Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ফাইনাল আজ

দু’দল এখন সমান সমান। বাংলাদেশ ২-২ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষ ম্যাচেই ফয়সালার অপেক্ষা। টানা দুই জয়ের পর বাংলাদেশের দু’ম্যাচে হার। বাংলাদেশের সিরিজ জয়কে ঠেকিয়ে দিয়ে এখন সিরিজ জয়ের স্বপ্নে বিভোর ওয়েস্ট ইন্ডিজও। পাঁচ ম্যাচ সিরিজের শেষটি আজ। এটিও হবে মিরপুরে এবং দিবারাত্রির। স্পিনারদের দাপটে চতুর্থ ওয়ানডেতেই সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই স্বপ্ন বুমেরাং হয়ে ধরা দেয় বাংলাদেশ দলের সামনে। সকালের আমীর যেন বিকালের ফকির। দারুণ শুরুর ম্যাচটির কি করুণ পরিণতি। জয় দূরে থাক, ১৩ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর ১৩৬ রানে অলআউট ব্যাপারটি তাই অনেককেই স্বস্তি দেয়। চরম লজ্জার হাত থেকে নিষ্কৃৃতি পাওয়াই ছিল সান্ত্বনা। সিরিজে প্রথম ২ ম্যাচ হারের পর টানা দুটি জয় তুলে নিয়ে সমতায় ফিরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গতকাল ২১২ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ অলআউট ১৩৬ রানে। টপ ও মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের সীমাহীন ব্যর্থতায় ৭৫ রানে বরণ করে নেয় সিরিজের দ্বিতীয় পরাজয়। বাংলাদেশ দলের হয়ে একমাত্র লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে থাকেন সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তিনি শেষ পর্যন্ত ৭৮ বলে ৫৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। ম্যান অব দ্য ম্যাচ হতে পারতেন তিনিও। কারণ তিনটি উইকেটও পেয়েছিলেন তিনি।
২১২ রানের ল্য মোটেও অসম্ভব মনে হয়নি কারও কাছে। দর্শকদের মনে বরং আশার আলোই ছিল। তামিম ইকবাল আর আনামুল হক যখন জবাব দিতে মাঠে নামেন তখন দেশজুড়ে দর্শকরাও বেশ খোশ মেজাজেই গা এলিয়ে বসেন। কিন্তু চোখের পলকে বদলে গেল সব। আকস্মিক ভূমিকম্পের মতো স্যামি আর রোচের বলে তছনছ হয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। সিরিজ জয়ের প্রত্যাশায় মিরপুরের মাঠে আটকে থাকা কোটি বাঙালির মনে বিঁধতে শুরু করে একের পর এক সেল। ক্যারিবীয় পেস আক্রমণে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং লাইন। ৩ রানে প্রথম, চার রানে দ্বিতীয়, দেখতে দেখতে ৭ রানে চতুর্থ আর ১৩ রানে ৫ উইকেট নেই। একটু পরে টিভি সেটের সামনে আসা অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে স্কোর লাইন। বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে এ মাঠেই বাংলাদেশ অলআউট হয়েছিল ৫৮ রানে। এবার আশঙ্কা দেখা দেয় তারও কমে আউট হওয়ার। দ্বিতীয় ওভারে ড্যারেন স্যামির চতুর্থ বলে আনামুল আউট হন মাত্র ১ রান করে। পরের বলেই স্যামির দ্বিতীয় শিকার নাঈম। রোচের করা পরের ওভারের প্রথম বলে তামিম বোল্ড ১ রান করে। দুই বল পরে ২ রানে নাসিরকেও ফেরান তিনি। নিজের তৃতীয় ওভারে স্যামি সাজঘরে ফেরান ১ রান করা মমিনুল হক সৌরভকে। এক প্রান্তে মুশফিক তখন নীরবে দেখতে থাকেন তার সতীর্থদের আসা-যাওয়া।
এরপর বিপর্যয় এড়াতে লড়াই শুরু করেন মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। কোটি বাঙালরি বুকের হৃদস্পন্দন আবারও জাগিয়ে তুলেন এই দুজন। তাদের লড়াইয়ে ১৩  রান থেকে ১৮ ওভার শেষে ৫ উইকেটে বাংলাদেশের  স্কোর দাঁড়ায় ৭৬ রান। ১৪.৪ ওভারে বাংলাদেশ ৫০ রানের কোটা পার হয়। এরপর ৫৮ রান পার হতেই সবার বুক থেকে নেমে যায় আরেকটি লজ্জার শঙ্কা। তবে ৫৮ ছাড়াও বাংলাদেশের আস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৭৪, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৭৬, ভারতের বিপক্ষে ৭৬ ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে করা সর্বনিম্ন রানের স্কোরটি পার করে। বাংলাদেশ দল ৫৮ থেকে ১০০ রানের মধ্যে আউট হয়েছে ১৪ বার। মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদুল্লাহ ৭৪ রানের জুটি আরেকটি লজ্জার হাত থেকে মুক্তি দেয়। দলীয় ৮৭ রানের সময় আবার ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ৫৮ বলে ২৭ রান করা মুশফিক অহেতুকভাবেই স্টাম্পড হন নারিনের বলে। বলের লাইন মিস করে নিজেকে সামলে রাখতে না পেরে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন তিনি। এরপর বাংলাদেশ দলের হাল ধরতে আসেন সোহাগ গাজী। কিন্তু ২৬ রানের জুটি গড়ে একটু আশার আলো জাগিয়ে বিদায় নেন গাজী। তার ব্যাট থেকে আসে ২২ বলে ১৩ রান। ১১৩ রান ৭ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। আশার বুকে শেষ পেরেকটি যেন ঠুকে দেন বাংলাদেশের আম্পায়ার এনামুল হক মণি। সোহাগকে তার আউটের সিদ্ধান্তটি যে ঠিক ছিল না তা টিভি রিপ্লেতে পরিষ্কারই বোঝা যায়।
এর পর ইলিয়াস সানি নামলেও তিনি দলের হাল ধরতে ব্যর্থ হন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসারদের পর স্পিনার তো আর চুপ করে বসে থাকতে পারেন না। অভিষেকে দুই উইকেট তুলে নেয়া পারমল সোহাগ গাজীকে ফেরানোর পর সানিকে ০ রানে ফেরান সাজঘরে। তখনও ক্রিজে অবিচল মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তার সঙ্গে দলের হাল ধরেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ তার ৮ম ওয়ানডে ফিফটি তুলে নেন। আর সেই সঙ্গে বাংলাদেশ দলকে বড় পরাজয়ের লজ্জা থেকে মুক্তি দিতে একটু একটু করে এগিয়ে যেতে থাকেন। কিন্তু তাকে সঙ্গ দেয়ার মতো সতীর্থরা যে আসা যাওয়ার মিছিলেই যোগ দিয়েছেন। দলীয় ১৩২ রানে সাজঘরে ফিরেন মাশরাফিও। তার সংগ্রহ ১৬ বলে ৬ রান। ক্রিজে আসেন আবদুর রাজ্জাক। তবে রাজ্জাক ৩ রানে স্মিথের বলে এলবির ফাঁদে পড়লে ৩৪.১ ওভারে ১৩৬ রানেই থামে যায় বাংলাদেশ দলের রানের চাকা।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট