Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

সরকারের রিমোর্ট শেখ হাসিনার হাতে

৮ ডিসেম্বর : বাংলাদেশের সংবিধানে উপদেষ্টা মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর অধিকার ও ক্ষমতা  স্বীকৃত থাকলেও নেপথ্যে থেকে সব ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর হাতের পুতুল। প্রধানমন্ত্রীর আঙ্গুল হেলনেই সমস্ত আসাধ্য সাধন হয়। দল সরকার ও আন্তর্জাতিক ইস্যুসহ সর্বক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রীর কর্তৃত্ব। শেখ হাসিনার অনুমতি ছাড়া দলীয় নেতা ও মন্ত্রীরা কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুখও খুলতে চান না। কারণ দল ও সরকারের  রিমোর্ট হাসিনার হাতে।  সরকার সংশ্লিষ্টদের দাবি হিটলার মারতো বন্দুকের নলে আর হাসিনা মারে কূটনৈতিক কৌশলে।  এ কারণে মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে আসে অযোগ্যতা, অদক্ষতা ও ব্যর্থতার অভিযোগ।  তাই আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক  কোন বিষয়ে মন্ত্রীরা সিদ্ধান্ত নিতে সাহস করেন না। প্রতিনিয়ত তটস্থ থাকেন নিজেদের ভাগ্য সম্পর্কে । সমস্ত দায়দায়িত্ব শেখ হাসিনার ওপর ছেড়ে দিয়ে তাকে তুষ্ট রেখে নিজেদের নিরাপদ রাখেন। আতঙ্ক থেকে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে হাসিনার কাছে নিজেদের সমর্পনের প্রবণতায়  জনগণের মাঝে গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে দল ও সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা। কোন সমস্যা হলে সবাই মন্ত্রী উপদেষ্টা এড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ধর্না দেন। বিদ্যুতের লোডশেডিং থেকে দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠনে অস্থিরতা, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারী, বিরোধী দলের আন্দোলন, নিজ দলের আভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সাংগঠনিক দুর্বলতা, হলমার্ক সঙ্কট, রামুর সহিংস ঘটনা পর্যন্ত সব বিষয়ে হাসিনার খবরদারি। কেউ মন্ত্রী-উপদেষ্টার কাছে যেতে উতসাহ পাননা।
এই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি মানুষের অতিমাত্রায় নির্ভরতার কারণ জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, শেখ হাসিনা জননন্দিত  প্রধানমন্ত্রী। তাঁর প্রতি মানুষের আস্থা, তাঁর দক্ষতা ও কর্মকান্ডে তিনি মানুষের আশা আকাঙ্খার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। সংগত কারণে এই প্রধানমন্ত্রী  মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে চলছে দাবি করে এই আওয়ামী লীগ নেতা  বলেন শেখ হাসিনাই মানুষের আশ্রয়স্থল।

মন্ত্রীসভার অধিকাংশ সদস্যের ব্যর্থতায় বিব্রত ও ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী।এ নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা ও করেন তাঁরা। আবার ক্ষমতাসীন মহাজোটের শরিকদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে,তারা  মন্ত্রীদের দায়ভার নেবেনা। অনেকের মতে এক-এগারো পরবর্তী পরিস্থিতিতে বড় অভিজ্ঞ নেতাদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত নবীনদের নিয়ে মন্ত্রী সভা ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের কারণেই এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

এপ্রিল মাসে ভাইস-চ্যান্সেলরের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের আন্দোলনে বন্ধ হয়ে যায় জাহাঙ্গির নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে।  অবশেষে ৩ মে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন শিক্ষকরা। একদিন পর বুয়েট শিক্ষক সমিতির সাথে বৈঠক  করে সমস্যার  সমাধান করেন শেখ হাসিনা। তার আগে শিক্ষক নেতাদের সাথে বৈঠক করে ব্যর্থ হন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। যদিও ফের আন্দোলনে উত্তপ্ত হয় বুয়েট ,তবে পরে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। চলতি বছর চাকুরি সরকারিকরণের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দেয় বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। ১৩ মে থেকে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে অবস্থান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন তারা। পুলিশের বাধা  ও লাঠিপেটায় বেশ কয়েকজন শিক্ষক আহত হন, মারাও যায় একজন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আফসারুল আমিন শিক্ষক নেতাদের সাথে বৈঠক করেও সমস্যার সমাধান করতে পারেননি। অগত্যা প্রধানমন্ত্রী ২৭ মে বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ নেতাদের   সাথে বৈঠক করার পর আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে।কিছুদিন পর এমপিওভুক্তর দাবিতে আন্দোলনে নামেন নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারিরা। গত ৪ অক্টোবর সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী তাদের সাথে বসবেন এমন আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত হয়।  সাগর রুনি হত্যাকান্ড, সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ড কিংবা বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী নিখোজের ব্যাপারেও হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। নিখোঁজের পর ইলিয়াস আলীর স্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে তার সাহায্য চান। তারপরও ইলিয়াস আলীর খোজ মেলেনি। শেয়ারবাজার ধস নিয়েও প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের  সাথে বৈঠক করেছেন।  মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে উদ্ভুত সঙ্কটও  নিরসন করতে হয় প্রধানমন্ত্রীকে। তামিম ইকবালকে বাদ দেওয়ায় প্রধান নির্বাচক আকরাম পদত্যাগ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সমস্যার সমাধান আসে। গত বছর অক্টোবরে পাইলটদের সাথে বিমান প্রশাসনের দ্বন্ধের নিরসন ও করেন প্রধানমন্ত্রী । পাইলটদের অবসরে যাওয়ার বয়স ৫৭ থেকে ৬২ বছর করাসহ পাঁচ দফা দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেন পাইলটরা। বিমান কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাইলট এসোসিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ পাঁচজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় এবং তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। ততকালীন বিমানমন্ত্রী জিএম কাদের  ও বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান জামালউদ্দিন পাইলটদের সঙ্গে বৈঠক করেও এর সুরাহা করতে না পারায় প্রধানমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

মন্ত্রীদের এই ব্যর্থতার কারণ জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যতরিকুল ইসলাম বলেন, কাগজে কলমে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার থাকলেও বাস্তবে রাষ্ট্রপতির শাসন চলছে। তিনি মনে করেন প্রধানমন্ত্রীই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারি। সমাধানের চাবিকাঠি তার কাছে। প্রধানমন্ত্রীর পরে যারা আছেন তারা যেমন অযোগ্য অদক্ষ তেমনি  সমস্যা সমাধানের  কোন ক্ষমতাও তাদের নেই।
গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশারেফা মিশু তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, মন্ত্রীসভার নীতি নির্ধারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের  কারণে  মন্ত্রীসভা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেনা। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে দেশে এক সদস্য বিশিষ্ট কেবিনেট শাসন চলছে। এতে মনে হচ্ছে বর্তমান মন্ত্রী পরিষদ ঠুটো জগন্নাথ। বিশাল অর্থ ব্যয়ে মন্ত্রী পোষা অর্থহীন। এটা সংসদীয় পদ্ধতির  সরকারের নামে তামাশার সরকার।

এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বলেন, আজকে দেশে ব্যবহারিকভবে সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা নেই। সরকারে ভয়ানক সঙ্কট বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর উচিত ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পরিবর্তে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করা। শেখ হাসিনার ইশারায় মন্ত্রীদের মন্ত্রীত্ব যে কোন চলে যেতে পারে। তাই মন্ত্রীরা কোন সাহসী সিদ্ধান্ত তো দূরের কথা ভয়ে মুখও খুলতে পারছেনা।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেমন  সরকার প্রধান  তেমনি দলীয় প্রধান। তিনি অসীম ক্ষমতার অধিকারি, সমস্ত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগ প্রধানমন্ত্রীর অধীনস্থ। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর অনুগত। এই এককেন্দ্রিক শাসনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি তৈরী করে মহিমা অর্জন করতে চান।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট