Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

পা ধরেও ক্ষমা পাননি বিশ্বজিৎ

কথা রাখতে পারলেন না বিশ্বজিৎ দাস (২৫)।  ফাঁকি দিলেন কর্মচারী ও  গ্রাহকদের। শুধু তাই নয়। নিজের মাকে দেয়া কথাও ভঙ্গ  করলেন! ছাত্রলীগের নৃশংসতার কবলে পড়ে অজানার দেশে পাড়ি দিয়েছেন তিনি। তখন ছিল রোববার সকাল ৯টা। প্রতিদিনের মতো বিশ্বজিৎ হেঁটে যাচ্ছিলেন তার কর্মস্থল শাঁখারীবাজারের দোকানে। লক্ষ্মীবাজারের ৫৩ নম্বর হৃষীকেশ দাস লেনের বাসা থেকে বের হয়েছিলেন সকাল সাড়ে ৮টায়। পায়ে হেঁটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পার হচ্ছিলেন। হঠাৎ শুরু হয় অবরোধ পালনকারী আইনজীবী ও প্রতিপক্ষ ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি মিছিল। কাছাকাছি এলে উভয় পক্ষ জড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষে। বিপদ আঁচ করতে পেয়ে বিশ্বজিৎ নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশে দৌড়াতে থাকেন। অবরোধকারী সন্দেহে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা তাকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে ভিক্টোরিয়া পার্ক সংলগ্ন মার্কেট ঢুকে তার ওপর বর্বরতা চালায়। কেউ রড দিয়ে পেটাতে থাকে। কেউ খোঁচাতে থাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে। এ সময় বিশ্বজিৎ তাদের পা ধরে কাকুতি-মিনতি করেন। বলেন, আমি রাজনীতি করি না। কোন দলের কর্মী নই। আমাকে ছেড়ে দিন। কিন্তু ওই ক্যাডাররা তার কথা শোনেনি। রাস্তায় টেনে এনে প্রকাশ্যে দ্বিতীয় দফায় ছুরিকাঘাত করতে থাকে। প্রায় ২০-২৫ মিনিট ধরে এমন নির্যাতন শেষে ছাত্রলীগের ওই ক্যাডাররা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট দিয়ে ভেতরে চলে যায়। ততক্ষণে বিশ্বজিতের সারা শরীর রক্তাক্ত। রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে থাকেন দীর্ঘক্ষণ। আশপাশে শ’ শ’ লোক থাকলেও কেউ এগিয়ে যায়নি। অবশেষে রিপন নামে এক রিকশাওয়ালা নিজের উদ্যোগে তাকে তুলে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যান। কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে বিশ্বজিতের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান তার বড় ভাই উত্তম কুমার। পিতা অনন্ত দাশ ছুটে আসেন গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থানার মশুরা গ্রাম থেকে। উত্তম কুমার বলেন, দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে বিশ্বজিৎ সবার ছোট। শাঁখারীবাজার ও লক্ষ্মীবাজারে তাদের দু’টি দর্জির দোকান রয়েছে। শাঁখারীবাজারের আমন্ত্রণ টেইলার্স নামে দোকানটির দেখাশোনা করতেন বিশ্বজিৎ। প্রতিদিন সকাল ৯টার দিকে বের হলেও গতকাল তিনি আগেই বের হয়েছিলেন। গণ্ডগোলের ভয়ে সকাল সকাল দোকানে যেতে চেয়েছিলেন। দোকানের কর্মচারীরা জানান, শনিবার রাতে বিশ্বজিৎ বলেছিলেন, ৯টার মধ্যেই দোকানে গিয়ে ৩-৪ জন গ্রাহকের তৈরী পোশাকের ডেলিভারি দেবেন। বাকি কাজ সম্পন্ন করে এ সপ্তাহেই বাড়ি যাবেন। বিশ্বজিতের বন্ধু দেবাশিস্‌ বলেন, তার জন্য পাত্রী দেখা হচ্ছিল। বাড়ি গিয়ে পছন্দ হলে শুভক্ষণ নির্ধারণের কথাও হচ্ছিল। এরই মধ্যে তার নির্মম পরিণতি পরিবারের কেউই মেনে নিতে পারছেন না। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১৮ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধ কর্মসূচির সমর্থনে সকাল ৯টার দিকে ঢাকা জজ কোর্ট এলাকা থেকে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীরা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি ভিক্টোরিয়া পার্কের কাছে গেলে একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও কবি কাজী নজরুল ইসলাম কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আইনজীবীদের ওপর হামলা চালায়। এতে অবরোধ সমর্থনকারী আইনজীবীরা এদিক-সেদিকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ধাওয়া খেয়ে পথচারী বিশ্বজিৎ দাস দৌড়ে প্রথমে একটি ডেন্টাল ক্লিনিকে আশ্রয় নেন। ছাত্রলীগের ক্যাডাররা ওই ক্লিনিকে হামলা চালালে বিশ্বজিৎ পাশের আরেকটি মার্কেটে ঢুকে পড়েন। সেখানেও হামলা চালায় ছাত্রলীগের কর্মীরা। এ সময় তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে তাকে। মিটফোর্ড হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার আবু তানভীর সিদ্দিক বলেন, বিশ্বজিৎকে মুমূর্ষু অবস্থায় এক রিকশাচালক হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। এর প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যেই তিনি মারা যান। প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। কোতোয়ালি থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, শুনেছি ছাত্রলীগের সন্দেহের বলি হয়েছেন বিশ্বজিৎ। লাশের সুরতহাল তৈরিকারী পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বিশ্বজিতের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট