Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

প্রেমিকা জিনাতের মামলায় গ্রেপ্তার ইমন

প্রতারণা ও ধর্ষনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক শওকত আলী ইমন। ইয়াবা এবং ৬ বোতল ফেনসিডিলসহ পুলিশের হাতে আটক হলেন এই সংগীত পরিচালক। গতকাল দুপুরে রমনা থানার ওসি শাহ্‌ আলমের তত্ত্বাবধানে একদল পুলিশ ইমনের স্কাটনস্থ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের ভাষ্য, শওকত আলী ইমনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ধর্ষণের অভিযোগ এনে গত মঙ্গলবার রাতে রমনা থানায় নারী নির্যাতনের মামলা করতে যান জিনাত কবীর (২৫)। এই প্রেমিকার অভিযোগের ভিত্তিতেই গতকাল আটক করা হয় ইমনকে। এদিকে রমনা থানার ওসি শাহ আলম জানান, শওকত আলী ইমনের বিরুদ্ধে ২০০৪ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের আওতায় নারী নির্যাতন ও ধর্ষনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। রমনা থানা মামলা নং: ১৪। থানা সূত্রে আরও জানা যায়,আজ সকাল নাগাদ কোর্টে চালান দেয়া হবে আসামীকে। একই সাথে মাদকদ্রব্য আইনে একটি মামলা হবে। এদিকে রমনা থানায় দেয়া শওকত আলী ইমনের বিরুদ্ধে জিনাত কবীরের অভিযোগপত্রের বিবরণে জানা যায়, বিয়ে করার নামে দীর্ঘ এক বছর বিভিন্ন কৌশলে নিজের বাসায় জিনাতের সঙ্গে বসবাস করেন  ইমন। এক বছর পার হয়ে যাওয়ার পর বিয়ের জন্য চাপ দিতেই নানা কৌশলে এড়িয়ে যেতেন, এমনকি জিনাত কবীরকে মারধরও করতেন ইমন। শুধু তাই নয়, বেশি বাড়াবাড়ি করলে ফেসবুকে নগ্ন ছবিও ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেন ইমন। ইতিমধ্যে জিনাতের বেশ কিছু অশ্লীল ছবি জিনাতের পরিচিত কিছু ফেসবুক ফ্রেন্ডদেরকে ট্যাগ করে দিয়েছেন বলেও মামলার এজহারে উল্লেখ করেছেন জিনাত। জিনাত কবীর আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘ফেসবুকে এসব নোংরা ছবির খবর প্রকাশ হওয়ার পর আমার পরিবার থেকেও আমি বিতাড়িত। এদিকে ইমনও আমাকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। ঝামেলা করলে আমাকে মডেল অভিনেত্রী প্রভার মতো অশ্লীল ভিডিও ক্লিপসও ছাড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন ইমন। এখন আমার জীবন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। এমতাবস্থায় আত্মহত্যা ছাড়া আমার আর কোনো পথ নেই বলে শেষ পর্যন্ত আইনের শরণাপন্ন হই। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।’ এদিকে গতকাল রমনা থানায় প্রেস বিফিংয়ে শওকত আলী ইমন দাবি করেন, এর সবই তার বিরুদ্ধে সাজানো ষড়যন্ত্র। এদিকে ইমনের সঙ্গে প্রণয়ে জড়িয়ে যাওয়ার বিষয়ে জিনাত মানবজমিনকে বলেন, ‘গত বছরের (২০১১) মাঝামাঝিতে ফেসবুকে আমার সঙ্গে পরিচয় হয় তার। তখনও আমি তার সম্পর্কে তেমন কিছুই জানি না। ইমনের কাছ থেকেই শুনেছি তিনি বাংলাদেশের আলোচিত একজন মিউজিশিয়ান। ফেসবুকে বেশ কিছুদিন কথা বলার পর ইমনই আমাকে ভালবাসার প্রস্তাব দেন। আমিও তার কথাবার্তা আচার-আচরণ দেখে সাড়া দিই তার প্রস্তাবে। তারপর থেকে ফেসবুকে বেশ অন্তরঙ্গ হয়ে যাই। এক মাস পর থেকেই বেশ সেক্সুয়াল কথাবার্তা এবং স্কাইপির মাধ্যমে আমার অন্তরঙ্গ কিছু ছবি দেখতে চান তিনি। আমিও সানন্দে ভালবাসার মানুষের কাছে নিজেকে মেলে ধরি। তার কিছুদিন পর গত বছরের ৩ ডিসেম্বর আমি দেশে আসি ইমনের সঙ্গে দেখা করার জন্য। আমাদের প্রথম দেখা হয় ইমনের স্টুডিওতেই। ইমনের কথামতো তার স্টুডিওতেই পর পর তিন রাত কাটিয়ে দিই আমরা। তিন দিনেই তার স্টুডিওটাকে  আমার কাছে মনে হয়েছে বাজারের মতো, যেখানে নানারকম মেয়ে মানুষ আসতে দেখি নিয়মিত। এসব মেয়ের সঙ্গে ইমনের আচরণ দেখে আমি রাগ করে আমাদের কলাবাগানের বাসায় চলে আসি।’ জিনাত আরও বলেন, ‘কলাবাগানে আসার পর থেকেই একের পর এক ফোন করে নিজের কৃতকর্মের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ইমন। এবং আমার জন্য সবকিছু ছেড়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। আমাকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। আমিও তাকে বিশ্বাস করে তার বাসায় চলে আসি। বাসায় আসার পর ইমনের কাছ থেকেই জানতে পারি অভিনেত্রী বিজরীর সঙ্গে ইমনের বিয়ে হয়েছিল এবং তাদের মধ্যে ডিভোর্স হয়েছে। তখন থেকে আমরা স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করি। এমনকি রান্নাবান্নাসহ বাসার সব দেখাশোনার দায়িত্ব আমি পালন করি। অনেক ভাল ভাল জায়গায়ও বেড়াতে গেছি আমরা। মাছরাঙা টিভির হাউসফুল অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ইমন সেখান থেকে কক্সবাজারের সি-গাল রেস্টুরেন্টের কুপন পেলে দু’জন মিলে কক্সবাজার ঘুরে আসি।’ প্রসঙ্গক্রমে হঠাৎ কান্নায় ভেঙে পড়ে জিনাত কবীর বলেন, ‘চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই আচরণে পরিবর্তন দেখতে পাই ইমনের। নতুন এক মেয়ের সঙ্গে হাতেনাতে ধরা পড়ে ইমন। তারপর ফারহানা আফরিন মুনমুন নামে এক আমেরিকা প্রবাসীর সঙ্গেও একই কায়দায় প্রেম করতো। শুধু তাই নয়, তার স্টুডিতেও মদ ইয়াবা পাওয়া যেতো প্রায়ই। এসব নিয়ে কথা তুলতেই উল্টো আমাকে ধমক দিতো। আর বিয়ের প্রসঙ্গ আনলেই মাতাল অবস্থায় গায়ে হাত দিয়ে উল্টাপাল্টা গালিগালাজ করতো। বলতো, বেশি বাড়াবাড়ি করলে প্রভা বানিয়ে ছেড়ে দেবো। নগ্ন ছবির সঙ্গে মাথা লাগিয়ে কাটপিস বানিয়ে বাজারে ছাড়বো।’ জিনাত কবীর বলেন, ‘ওই সময়ই আমার বেশ কিছু নগ্ন ছবি ফেসবুকে আপলোড করে সে। এরপর আমি আর উপায় না পেয়ে ইমনের বাসা থেকে বের হয়ে আসি। মা-বাবার কাছ থেকে বিতাড়িত হয়ে আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হই।’

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট