Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

দেশব্যাপী অবরোধ, ভংচুর, অগ্নি সংযোগ, আটক চারশতাধিক, আহত পাঁচশতাধিক ও নিহত ৪

ডেস্ক রিপোর্ট, ০৯ ডিসেম্বর:
নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ১৮ দলীয় জোট দেশব্যাপী অবরোধ কর্মসূচী পালন করেছে। এতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী ব্যাপক সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ঘটেছে পুলিশ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অবরোধ কারীদের সাথে। এতে করে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে গাড়ী ভংচুর, গাড়ীতে অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় পুলিশের হাতে দেশব্যাপী প্রায় চারশতাধিক বিরোধী দলীয় নেতা কর্মী আটক হয়, আহত হয় শতাধিক অবরোধ কারী এবং নিহত হয় ৩ জন। এর মধ্যে পুরান ঢাকায় একজন পথচারী, সিরাজগঞ্জে জামায়াত কর্মী ও ঢাকায় গাড়ীর নিছে চাপা পড়ে একজন অবরোধ কারী নিহত হয়। এছাড়া গতকাল কিশোরগঞ্জ এক বিএনপি নেতা ছাত্রলীগের হামলায় নিহত হয়।

অবরোধ চলাকালে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের হামলায় সিরাজগঞ্জ জামায়াত শিবিরের ২১ নেতা কর্মী মারাত্নক আহত হয়। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হলে। মুমূর্ষ অবস্থায় জামায়াতের অর্থ সম্পাদক নিহত হয়।
সিরাজগঞ্জ জামায়াতের সেক্রেটারী জানান, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ পরিকল্পিত হামলা চালায়। পুলিশ তাদের কিছু না বলে আমাদের কয়েকজন নেতকর্মীদের গ্রেফতার করে।

এদিকে রাজধানীর পুরান ঢাকার জজ কোর্ট এলাকায় আজ রোববার সকালে দুর্বৃত্তের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। তাঁর নাম বিশ্বনাথ দাস (২৪)।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ১৮ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধ কর্মসূচির সমর্থনে আজ সকাল সোয়া নয়টার দিকে ঢাকা জজ কোর্ট এলাকা থেকে বিএনপি-জামায়াতের সমর্থিত আইনজীবীরা একটি মিছিল নিয়ে ভিক্টোরিয়া পার্কের কাছে গেলে একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও কবি কাজী নজরুল ইসলাম কলেজ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আইনজীবীদের ধাওয়া করেন। ধাওয়া খেয়ে পথচারী বিশ্বনাথ দাস দৌড়ে সেখানকার একটি ডেন্টাল ক্লিনিকে আশ্রয় নেন। তখন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় বিশ্বনাথকে এক রিকশাচালক পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিত্সক বিশ্বনাথকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে।
নিহত ব্যক্তির বড় ভাই উত্তম কুমার দাস জানিয়েছেন, ৫৩ নম্বর ঋষিকেশ দাস রোডের বাসা থেকে আজ সকালে কাজের উদ্দেশে শাঁখারীবাজারে যাচ্ছিলেন বিশ্বনাথ। ছাত্রদলের কর্মী মনে করে দুর্বৃত্তরা তাঁকে কুপিয়েছে। বিশ্বনাথ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন বলেও তিনি দাবি করেন।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করেও বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুরে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ৫টি মোটর সাইকেল, একটি ট্রাক ও একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে অবরোধকারীরা।   খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভায়। অপরদিকে আইনশৃংখলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবরোধকারীদের কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ভোরের দিকে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা কাঁচপুর পয়েন্টে জড়ো হতে থাকে। এক পর্যায়ে জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর মুক্তির দাবিতে জামায়াত কর্মীরা মিছিল বের করলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিক্ষুব্ধ জামায়াত কর্মীরা ৩-৪টি গাড়ি ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়। পরে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। সকাল ৭টার দিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা কাঁচপুরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। এক সময় পুরো কাঁচপুর এলাকায় ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। পিছু হটে পুলিশ। বেলা  ১১টার দিকে আওয়ামী লীগের একটি গাড়ি বহর কাঁচপুর এলাকায় গিয়ে মহড়া দেয়। এবং অবরোধকারীদের ধাওয়া দেয়। আধা ঘণ্টা পর অবরোধকারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগের কর্মীদের পাল্টা ধাওয়া দিয়ে কাঁচপুর এলাকা আবারও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ কর্মীরা চাদমহল সিনেমা হল ও একটি পেট্রোল পাম্পের সামনে ৫টি মোটর সাইকেল, একটি বাস ও একটি ট্রাকের আগুন ধরিয়ে দেয়। এবং প্রেস লেখা থাকায় আগুন না ধরিয়ে সাংবাদিকদের দুটি মোটর সাইকেল ভাঙচুর করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাঁচপুর এলাকায় অবরোধকারীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছে। সকাল থেকে যাত্রবাড়ী এলাকায় ভোর থেকে চলছে ভাংচুর, অগ্নি সংযোগ ও পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া।

সাভার এলাকায় অবরোধ কর্মসূচী শান্তিপূর্ণ ভাবে চলছে। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রলীগের নেতৃত্বে মিছিল বের হয় এবং অবরোধ বিরোধী স্লোগান দেয়া হয়।

এদিকে খিলগাঁও এলাকায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে অবরোধ কর্মসূচী চলছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী পালন করছি। যারা সহিংসতা করছে তারা আমাদের লোক নয়।
বিরোধী দলের অবরোধ কর্মসূচির সকালে রাজধানীর অন্যতম প্রবেশপথ গাবতলী ও সাভারের আমিনবাজারে অবরোধকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও সরকার সমর্থকদের ব্যাপক সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। রোববার ভোর ৬টার দিকে অবরোধের শুরুতেই গাবতলী এলাকায় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। এতে ঢাকা-আরিচা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় ডজনখানেক বাসে ব্যাপক ভাংচুর চালায় পিকেটাররা। সংঘর্ষ থামাতে অন্তত ৪০ রাউন্ড টিয়ার শেল ছোঁড়ে পুলিশ। আরো ছোঁড়ে অসংখ্য শটগানের গুলি। আর পুলিশের এমন মারমুখী অবস্থানের সুযোগ নিয়ে পুরো গাবতলী এলাকা থেকে অবরোধকারীদের হটিয়ে দিতে শুরু করে সরকার সমর্থকরা।
এ সময় গাবতলীর কোর্টবাড়ী এলাকা থেকে টার্মিনাল পর্যন্ত এলাকায় ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্র শিবির কর্মীদের মিছিল নিয়ে যেতে দেখা যায়। বেলা সাড়ে ৮টার দিকে অবরোধকারীদের গাবতলী থেকে হটিয়ে দেয় পুলিশ ও সরকার সমর্থকরা। এরপর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয় আমিনবাজারের দিকে। সেখানেও পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় অবরোধকারীরা। এ সময় অন্তত পাঁচটি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়। টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করা হয় হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডেও। নয়েরহাট এলাকাতেও অবরোধকারীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ালে পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে।
রোববার সকালে ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যেই অন্তত একডজন গাড়ি ভাঙচুর করে অবরোধকারীরা। দুই একটি গাড়িতে আগুনও দেয় তারা। সকাল আটটার মধ্যে অন্তত ৫টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। সকাল সাড়ে সাতটার মধ্যেই লাঠি উঠে যায় সবার হাতে। বাসস্ট্যান্ড এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় অবরোধকারীরা। মূল সড়কের বেশ কয়টি স্থানে টায়ারও জ্বালায় তারা। উল্লেখ্য, নির্দলীয় সরকার পুনর্বহালের দাবিতে রোববার ভোর ৬টা থেকে সারাদেশে আট ঘণ্টার এই রাজপথ অবরোধের কর্মসূচি শুরু করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলীয় জোট। অবরোধ ও সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির নেতৃত্বে বিএনপি, যু্বদল, মহিলা দল সহ কয়েকশ নেতা কর্মী রাস্তা অবস্থান করছেন। এতে ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু উপস্থিত আছেন।
তাদের সাথে জামায়াত শিবিরের শতাধিক কর্মী নয়াপল্টনে অবস্থান করছেন।
এর আগে ফকিরাপুল থেকে জামায়াত পল্টন থানার উদ্যেগে এক বিশাল মিছিল বের করে জামায়াত শিবির।
এইদিকে বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও বিরোধী দলীয় চীফ হুইফ জয়নুল আবেদীন ফারুকের নেতৃত্বে মহাখালী বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের অবস্থান কর্মসূচী ও ঝটিকা মিছিল চলছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট