন্যান্য নেতাকর্মী, যাদের উপর কোন অপরাধই চাপানো সম্ভব হচ্ছে না, তাদেরকে নির্মূল করার হুংকার দিচ্ছে। কিন্তু আল্লাহ সকল অজ্ঞাত বিষয়ই অবগত। তাই অন্ধকার থেকে আলোতে এনে দিলেন যে তথাকথিত ট্রাইব্যুনালে কি প্রহসন চলছে। শপথ ভঙ্গ করে বিচারপতি কিভাবে অন্যায় অনৈতিক কাজে লিপ্ত। তাদের দুরভিসন্ধি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পরও যদি তথাকথিত বিচার কাজ চালিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হয় তাহলে সেদিন দূরে নয় যেদিন তারা গণরোষের শিকার হবেন। সমাজের শ্রদ্ধাভাজন মানুষদের হেয় করার পরিণতি কিছুতেই শুভ হতে পারে না।
মানব বন্ধন :
এছাড়া জ্যাকসন হাইটসের ৭২ ষ্ট্রিটে সাঈদী মুক্তি আন্দোলন পরিষদের উদ্যোগে এক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। সংগঠনের সভাপতি আবদুল খালিক, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু, যুক্তরাষ্ট্র যুবদল সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ আহমেদ ও বিশিষ্ট কমিউনিটি এক্টিভিষ্ট আবদুল্লাহ আরিফ মানব বন্ধনে বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, মাওলানা সাঈদীর মতো একজন প্রথিতযশা আলেমকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ও ভিত্তিহীন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আওয়ামী লীগ সরকার বিশ্বের সকল মুসলমানের হৃদয়ে আঘাত হেনেছে। তার কোন কিছু হলে দেশবাসী কিছুতেই তা মেনে নেবে না। কারণ তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগই প্রমাণিত হয়নি। এমনকি তার এলাকার সংখ্যালঘু শ্রেনীর লোকজনও তার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে সম্মত হননি। সরকার সত্যকে ভয় পায় বলেই সাঈদীর মতো মানুষের জনপ্রিয়তা সহ্য করতে পারে না। সময় থাকতে সঠিক পথে আসার জন্য তারা সরকারের প্রতি আহবান জানান।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট