Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

শেষ বিচারে আমি থাকবো বাদী: ট্রাইব্যুনালে সাঈদী

ঢাকা: মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী  বলেন, এই বিচার দুই পর্বে শেষ হবে। এক পর্বে আপনারা বিচারক, আমি আসামি। দ্বিতীয় পর্বে আরেকটি বিচার হবে কেয়ামতের মাঠে। যেখানে বিচারক হবেন আল্লাহ। ওই বিচারের দিন আমি থাকবো বাদী। আপনাদের করবো বিবাদী।

বৃস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে বক্তব্য দেয়ার অনুমতি দিলে সাঈদী এ কথা বলেন।

সাঈদী তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের শূরুতেই বিসমিল্লাহ বলে নিজের পরিচয় দেন। এরপর তিনি বলেন, এদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের সব জায়গায় সাঈদী নামে আমাকে সবাই চেনে। আমাকে আমার নাম বিকৃত করে কখনো দেলু, কখনো দেইল্যা, কখানো রাজাকার বলে অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রসিকিউশন, তদন্ত কর্মকর্তার পক্ষ থেকে আমাকে হেয় করার জন্য চুরি, ডাকাতি, হত্যা, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণের মতো জঘন্যতম অভিযোগ আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় এমপির পরামর্শে আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় এবং বর্তমান সরকারের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিরোজপুর ১২/১৪ বার গিয়েছেন সাক্ষী তৈরি করার জন্য।

তিনি পবিত্র কুরআন হাত নিয়ে বলেন, আমি এই কুরআন শরীফ ধরে বলছি, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাদের সবারই কিয়ামত ও জাহান্নামের ভয় আছে।

তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে চার হাজার পৃষ্ঠার যে ২০টি অভিযোগ তৈরি করেছেন আমি আপনাদের তিনজনের উপর ভরসা রাখি আপনারা ন্যায় বিচার করবেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন দুনিয়াতে যারা ন্যায় বিচার করবে না, তাদের ঠিকানা জাহান্নামে। এবং যারা ন্যায় বিচার করবে তাদেরকে আরশের নিচে ছায়া দেবেন।

সাঈদী বলেন, যে তদন্ত কর্মকর্তা, প্রসিকিউশনের পক্ষে থেকে যারা মিথ্যা রচনা করেছেন তাদেরকে আল্লাহ হেদায়াত করুক। তারা যেন তওবা করেন। আল্লাহ তাদেরকে হেফাজত করুন।

তিনি বলেন, আমার পরিবার, ছেলে-মেয়ে, আত্মীয় স্বজন দেশবাসী যারা আমার জন্য তাদের চোখের পানি ফেলেছেন, আমার এবং তাদের যে কষ্ট দিয়েছেন আল্লাহ তাদের যেন বিচার করে।

তিনি বলেন, আমাকে বিনা অপরাধে সাজা দিলে আমার অভিশাপের অগ্নিশিখা জ্বলবে।
এ সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ডিফেন্সপক্ষ আমিন আমিন বলে রব তুলেন। সাঈদীর এ বক্তৃতার সময় ট্রাইব্যুনালে পিনপতন নিরবতা নেমে আসে।

তার বক্তৃতা শেষে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নিজামুল হক বলেন, আল্লাহ যে দায়িত্ব আমাদেরকে দিয়েছেন তা যেন আমরা পালন করতে পারি। আমরা সাক্ষ্য প্রমাণ দেখেই এ মামলার রায় দেব। কাগজপত্রে যা আছে তার মধ্যে নিজেদেরকে রেখে রায় দেব।

এরপর ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায় যে কোনো দিন দেয়া হবে মর্মে কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।

পরে প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, দীর্ঘ প্রায় এক বছর শেষে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলা নং ১ অর্থাৎ সাঈদীর মামলার কার্যক্রম আজ শেষ হলো।

তিনি বলেন, গত বছরের সাত ডিসেম্বর থেকে এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। আজ সব কার্যক্রম শেষে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি অপেক্ষমান আদেশের দিন ধার্য করেন।

সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, আসামির বিরুদ্ধে আনীত ২০টি অভিযোগের মধ্যে ১৯ টি প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের দাখিলকৃত দালিলিক প্রমাণ এবং সাক্ষীদের জবানবন্দির মাধ্যমে আশা করছি তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে।

অন্যদিকে আসামি সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম বলেন, সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে। প্রসিকিউশনের আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্য ও বানোয়াট। এ অভিযোগে তার ১ দিনের জন্যও শাস্তি হতে পারে না।

তিনি বলেন, দেলোয়ার হোসেন শিকদার নামের এক রাজাকারের অভিযোগ সাঈদীর উপর চাপানোর চেষ্টা করেছে প্রসিকিউশন।

তিনি বলেন, শিকদার এবং সাঈদী এক নয়। শিকদার ভিন্ন ব্যক্তি । প্রসিকিউশন তার অভিযোগ সাঈদীর নামে চালিয়ে দিচ্ছে।

গত ৫ নভেম্বর থেকে সাঈদীর মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে প্রসিকিউশন তাদের যুক্তি উপস্থাপন শুরু করে ১৫ নভেম্বর সম্পন্ন করেন।

প্রসঙ্গত, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটককৃতদের মধ্যে একমাত্র দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন, আসামিপক্ষের সাক্ষী ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ সবার জবানবন্দি গ্রহণ এবং জেরা শেষ হয়েছে। মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য প্রসিকিউশনের  ও আসামিপক্ষের যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষ হল।

এখন শুধু মামলাটির রায়ের অপেক্ষায় থাকলো।

সাঈদীকে একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন গ্রেফতার করা হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১০ সালের ২ নভেম্বর তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

গত বছরের ১৪ জুলাই তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। ৩ অক্টোবর সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলায় বিচার শুরু হয়।

সাঈদীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে পিরোজপুর জেলায় হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ এবং এ ধরনের অপরাধে সাহায্য করা ও জড়িত থাকার ঘটনায় ২০টি অভিযোগ আনা হয়।

এ মামলায় সাঈদীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় গত বছরের ৭ ডিসেম্বর।
এরপর ২ সেপ্টেম্বর থেকে আসামিপক্ষের সাক্ষীদের সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

আসামিপক্ষে ১৭ জনের সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ ২৩ আক্টোবর শেষ হয়। ওইদিনই এমামলায় উভয়পক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত করে যুক্তিতর্ক পেশের দিন ধার্য করা হয়।প্রসিকিউশনের মূল সাক্ষী ১৮জন, সিজারলিস্টের ৯ জন ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) হেলাল উদ্দিনসহ মোট ২৮ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ২০ জন ঘটনার এবং সাতজন জব্দ তালিকার সাক্ষী। এছাড়াও প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে আইও’র কাছে দেয়া ১৫ সাক্ষীর জবানবন্দি ট্রাইব্যুনালের আদেশে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট