Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিশ্বব্যাংকের বিবৃতি, পূর্ণাঙ্গ নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই অর্থায়ন

দুর্নীতির পূর্ণাঙ্গ নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন করবে বিশ্বব্যাংক। গতকাল এক বিবৃতিতে এ তথ্য প্রকাশ করেছেন বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি অ্যালেন গোল্ডস্টেইন। বিশ্বব্যাংক প্যানেলের সঙ্গে দুদকের দ্বিমত হওয়ার কথা জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসা অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান চান  তারা। বলা হয়েছে , বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু ইস্যুতে তার সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে যদি দুর্নীতি দমন কমিশন তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দুর্নীতির পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে।
এতে বলা হয়, বিশ্বব্যাংক দুদকের তদন্তে সহযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। বিশেষজ্ঞ প্যানেল প্রথম পর্যায়ে বাংলাদেশ সফরকালে দুদককে নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য উৎসাহ দেয়।
এতে আরও বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে দ্বিতীয় দফা সফরে প্যানেল বেশ কিছু অমীমাংসিত বিষয় খুঁজে পায় এবং আবার তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করতে বলে দুদককে।
বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের বাংলাদেশ সফরের দু’দিন পর সংস্থাটির পক্ষে এই বিবৃতি দেয়া হয়েছে। বিবৃতিতে  বলা হয়েছে, বিশেষজ্ঞ প্যানেল তখনই তাদের বক্তব্য জানাবে যখন দুদক তার তদন্ত শেষ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
গত ১লা ডিসেম্বর ঢাকায় আসে লুইস গাব্রিয়েল মোরেনো ওকাম্পোর নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যাংক বিশেষজ্ঞ প্যানেল। ৩রা থেকে ৫ই ডিসেম্বর তিন দফা বৈঠক করেও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা হয়নি দুদকের। এ অবস্থায় ঢাকা  ছেড়েছে বিশেষজ্ঞ দলটি।
৫ই ডিসেম্বর দ্বিতীয় সফরের শেষ দিন বিকালে সোয়া এক ঘণ্টার বৈঠক শেষে সন্ধ্যায়  হেয়ার রোডে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে দেড় ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার  বৈঠক করে বিশ্বব্যাংক প্যানেল। এরপর ফের সন্ধ্যা ৭টায় দুদকে আসে লুই গাব্রিয়েল  মোরেনো ওকাম্পোর নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যাংক বিশেষজ্ঞ দল। ১০  মিনিট দুদকে অবস্থান করে যাওয়ার সময় শুধু বলে যান, আমরা চলে যাচ্ছি। মামলার বিষয়ে কোন মন্তব্য না করেই চলে যান। তদন্ত ও মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে কিছুক্ষণ চুপ থেকে তিনি বলেন, আমরা এখন এয়ারপোর্ট যাচ্ছি। এর বেশি কিছু বলতে চাই না।
দুই দফা ঢাকা সফর করলেও এই প্রথম সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন ওকাম্পো। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হংকংয়ের দুর্নীতিবিরোধী স্বাধীন কমিশনের সাবেক প্রধান টিমোথি টং ও যুক্তরাজ্যের সিরিয়াস ফ্রড অফিসের সাবেক পরিচালক রিচার্ড অ্যাল্ডারম্যান। অর্থমন্ত্রীর বাসা থেকে আর দুদকে ফেরেননি অ্যালেন গোল্ডস্টেইন।
ওই দিন সন্ধ্যায় সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা কবে হচ্ছে- এ বিষয় জানতে চাইলে দুদক  চেয়ারম্যান বলেন, আইনি ব্যবস্থার বিষয়টি দু’একদিনের মধ্যে বিবেচনা করবো। একটু  দেরি হলে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে না।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংক কর্তৃপক্ষ ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করে গত ২৯শে জুন। পরে সরকার অভিযোগ তদন্তে বিশ্বব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি সই করার পর বিশ্বব্যাংক আবার অর্থায়নে ফিরে আসার ঘোষণা দেয় গত ২০শে  সেপ্টেম্বর।
সূত্রমতে বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ দলটি ফিরে গিয়ে তাদের প্রতিবেদন দেবে। দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও গৃহীত আইনি পদক্ষেপে সন্তুষ্ট না হলে বিশ্বব্যাংক কি সিদ্ধান্ত নেবে সে বিষয়ে পরিষ্কার আভাস দেয়া হয়েছে অ্যালেন গোল্ডস্টেইনের গতকালের বিবৃতিতে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট