Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

সারা দেশে ৭২ মামলা, আসামি ২০০০০, ফখরুল গ্রেপ্তার

হরতালকে কেন্দ্র করে দিনভর অবরুদ্ধ ছিল বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়। অবরুদ্ধ ছিলেন নেতাকর্মীরাও। সন্ধ্যায় কার্যালয়ের গেট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। দলের
চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সফররত মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধতন কর্মকর্তা রবার্ট ব্লেকের বৈঠকে অংশ নিতে গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকে যাওয়ার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা। ওদিকে রোববার অবরোধে গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ঢাকাসহ সারাদেশে ৭২টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় আসামী করা হয়েছে ১৮ দলীয় জোটের ২০০০০ নেতা-কর্মীকে। এরমধ্যে ঢাকার বিভিন্ন থানায় মামলা হয়েছে ৩৮টি। আসামী করা হয়েছে ৪৫৪০ জনকে। এদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজধানী ছাড়াও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিক্ষুদ্ধ বিএনপি নেতাকর্মীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। রাতে রাজধানীতে ১৩টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুপুরের আগেই নয়াপল্টনে জড়ো হন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সাদেক হোসেন খোকা, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকারসহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। বিক্ষোভের অনুমতি না পাওয়ার পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ২টি মামলা দায়েরের ঘটনায় নয়াপল্টনে বাড়ানো হয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি। সমাবেশ স্থগিত করার আগেই বিএনপি কার্যালয়ের সামনে মোতায়েন করা হয় বাড়তি পুলিশ ও র‌্যাব। সাদা পোশাকের পুলিশের আধিক্য এবং তৎপরতাও চোখে পড়ার মতো। এ সময় কার্যালয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে আটক করা হয় মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মাহতাবসহ ১৭ নেতাকর্মীকে।  ফলে গ্রেপ্তার আতঙ্কে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন নেতাকর্মীরা। রাজপথ অবরোধ কর্মসূচিতে ভাঙচুর ও সহিংসতার ঘটনায় দায়ের মামলায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রিজভী আহমেদকে যে কোন মুহূর্তে আটক করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। সন্ধ্যা পর্যন্ত অবরুদ্ধ থাকার পর সিনিয়র নেতাদের অনেকেই নয়াপল্টন ছেড়ে যান। কিন্তু মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বের হওয়ার পথে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একটি মাইক্রোবাসে করে দ্রুত তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ডিবি কার্যালয়ে। মহাসচিবকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ব্রিফিং করে মুক্তি দাবি করেন বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ। তিনি জানান, আজকের হরতালের পর দলের শীর্ষ নেতৃত্ব পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। এদিকে রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, রিজভী আহমেদসহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা।
১৮ দলীয় জোটের গত অবরোধ কর্মসূচিতে পুলিশের ওপর হামলা, বিস্ফোরণ ঘটানো, হত্যা এবং সহিংসতার অভিযোগে জোট নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাজধানীসহ সারা দেশে ৩৮টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ৪৫৪০। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি গাড়ি ভাঙচুর ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের চেষ্টার অভিযোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রিজভী আহমেদসহ দুই শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে। ঘটনার দিন গভীর রাতে মো. আয়নাল নামে সিটি করপোরেশনের এক গাড়িচালক বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে ও দণ্ডবিধি ধারায় পল্টন থানায় এ মামলাটি করেন। ওদিকে রোববার  বিভিন্ন থানায় আটক হওয়া ১৬১ জনকে গতকাল গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারের সহকারী পুলিশ কমিশনার গাজী রবিউল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, ঘটনার দিন আটক হওয়া ১৮ দলের নেতাকর্মীদের নামে রমনা থানায় ৩টি, কলাবাগান থানায় ১টি, বংশাল থানায় ২, মতিঝিল থানায় ২, পল্টন থানায় ২, সবুজবাগ থানায় ৩, মুগদা থানায় ১, শাজাহানপুর থানায় ১, ডেমরা থানায় ১, যাত্রাবাড়ী থানায় ৪, শ্যামপুর থানায় ২, শেরেবাংলানগর থানায় ১, মিরপুর থানায় ৪, দারুস সালাম থানায় ২, বনানী থানায় ২ এবং উত্তরা পশ্চিম ও পূর্ব থানায় ১টি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসবের মধ্যে দ্রুত বিচার আইনে ৫টি, বিস্ফোরক আইনে ৫টি, পুলিশ আক্রান্তের ঘটনায় ১৯, খুনের অভিযোগে ১টি এবং অন্যান্য অভিযোগে ৮টি মামলা করা হয়। তিনি জানান, মামলাগুলোতে এলাকাভিত্তিক কিছু নেতার নাম উল্লেখ করে প্রতিটি মামলায় অজ্ঞাত ১ থেকে দেড়শ’ জনকে আসামি করা হয়েছে।
দারুস সালাম থানার ওসি খলিলুর রহমান জানান, গাবতলী এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির ওপরের সারির একজন নেতার নাম রয়েছে। তবে ওই তদন্তের স্বার্থে ওই নেতার নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে থানার আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, ওই মামলায় বিএনপি নেতা নাজিমুদ্দিন আলম ও এসএ খালেককে আসামি করা হয়েছে। মিরপুর থানার ওসি সালাউদ্দিন জানান, তার থানায় দায়ের করা ৪টি মামলায় থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। কলাবাগান থানার ওসি এনামুল হক জানান, তার থানায় দায়েরকৃত মামলায় বিএনপির আটক ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি রাখা হয়েছে আরও শতাধিক। রমনা থানার ওসি শাহ আলম জানান, রমনায় আটক ২৫ জনকে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা বেশির ভাগই ছাত্রদলের নেতাকর্মী। বংশাল থানার ওসি (তদন্ত) হাসানুজ্জামান জানান, রোববারের ঘটনায় তার থানায় দায়েরকৃত ২টি মামলায় ১৫ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল সকালে আদালতে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী। কদমতলী থানার ওসি শফিকুল ইসলাম শিকদার জানান, গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় ১টি মামলায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় ঘটনার দিন আটক হওয়া ১০ জনকে গতকাল গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি ফারুক হোসেন জানান, গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ৩টি মামলা করা হয়েছে। এই মামলায় ঘটনার দিন আটক বিএনপির ৭ কর্মীকেও আসামি করা হয়েছে। বনানী থানার ওসি মাহাবুব হোসেন জানান, মহাখালী ও ফ্লাইওভারের নিচে গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পৃথক ২টি মামলা করা হয়। এসব মামলায় ১৫ জনকে গতকাল গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে রোববার ভোর ৬টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি পালন করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। এ সময় রাজধানীর গাবতলী, মিরপুর, পান্থপথ, শাহবাগ, যাত্রাবাড়ী, পুরান ঢাকা এবং সাভারের আমিনবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ও ভাঙচুর চালানো হয়। কেবল রাজধানীতেই পুলিশের তিনটি গাড়িসহ ২ শতাধিক গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। এর আগে চলতি বছরের প্রথমদিকে গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে দায়েরকৃত এক মামলায় কারাগারে যেতে হয়েছিল মির্জা ফখরুল-রিজভীসহ বিরোধীদলীয় জোটের বেশকিছু শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকে। তেজগাঁও থানার ওই মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগও গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে তারা জামিনে রয়েছেন।
ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট থেকে ৪০ বিএনপি কর্মী আটক
এদিকে রাজধানীর কাকরাইলে একটি বাস ভাঙচুরের অভিযোগে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট থেকে বিএনপির ৪০ কর্মীকে আটক করা হয়েছে। পরে আটককৃতদের রমনা থানায় সোপর্দ করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বিকাল ৪টার দিকে তরঙ্গ প্লাস নামের একটি বাস ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের সামনে এলে শতাধিক লোক লাঠি ও ইট নিয়ে ভাঙচুর চালায়। এসময় বাসের যাত্রীরা দ্রুত নেমে যায়। এতে কোন বাসযাত্রী হতাহত হয়নি। তবে ভাঙচুরকারী বাসের সম্পূর্ণ কাঁচ ভেঙে ফেলে। পরে সবাই পালিয়ে যায়। এসময় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোটভাই মেজর (অব.) সাঈদ এস্কান্দরের স্মরণে  জিয়া স্মৃতি সংসদের একটি স্মরণসভা চলছিল। ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ যোগ দেয়ার কথা ছিল। তবে তিনি ওই অনুষ্ঠানে যাননি। স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন জিয়া স্মৃতি পরিষদের সভাপতি এমএ মান্নান জমাদ্দারসহ অঙ্গ সংগঠনের দুই শতাধিক নেতাকর্মীরা। ভাঙচুরের পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয়। তারা হামলার শিকার বাসটিকে রাস্তা থেকে সরিয়ে নেয়। একপর্যায়ে প্রায় ৫০-৬০ জন পুলিশ সদস্য একযোগে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে ঢুকে পড়ে। পুরো মিলনায়তন ঘিরে ফেলে। তখন উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে অতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানের সভাপতি এমএ মান্নানকে ভাঙচুরের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেন। এমএ মান্নান বলেন, আমরা এখানে পুলিশ কমিশনারের অনুমতি নিয়েই স্মরণসভা করছি। বাস ভাঙচুরের সঙ্গে আমাদের অনুষ্ঠানের কেউ জড়িত নয়। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান করবো। এবং অনুষ্ঠান শেষ করে সবাই যার যার বাড়িতে চলে যাবো। একপর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে বের হতে নিষেধ করেন। পরে সভা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গোয়েন্দা কর্মকর্তারা একে একে ৪০ জনকে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তুলেন। বাকিদের ছেড়ে দিলে তারা অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেরিয়ে যান। এ ব্যাপারে রমনা থানার পুলিশ ইন্সপেক্টর মো. মসিউর রহমান বলেন, বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একটি বিক্ষোভ মিছিল হওয়ার কথা ছিল। ওই মিছিল করতে না পেরে ৬০-৭০ জন বিএনপির কর্মী তরঙ্গ পরিবহনের বাসটিতে ভাঙচুর চালায়। ভাঙচুর শেষে একটি অংশ পালিয়ে যায়। আরেকটি অংশ ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউশনের মিলনায়তনের স্মরণসভায় ঢোকে। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা আগে থেকেই এখানে উপস্থিত ছিলেন। তারা ভাঙচুরকৃতদের শনাক্ত করে ৪০ জনকে আটক করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের রমনা থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট