Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিচারপতি নিজামুল হককে পদত্যাগে আলটিমেটাম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নিজামুল হক সহ সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতিকে পদত্যাগের জন্য আলটিমেটাম দিয়েছেন  সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট জয়নুল আবেদীন। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে সরকারবিরোধী আইনজীবীদের এক প্রতিবাদ সভায় গতকাল তিনি এ কথা বলেন। জয়নুল আবেদীন বলেন, আমার দেশ পত্রিকায় এসেছে কিভাবে যুদ্ধাপরাধের নামে ট্রাইব্যুনালে একতরফা বিচার হচ্ছে। আমার ধারণা ছিল, এই বিচারপতিরা এখানে একটি রিজয়েন্ডার দিবেন। কিন্তু তারা তা দেন নি। কাজেই আমরা পূর্ণভাবে বিশ্বাস করি, ওই ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এই কারণে যারা ট্রাইব্যুনালে প্র্যাকটিস করেন তাদেরকে বলবো, আপনারা আর সরকারের আজ্ঞাবহ ট্রাইব্যুনালে যাবেন না। শুধু ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নয়, এখানে আপিল বিভাগের একজন বিচারপতির নামও এসেছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে তাদের পদত্যাগ দাবি করছি। আর পদত্যাগ না করলে আমি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে বলছি, বৃহত্তর কর্মসূচি দেয়া হবে। আমি আগেও বলেছি, এখনও বলি, আমাদের ভাই এম ইউ আহমেদকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা তখনই বলেছিলাম, এই আদালতে আমরা কোনদিন যাবো না। আমি নিজে সভাপতি হিসেবে কোনদিন ওই আদালতে এখনও যাই না। যারা যায়, তাদেরকে অনুরোধ করবো, আপনারা ওই আদালতে যাবেন না। ওই আদালত বর্জন করবেন। যদি বর্জন না করেন আপনাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আগামী তিনদিন সময় দিলাম, এই সময়ে পদত্যাগ না করলে আমরা সকলে মিলে সুপ্রিম  জুডিশিয়াল কাউন্সিলে যাবো। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বিগত দিনের মতো যেনতেনভাবে হবে না। কার্যকরভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধেও আমরা অবস্থান নিতে বাধ্য হবো। তিনি বলেন, গতকাল অবরোধের সময় ঢাকা বারে যে ঘটনা ঘটেছে, তা এই পৃথিবীর ইতিহাসকে ছাড়িয়ে গেছে। ছাত্রলীগের লোকজন কিভাবে আদালতে ঢুকে আইনজীবীদের ওপর হামলা করে। এই সভা থেকে আমরা তার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি। আমরা দোষীদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার দাবি করছি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আমাদের একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ছিল। রাজপথ অবরোধের কর্মসূচি। সারা জাতি দেখেছে, এমন একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে বানচাল করার জন্য তারা কি করেছে। তারা যে একটি ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক দল তারা আবার গতকাল প্রমাণ করেছে। ছাত্রলীগ-যুবলীগ-আওয়ামী লীগ এবং পুলিশ মিলে এই কি পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এই সরকার নতুন করে আবার হত্যার রাজনীতি শুরু করেছে। এই আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে। কি করে সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি তারা লুণ্ঠন করেছে সেটা আমরা জানি। কিন্তু গতকাল যা ঘটেছে, বিশ্বজিৎ বারবার বলেছে, আমি হিন্দু, আমি এর সঙ্গে জড়িত নই- এরপরও জনসম্মুখে সকলের সামনে বিশ্বজিৎকে হত্যা করা হয়েছে। এটা প্রমাণ করে আওয়ামী লীগ কখনওই ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করে না। তারা সত্যিকার অর্থেই একটি সামপ্রদায়িক রাজনৈতিক দল। সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রমুখ।
সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে বিচারপতি নিজামুল হকের
বিচার দাবি
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নিজামুল হক নাসিমের পদত্যাগ দাবি করেছেন দেশের সিনিয়র আইনজীবীরা। তা না হলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে তার বিচার চেয়েছেন তারা। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, এখন যত দ্রুত সম্ভব বিচারপতি নিজামুল হককে পদত্যাগ করতে হবে। তা না হলে আমরা প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করবো সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থান নিতে। তিনি পদত্যাগ না করলে বা তার বিরুদ্ধে কাউন্সিলের মাধ্যমে ব্যবস্থা না নিলে আমরা আইনজীবী সমাজ সম্মিলিতভাবে এই বিচারের নামে প্রহসন রুখে দাঁড়াবো। গতকাল বার কাউন্সিল ভবনে এক প্রেস ব্রিফিং-এ তিনি এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ডিফেন্স টিমের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকও বক্তব্য দেন। খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বিচারক হিসেবে শপথ নিয়ে কোন প্রকার অনুরাগ, বিরাগ, প্রলোভন বা ভয়-ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষভাবে বিচার কার্য পরিচালনার কথা। কিন্তু আদালতের কার্যক্রমের সমস্ত ব্যাপারে নিজাম অন্যজনের পরামর্শ এবং নির্দেশনা নেয়া হয়েছে। এমনকি ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন আদেশ ও রায় বাইরে থেকে তৈরি করে পাঠানো হয়েছে বলেও প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া মামলার দ্রুত রায়ের বিষয়ে প্রভাব বিস্তার, নিজামকে আপিল বিভাগে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন, প্রসিকিউটরদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত ইত্যাদি থেকে এটা সুস্পষ্ট যে, যুদ্ধাপরাধের চলমান প্রক্রিয়াটি একটি সাজানো নাটক ছাড়া আর কিছু নয়। অন্যদিকে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, আমার দেশ পত্রিকায় যে তথ্য বেরিয়েছে, তারপর আর ট্রাইব্যুনালের আর কোন গ্রহণযোগ্যতা থাকে না। আদালত ও বিচারকদের সম্মান, মর্যাদা ও ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য শুধু নৈতিক কারণেই নয়, সাংবিধানিক কারণে অবিলম্বে তার পদত্যাগ করা উচিত। তার না হলে সরকারের উচিত ট্রাইব্যুনাল ভেঙে দেয়া। আর যদি তা না করা হয়, তাহলে বিগত ৯ই ডিসেম্বর আমার দেশ পত্রিকায় যেসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের ৫(খ) এবং ৬ বিধান অনুসারে গুরুতর অসদাচরণের দায়ে তাকে অবিলম্বে অপসারণে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রেসিডেন্টের কাছে দাবি করছি। ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বলেন, বিচারপতি নিজাম বাংলাদেশের সংবিধান, বিচারপতিদের আচরণবিধি এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে তার শপথ ভঙ্গ করেছেন। তাই অবিলম্বে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পদ থেকে তার পদত্যাগ দাবি করছি।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট