Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

চাঁদাবাজির টাকায় পিস্তল কিনে আমির, বহন করতো পঙ্গু স্ত্রী বিউটি

 চাঁদাবাজির টাকায় অস্ত্র কিনে পরাগ অপহরণকারী শীর্ষ সন্ত্রাসী মুক্তার হোসেন ওরফে টুণ্ডা আমির। অপারেশনের আগে ও পরে বাহিনীর অস্ত্র বহন করতো তারই পঙ্গু স্ত্রী বিউটি। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য দিয়েছে পরাগ অপহরণের মূল হোতা টুণ্ডা আমির। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, পরাগ অপহরণে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক মডেলের সাদা রঙের পিস্তলটি পুরান ঢাকার এক অস্ত্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তিন লাখ টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করেছিল। কেনার এক সপ্তাহের মধ্যেই ওই পিস্তল দিয়ে চাঁদাবাজির তিনটি অপারেশন চালিয়েছিল। ওই অপারেশনেই তার অস্ত্র কেনার টাকা উসুল হয়েছে বলে স্বীকার করেছে। সূত্রমতে, পুরান ঢাকার অস্ত্র সরবরাহকারী ওই অস্ত্র ব্যবসায়ীকে খুঁজছে পুলিশ। তাকে ধরার জন্য ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। যাতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারে। পুলিশ জানায়, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তারের পরপরই পরাগ অপহরণের উদ্দেশ্য, পরিকল্পনাকারীদের নাম ও তার ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে তথ্য আদায়ের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। গতকাল ছিল রিমান্ডের ৮ম দিন। এদিন পরাগের মা লিপি রানী ও বোনকে গুলি করার কথা স্বীকার করেছে। তার সঙ্গে কারা ছিল তাদের সবার নাম বলেছে। পরাগকে কোথায় ও কিভাবে রেখেছিল তার বর্ণনা দিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদকারী পুলিশের তদন্ত সূত্র জানায়, পরাগ অপহরণের সময় সন্ত্রাসী আমির দুই হাতে দুটি অস্ত্র ব্যবহার করেছিল। এর একটি ছিল পয়েন্ট টু টু বোরের আমেরিকার তৈরি অন্যটি পয়েন্ট সিক্স ফাইভ বোরের। দুটি অস্ত্রই পুলিশ উদ্ধার করেছে। পরাগের মা ও বোনের শরীর থেকে বের করা গুলির সঙ্গে আমিররের কাছ থেকে উদ্ধার করা ওই অস্ত্র মিলিয়ে দেখার জন্য সিআইডির ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। সিআইডির ফরেনসিক বিভাগে ব্যালিস্টিক পরীক্ষায় গুলি ও পিস্তলের রিপোর্ট দেয়ার পরপরই আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে তদন্ত কর্মকর্তা ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ওসি (তদন্ত) মো. মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আদালতের মঞ্জুর করা  ১০ দিনের রিমান্ডে পরাগকে অপহরণ ও তার মা-বোনকে গুলি করার কথা স্বীকার করেছে সে। নিজেই পরিকল্পনাকারী হিসেবে দায় স্বীকার করেছে। উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিপণ আদায়। তবে মুক্তিপণ পেয়েছিল কিনা সে বিষয়ে কোন তথ্য দেয়নি সে। সূত্র জানায়, স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় ১০-১২ জনের সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছিল। বাহিনীর বেশিরভাগ সদস্যকে অস্ত্র সরবরাহ করেছিল। তার কাছে রাখতো দামি অস্ত্রগুলো। অপারশেনের আগে ও পরে তার স্ত্রী বিউটির মাধ্যমেই ওইসব অস্ত্র বহন করতো। এ বাহিনীর সহায়তায় সে কেরানীগঞ্জ ও আশপাশের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নিয়মিত চাদা আদায় করতো।
গত ২৪শে নভেম্বর দিবাগত রাতে রাজধানীর পাশে টঙ্গির তিলারগাতি এলাকার সৌদি প্রবাসী মনিরুল ইসলামের বাড়িতে এক রুদ্ধশ্বাস অভিযান পরিচালনা করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ পরাগ অপহরণকারী মুক্তার হোসেন ওরফে টুণ্ডা আমিরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আমির তার অবস্থান করা ঘরের দরজা বরাবর দুই রাউন্ড গুলি করলে পুলিশ পাল্টা গুলি চালিয়ে তাকে কাবু করে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে পুলিশের ১০ দিনের রিমান্ড হেফাজতে নেয়া হয় তাকে। এর আগে গত ১১ই নভেম্বর স্কুলে যাওয়ার পথে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পশ্চিম শুভাঢ্যা এলাকার নিজ বাড়ির সামনে থেকে  প্রথম শ্রেণীর ছাত্র পরাগকে অপহরণে করেছিল তার বাহিনী। এ সময় তার মা লিপি রানী মণ্ডল (৩৫), বোন পিনাকী মণ্ডল ও গাড়িচালক নজরুল ইসলামকে গুলি করেছিল। ওই রাতেই পরাগের দাদি সাবিত্রী মণ্ডল বাদী হয়ে অপহরণ মামলা করেন। অপহরণের তিনদিন পর আঁটি বাজারে নয়াবাজার এলাকার রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধার হয় প্রায় অচেতন পরাগ। চিকিৎসা শেষে বুধবার তাকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরাগকে উদ্ধারের পরদিন এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মামুন নামে একজনকে মুন্সীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আর র‌্যাব একই দিনে জাহিদুল হাসান, মোহাম্মদ আলী ওরফে রিফাত, কালা চাঁন, আলফাজ, রিজভী আহমেদ অনিক ও আবুল কাশেম নামে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে।  গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে জাহিদুল, কালা চাঁন ও আলী ওরফে রিফাত অপহরণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে। তাদের তিনজনের বক্তব্যেই অপহরণের পরিকল্পনার ‘মূল হোতা’ হিসেবে আমীরের নাম বেরিয়ে আসে। গত ২১শে নভেম্বর রাজবাড়ির গোয়ালন্দ ফেরিঘাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মূল হোতা আমিরের মোটরসাইকেল চালক আলামিন ও সহযোগী শাহিনকে। তাদের দেয়া তথ্য মোতাবেক কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের সাবেক যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম ওরফে জুয়েল মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা পৃুলিশের গোয়েন্দা দল। একই তথ্যের ভিত্তিতে ধরা পড়ে আমির।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট