Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

অনুষ্ঠিত হল রাবির ৮ম সমাবর্তন

৯ ডিসেম্বর : উতসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অষ্টম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকাল থেকেই সমাবর্তন উপলক্ষে ক্যাম্পাসে জড়ো হন গ্র্যাজুয়েটরা। সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন থেকে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ ও উপাচার্য প্রফেসর এম. আব্দুস সোবহানের নেতৃত্বে সমাবর্তনের শোভাযাত্রা শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় স্টেডিয়ামে হাজির হলে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ এতে সভাপতিত্ব করেন। এবারের সমাবর্তনে বক্তা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর সমাবর্তন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী। এসময় উপাচার্য সমাবর্তন স্মারক তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ এবং উপ-উপাচার্য সমাবর্তন বক্তা এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে।

এরপর উপাচার্য এম আবদুস সোবহান ১৯৯১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত রাবি থেকে ১৯ জন পিএইচডি ডিগ্রি ও ৪ জন এমফিল ডিগ্রি এবং কলা অনুষদের ১ হাজার ৬৬১ জন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ১ হাজার ৪৮৬জন ও কৃষি অনুষদের দুইজন স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের নাম  উপস্থাপন করেন। এরপর একে একে আইন অনুষদের ডিন বিশ্বজিত চন্দ্র ৩৪৬ জন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন আনোয়ারুল ইসলাম ৮১৬ জন, চিকিতসা অনুষদের ডিন গোলাম কিবরিয়া ১৬ জন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন আনসার উদ্দীন ১ হাজার ৬৫০ জন, জীব ও ভূবিজ্ঞান অনুষদের ডিন চৌধুরী সারওয়ার জাহান ৭১৪ জন, প্রকৌশল অনুষদের ডিন এম মামুনুর রশীদ তালুকদার ২৬৯ জন ডিগ্রিধারদের নাম উপস্থাপন করেন। রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রী তাদের ডিগ্রি অনুমোদন করেন।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘আমাদের নতুন প্রজন্মকে আধুনিক বাংলাদেশের নির্মাতা হিসেবে প্রস্তুত করতে হবে। বর্তমান যুগের সাথে সঙ্গতিপূর্ন আধুনিক বিশ্বমানের শিক্ষা ও জ্ঞান প্রযুক্তিতে দক্ষ, নৈতিক মূলবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ এক পরিপূর্ণ মানুষ তৈরি করতে হবে। প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় তা সম্ভব নয়।’ এজন্য সরকার সবার মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করে জাতীয শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা কার্যক্রমে গুরুত্ব দেয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সকল বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজস্ব আয়ের উতস বাড়াতে হবে।’

সমাবর্তন বক্তা এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিতের চাহিদা যত আছে, উচ্চশিক্ষার চাহিদা আছে তার চেয়ে অনেক বেশি। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে প্রবেশাধিকার আছে কিংবা থানা উচিত আসলে মেধাবীদের। আর নাগরিক মাত্ররেই আছে প্রাথমিক শিক্ষালাভের অধিকার- সে অধিকারও কিন্তু আমরা সকলকে দিতে পারিনি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের উচ্চশিক্ষাঙ্গনে ছাত্রদের হানাহানি একটা ভয়াবহ ব্যাপার। এটাকে আমি রাজনীতি বলতে রাজি নই, এটা একেবারেই অপরাধমূলক কাজ। তবে সে কাজ যারা করে, তারা রাজনীতিবিদদের প্রশ্রয় পেয়ে থাকে প্রায়ই।’ ডিগ্রিধারীরা তাদের পরিবারে জন্য, শিক্ষকদের জন্য দেশের জন্য কাজ করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান বলেন, ছাত্রছাত্রী ভর্তি, ক্লাশে পাঠদান, পরীক্ষা নেওয়া, ফলাফল প্রকাশ সবই রুটিনমাফিক হয়, শুধু সমাবর্তনটি হয় না। না হওয়ার কারণও আছে এবং সেগুলো অযৌক্তিকও নয়।’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় লক্ষ্যের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রসায় চালাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার এম এ বারীর পরিচালনায় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক এম নূরুল্লাহ। সমাবর্তনে উপস্থিত ছিলেন, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর এম আব্দুর রহমান, সকল সিন্ডিকেট সদস্য, অনুষদ অধিকর্তা ও শিক্ষক।
সমাবর্তনপ্রাপ্ত বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে জানালেন তাদের অনুভূতির কথা । তারা বললেন এ আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি আমাদের জীবন চলার পথকে আনন্দময় করবে, আরো গতিশীল করবে। সত্যি এই স্বীকৃতির অনুভূতি অন্যরকম।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট