Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ইকোনমিস্ট : আমাদের তদন্ত চলছে

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে সভাপতিত্বকারী বিচারপতি মোহাম্মদ নিজামুল হক গত ৬ই ডিসেম্বর একটি নির্দেশ দেন। তাতে দি ইকোনমিস্টের দু’সদস্যকে আদালতে হাজির হওয়ার কথা বলা হয়। আদালতে হাজির হয়ে আমরা কিভাবে তার ও বেলজিয়ামে অবস্থানরত বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত আইনজীবী আহমেদ জিয়াউদ্দিনের মধ্যে বিনিময় করা ই-মেইল ও কথোপকথন পেয়েছি তা ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানের কাছ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। ওই যুদ্ধে যেসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল তার বিচার করতে ২০১০ সালে এই আদালত গঠন করা হয়। ৮ই ডিসেম্বর ‘বাংলাদেশ: ডিসক্রিপেন্সি ইন ঢাকা’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে অনলাইন ইকোনমিস্ট এসব কথা জানিয়েছে। এতে আরও বলা হয়, ওই বিচারপতি ও আইনজীবীর মধ্যে ১৭ ঘণ্টার রেকর্ড করা টেলিফোন সংলাপ আমরা শুনেছি এবং তাদের মধ্যে বিনিময় করা ২৩০টিরও বেশি ই-মেইল আমরা দেখেছি। এর বিষয়বস্তু গোপনীয়। জনস্বার্থের পক্ষে ভীষণভাবে দরকারি না হলে তা প্রকাশ না করতে আমরা আইন ও বৃটিশ সংবাদ বিষয়ক বিধি মেনে চলতে বাধ্য। এ নিয়ে আমরা শলাপরামর্শ করিনি। কাউকে এর জন্য অর্থ দিইনি অথবা আমরা নিজেরা তা প্রকাশও করিনি।
এই ই-মেইলগুলো যদি খাঁটি হয়ে থাকে তাহলে তা এ আদালতের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি করবে। আমরা যতটা পূর্ণাঙ্গভাবে পারি তা যাচাই করে দেখতে বাধ্য। আমরা যে ওই দু’জনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি তা-ও ছিল ওই তদন্তের অংশ।
আমাদের তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে আমরা যদি দেখি তাদের নিয়ে যে অভিযোগ এসেছে তার গুরুত্ব আছে তাহলে আমরা তা প্রকাশ করবো। তবে এখানে আমরা বিচারপতি নিজামুল হক ও আইনজীবী আহমেদ জিয়াউদ্দিনের বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আকারে কিছু তথ্য প্রকাশ করছি। আমরা বিশ্বাস করি, এতে আদালতের কার্যক্রম ও ৬ই ডিসেম্বর দেয়া নির্দেশ-  দু’টি বিষয়েরই সম্বন্ধ আছে।
বিচারপতি নিজামুল হক সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি। যুদ্ধাপরাধ আদালতের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের তিনি চেয়ারম্যান। এক্ষেত্রে কোন জুরি নেই। আদালত মৃত্যুদণ্ড দিতে পারে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ বিচারের প্রথম রায় আসতে পারে। আহমেদ জিয়াউদ্দিন একজন প্রবাসী বাংলাদেশী। তিনি বসবাস করেন ব্রাসেলসে। তিনি আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ। একে অন্যকে ২৫ বছর ধরে চেনেন ও জানেন। তারা দু’জনে মানবাধিকার বিষয়ক কর্মী ছিলেন এক সময়। তাছাড়া আহমেদ জিয়াউদ্দিনের প্রয়াত ভাই ছিলেন এ বিচারপতির ছাত্রজীবনের বন্ধু। আহমেদ জিয়াউদ্দিন শুধু একজন আন্তর্জাতিক আইনজীবীই নন, একই সঙ্গে তিনি বেলজিয়ামে বাংলাদেশ সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালকও। বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে যে দায়মুক্তির সংস্কৃতি চালু আছে তার ইতি ঘটাতে চায় এ প্রতিষ্ঠান।
ওই রায়ে বিচারপতি নিজামুল হক ও আইনজীবী জিয়াউদ্দিন আহমেদের সম্পর্কের কথাও বর্ণনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ওই আদালত ‘নতুন আইন’-এর ভিত্তিতে স্থাপিত। তাই দেশের ভিতর ও বাইরের গবেষকদের সহযোগিতা নেয়ার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বিচারপতিদের। এতে আহমেদ জিয়াউদ্দিনকে ওই রকম একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘আদালতে বিচার চলার সময়ে ও রায় দেয়ার সময়ে চেয়ারম্যান তার কাছ থেকে সহায়তা নিয়েছেন। ’
গত ৪ঠা ডিসেম্বর ব্রাসেলস থেকে ইকোনমিস্টকে আহমেদ জিয়াউদ্দিন প্রায় একই রকম কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘বিচারপতিরা গবেষকদের সমর্থন ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য সহায়তা নেবেন কিনা তা বিচারপতিদের সিদ্ধান্তের বিষয়। এটা করার এখতিয়ার তাদের রয়েছে। যখন (বাংলাদেশে) তাদের সেই গবেষক-সহায়তা না থাকবে তখনই তারা তা করতে পারেন। (তারা সহায়তা চাইতে পারেন) যদি মনে করেন এ বিষয়ে অধিক জানা কোন ব্যক্তি আছেন, বিশেষ করে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক আইন যখন একেবারেই নতুন। আমি বাস্তবেই তাকে পরামর্শ দিচ্ছি না। কিন্তু যদি তা প্রয়োজন হয় তাহলে আমি সাড়া দিতে চেষ্টা করবো।’
কিন্তু বিচারপতি আমাদেরকে টেপ করা সাক্ষাৎকারে যে কথা বলেছেন তার সঙ্গে ভিন্নতা রয়েছে আদালতের ওই নির্দেশ ও আহমেদ জিয়াউদ্দিন আমাদেরকে যেসব তথ্য দিয়েছেন সে সবের। আদালত ইকোনমিস্টের বিরুদ্ধে রায় দেয়ার আগের দিন ৫ই ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বিচারপতি নিজামুল হক বলেছেন, আহমেদ জিয়াউদ্দিন তাকে সহায়তা করছেন না। তিনি স্বীকার করেছেন, তারা কথা বলেছেন। কিন্তু তারা কোন অফিসিয়াল বিষয়ে কথা বলার বিষয় অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, এমন ভূমিকা যে-ই পালন করুক তা পুরোপুরি অন্যায়।
বিচারপতি নিজামুল হক বলেছেন, ‘বিচারপতি হিসেবে আমরা তৃতীয় পক্ষের বা বাইরের কারও সহায়তা নিতে পারি না।’ তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল তারা আদালতের বিষয়ে মাঝে মধ্যে ই-মেইল বিনিময় করেছেন কিনা। তার জবাবে তিনি বলেন, ‘না, না, না, আদালত সম্পর্কে, বিচার সম্পর্কে অথবা বিচারিপতি কোন বিষয়ে আমাদের কোন কথা হয়নি। না।’ পরে তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে আমরা আদালতের বিষয়ে এমনকি আমাদের স্ত্রীদের সঙ্গেও কথা বলি না।’
বিচারকরা যখন তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে কোন মামলা নিয়ে কথা বলেন তখন তাদেরকে যথারীতি সতর্ক থাকতে হয়। কারণ, তা না করলে পক্ষপাতিত্ব অথবা তারা অন্য কোন পক্ষের দ্বারা, যারা এ মামলার বিচার সম্পর্কে কোন পক্ষই নয় তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারেন।
আগের দিন ব্রাসেলস থেকে আমাদেরকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আহমেদ জিয়াউদ্দিন বলেছেন, আদালতের সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই। বিচারপতি যদি চান তাহলে তিনি তাকে মেসেজ পাঠাতে পারেন। কিন্তু আমি তা করিনি। তিনি বলেন, ‘সর্বোপরি তিনি তো একজন বিচারক।’
এসবের পর কিছু প্রশ্ন উঠে আসে। কিসের ভিত্তিতে বিচারপতি তাকে সাহায্য করতে পারেন এমন বিশেষজ্ঞ নির্বাচন করেছিলেন? আমরা যোগাযোগ করার পর আদালত ৬ই ডিসেম্বর আমাদেরকে অর্ডার দেন। এর আগে কেন আহমেদ জিয়াউদ্দিনের ভূমিকা আদালতে বা জনগণের সামনে প্রকাশ করা হয়নি? ওই অর্ডারে এই আদালতে সভাপতিত্বকারী বিচারপতি সারা বিশ্বের ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল ল সম্পর্কে অভিজ্ঞদের (আহমেদ জিয়াউদ্দিন) সহায়তা নেয়ার কথা বলেছেন। এতে তিনি আদালতের বিচার ও নির্দেশ দেয়ার সময় সহায়তা নেয়ার কথা বলেছেন। তাহলে কেন তিনি ৫ই ডিসেম্বর আমাদেরকে বললেন, তাদের দু’জনের মধ্যে আদালতের বিষয়ে অথবা বিচার পরিচালনা নিয়ে কোন কথাই হয়নি? কেনই বা তিনি বললেন, বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে অন্যদের সঙ্গে কথা বলা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জন্য যথাযথ নয়?

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট