Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

সর্বস্তরে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সংঘাত বন্ধের মাধ্যমে সর্বস্তরে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিম, উত্তর এবং মধ্য এশীয় দেশগুলোর সংসদ সদস্য ও এমডিজি ত্বরান্বিতকরণ ও ২০১৫ পরবর্তী উন্নয়ন কর্মসূচি বিষয়ক সিএসও ফোরাম উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ কমিশন (এপিপিজি)-এর চেয়ারম্যান আবদুল হামিদ এডভোকেট দু’দিনব্যাপী ফোরামের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ও এপিপিজি যৌথভাবে এ ফোরামের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী নিল ওয়াকার, এসোসিয়েশন ফর পার্লামেন্টারিয়ানস অন পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএফপিপিডি)-এর প্রতিনিধি দামিরা নিয়াজালিয়েভা এমপি, পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, জাতিসংঘের মিলেনিয়াম ক্যাম্পেইনের গ্লোবাল ডিরেক্টর করিন উডস এবং এপিপিজির মহাসচিব শিশির শীল বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এপিপিজির জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিষয়ক সভাপতি এবং ইন্টারন্যাশনাল পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের প্রথম স্থায়ী কমিটির প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী। ন্যায়বিচারকে উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায়ও উন্নয়ন ও মানুষের মর্যাদা সমুন্নত রাখার পূর্বশর্ত হিসেবে ন্যায়বিচার ও শান্তির কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, একমাত্র ন্যায়বিচারই শান্তি নিশ্চিত করতে পারে এবং ন্যায়বিচার একমাত্র সম্ভব গণতন্ত্রের মাধ্যমে। গণতন্ত্রই জনগণকে ক্ষমতাবান করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রের অনুপস্থিতিতে দেখা দেয় সামাজিক অবিচার, দারিদ্র্য, অসমতা, বঞ্চনা এবং বৈষম্য, যা চরমপন্থা ও সন্ত্রাসের দিকে নিয়ে যায়। শেখ হাসিনা ধনী দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আসুন ২০০০ সালে বিশ্ববাসীর কাছে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তা বাস্তবায়নের জন্য আরও মনোযোগী হই এবং মানুষের মর্যাদা রক্ষা করি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বের প্রায় ১০০ কোটি মানুষ দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে বন্দি। এদের জীবনমান উন্নয়নে আমাদের এখনও অনেক কিছু করার বাকি রয়েছে। স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কারণে সমাজে দারিদ্র্য বিরাজ করছে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গেও আজকের দারিদ্র্য ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পরিবেশ বিপর্যয়, সুশাসনের অভাব এবং ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণী নারী-পুরুষ, প্রতিবন্ধিতা, বয়স এবং জাতিগোষ্ঠী বিভেদের কারণেও দারিদ্র্য জেঁকে বসে।
আনক্লসের রায় সমৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে: এদিকে প্রধানমন্ত্রী ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আনক্লসের ৩০তম বার্ষিকী উপলক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় আয়োজিত এক স্মারক অনুষ্ঠানে বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির রায়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের সমৃদ্ধির জন্য নতুন যুগের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, সমুদ্র সম্পর্কিত বিধিবিধান সাগর এবং এর সম্পদ ভাগাভাগিতে মৌলিক আইন ও ভিত্তি প্রতিষ্ঠায় দেশগুলোকে সহায়তা করছে। আনক্লসে মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই রায় সমুদ্রের প্রচুর সম্পদ উত্তোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনেতিক অগ্রগতির ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খুরশিদ আলম, বাংলাদেশ ল কমিশনের চেয়ারম্যান শাহ আলম, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড. হোসেন মনসুর, জাতিসংঘের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ নিল ওয়াকার এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোস্তফা কামাল অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তার দলের বিজয়ের জন্য বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন না হলে এবং বিষয়টির শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির জন্য আনক্লসে উত্থাপিত না করলে এদেশ কখনও সমুদ্র সীমার ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারতো না। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিবেশী মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমার শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির জন্য টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট-১৯৭৪ প্রণয়ন করেছিলেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালে তার হত্যাকাণ্ড-পরবর্তী সরকারগুলো এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়নি। তিনি বলেন, জাতিসংঘ আশির দশকে এ ধরনের কনভেনশনের কথা চিন্তা করেছিল এবং ১৯৮২ সালে আনক্লসে গৃহীত হয়। কিন্তু বাংলাদেশে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোন সরকার এতে অনুসমর্থনের উদ্যোগ নেয়নি। এর বিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ ১০ বছরের মধ্যে সমুদ্র সীমার দাবি সম্পর্কিত ইস্যু জাতিসংঘে উত্থাপনের প্রয়োজন বোধ করে। কিন্তু পরবর্তী বিএনপি সরকার এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট