Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

থানায় বিয়ে ইমন-জিনাতের

এ যেন অভিমান পর্ব শেষ। রাগ করে বাড়িছাড়া দু’জনই। সাঁড়াশি কায়দায় অভিযান। ধর্ষণের অভিযোগ। মদের বোতলসহ পত্র-পত্রিকায় ছবি ছাপা। রাতভর থানাতেই সালিশি চলে দু’পক্ষের। অবশেষে আসে শুভলগ্ন। মন গলে উভয়েরই। জিনাতকে বউ করে নিতে রাজি হয় ইমন। নিজের ভুল স্বীকার করে ইমন। রাত পোহাতেই কাজী হাজির। হাজির জিনাতের স্বজনরাও। পুলিশের বেষ্টনীতে পাত্র-পাত্রী বলে ওঠে ‘কবুল’। আসামীদের যখন ডাণ্ডা-বেড়ী পরিয়ে আদালতে নেয়ার কথা নগরীর ব্যস্ততম থানা রমনায় তখন চলছে বিয়ের আয়োজন। এসেছে মিষ্টির প্যাকেটও। পুলিশের সঙ্গে সঙ্গে আসামীরাও মোনাজাত ধরলেন। শুভ কামনা চাইলেন উভয়ের জন্য। বিয়ে তো হলো। কিন্তু বাসর করা হলো না ইমন-জিনাতের। জিনাতের আদালত থেকে রেহাই পেলেও ঢাকার মহানগর মুখ্য হাকিম আদালত শওকত আলী ইমনকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
বুধবার সারা দিনের শ্বাসরুদ্ধকর নাটকীয়তা শেষে গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন সংগীত পরিচালক শওকত আলী ইমন ও প্রেমিকা জিনাত কবীর। দুই পক্ষের স্বজনদের উপস্থিতিতে বিয়ের কাজটি সম্পন্ন হয় রমনা থানাতেই। দুই পরিবারের নিকটজনদের কাছ থেকে জানা গেছে, দু’পক্ষের সমঝোতার লক্ষ্যেই তড়িঘড়ি করে থানাতেই বিয়ে সম্পন্ন হয়। এ সময় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলমসহ  থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। যদিও বিয়ের বিষয়টি গতকাল সকাল থেকেই অস্বীকার করে যাচ্ছেন থানা কর্তৃপক্ষ। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মিষ্টিও বিতরণ হয় রমনা থানায়। ১০ লাখ টাকা দেনমোহরের এ নাটকীয় বিয়ের বিষয়টি গতকাল বেলা ১২টার দিকে মানবজমিনকে নিশ্চিত করেন জিনাত কবীর নিজেই। মুঠোফোনে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, ইমন আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছে। অনুরোধ করেছে মামলা প্রত্যাহারের। আমিও ভাবলাম, আমাদের উভয় পক্ষেরই যা ক্ষতি হওয়ার হয়েছে, এখন আর মামলা-মোকদ্দমা করে লাভ কি? তাছাড়া ইমন যখন নিজের ভুল স্বীকার করেছে এবং আমাকে বিয়ে করার জন্য সম্মতি প্রকাশ করেছে তখন আমি তাকে নিঃশর্তভাবে ক্ষমা করেছি। বলেছি, ওর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করে নেবো। জিনাত কবীর আরও বলেন, ইমন এখন (গতকাল বেলা ১২টার দিকে) আদালতে জামিনের জন্য অপেক্ষা করছে। আপনারা দোয়া করেন যেন আজ (গতকাল) ইমন আদালত থেকে জামিন পেয়ে যায়। আমিও মামলার বাদী হিসেবে যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। আমরা আসলে সব ভুলে এখন সামনের দিকে তাকাতে চাই। উল্লেখ্য, সাবেক প্রেমিকা এবং বর্তমান স্ত্রী জিনাত কবীরের অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার আটক হন শওকত আলী ইমন। ওইদিন দুপুরের দিকে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলমের তত্ত্বাবধানে একদল পুলিশ ইমনের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর শওকত আলী ইমনের বিরুদ্ধে জিনাত কবীর বাদী হয়ে শিশু ও নারী নির্যাতন আইনে প্রতারণা এবং ধর্ষণের একটি মামলা এবং মাদকদ্রব্য আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।
সেই প্রেক্ষিতে গতকাল সকালে বাদী ও বিবাদীর বিয়ের ঝটিকা কার্যক্রম শেষ করে রমনা থানা থেকে মামলা প্রত্যাহার এবং জামিনের লক্ষ্যে শওকত আলী ইমনকে চালান করা হয় মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে। সেখানে নারী নির্যাতনের মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট জয়নাব বেগম ইমনকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর কিছুক্ষণ পরই মাদকের মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট এম এ সালামের আদালতে নেয়া হয় ইমনকে। সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে একদিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন মঞ্জুর করেন। রমনা থানা পুলিশ তাকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেছিল।
বিষয়টি নিশ্চিত করে শওকত আলী ইমনের পরিবারের এক সদস্য মানবজমিনকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অথচ রিমান্ডবিহীন বেকসুর খালাসের লক্ষ্যেই গতকাল সকালে মামলার বাদী-বিবাদী সমঝোতায় আসেন। যে সমঝোতার পুরোটা জুড়েই ছিল রমনা থানা কর্তৃপক্ষ। সে পরিপ্রেক্ষিতেই বিয়ে হয়। অথচ আদালত প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেল পুরো উল্টো চিত্র। এ নিয়ে জিনাত কবীরও ভীষণভাবে হতাশ হয়েছেন। কারণ, তিনি মামলার বাদী হয়েও সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন আসামিকে রিমান্ডবিহীন জামিনের জন্য। আর এসব মিলিয়ে জিনাতকে বিয়ে করেও শেষতক জামিন পেলেন না ইমন। উল্টো এক দিনের রিমান্ডে যেতে হলো তাকে। রিমান্ড শেষে শনিবার ফের আদালতে পাঠানো হবে ইমনকে। এদিকে জিনাত কবীর তার মামলা দু’টি প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট