Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিশিষ্টজনের প্রতিক্রিয়া

স্টাফ রিপোর্টার: প্রেসিডেন্ট কর্তৃক প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ ৫ কমিশনার নিয়োগ দেয়া প্রসঙ্গে বিশিষ্টজনেরা তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, নিয়োগপ্রাপ্তরা কর্মের মাধ্যমে প্রমাণ করবেন- এই সিদ্ধান্ত কতটুকু সঠিক ছিল। কথায় নয়, তারা নিজেদের কাজের মাধ্যমেই নিরপেক্ষতা দেখাবেন। তবে কেউ কেউ এই নিয়োগ নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্ন তুলেছেন। বলেছেন, এখানে সবার প্রতিনিধিত্ব হয়নি। এমনকি যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে তারা অনেকেই অপরিচিত। নানা কারণে এটি প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
একজনের বিষয়ে
নানা প্রশ্ন উঠছে
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমরা এদের কাউকেই জানি না, চিনি না। আমি অনেকের সঙ্গে আলোচনা করেছি। কিন্তু কেউ তাদের তেমন চেনেন না। তিনি বলেন, এদের মধ্যে একজনের বিষয়ে নাম ওঠার পর থেকেই নানা রকম প্রশ্ন উঠছে। যদি সমালোচিত কাউকে দায়িত্ব দিতেই হলো তাহলে সার্চ কমিটির দরকার কি ছিল। প্রেসিডেন্ট কি বলবেন বুঝতে পারছি না। তিনি নিয়োগ নিয়ে যা করেছেন তা আমাদের হতাশ করেছে। নাম প্রকাশ করার পর তাদের নিয়ে কোন মতামতের সুযোগ দিলেন না। এতে স্বচ্ছতার প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যারা নিয়োগ পেয়েছেন তাদের মধ্যে সবাই হয়তো অবসর পাওয়া সরকারি আমলা কিংবা সেনা কর্মকর্তা অথবা বিচারপতি। কিন্তু এদের ৫ জনের মধ্যে কোন নারী প্রতিনিধি নেই। এমনকি সংখ্যালঘুও কাউকে রাখা হয়নি। আমি মনে করি না এটা স্বচ্ছতার মাধ্যমে হয়েছে। তবু তাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আশা করছি তারা কর্ম দিয়ে তাদের যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতার প্রমাণ দেবেন।
কর্মে পরিচয় দেবেন
তারা সুনির্বাচিত কিনা
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রফেসর মোজাফফর আহমদ কমিশনের মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেন, ফুলের পরিচয় ফলে, আর মানুষের পরিচয় কর্মে। তারা তাদের কর্মে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরবেন- এটাই আশা করি। আমরা আগের নিয়োগ পাওয়া কমিশনের কাজ দেখে তাদের মূল্যায়ন করেছি। নতুনদেরও একই উপায়ে মূল্যায়নের সময় আসবে। তখন বলা যাবে আসলে তারা সুনির্বাচিত ছিলেন কিনা। তিনি বিএনপির প্রত্যাখ্যানের ব্যাপারে বলেন, এটা তাদের রাজনৈতিক বক্তব্য। রাজনৈতিক ভাবে তারা এটি বলেছেন বলেই আমার মনে হয়। তবে আদালতে রিট না করে খোলামেলা ভাবে অসাংবিধানিক বললে হবে না। বিষয়টিকে নিয়ে তারা আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন, যদি বিষয়টি তাদের কাছে অসাংবিধানিক মনে হয়।
আইন প্রণয়নের সুপারিশ
করেছিলাম, মানা হয়নি
বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন তার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মানবজমিনকে বলেন, কমিশন গঠন বিষয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সংলাপে আমরা নতুন করে আইন প্রণয়ন করে তারপর সেই আলোকে কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেছিলাম। কিন্তু আমাদের সেই সুপারিশ আমলে নেয়া হয়নি। কোন আইন প্রণয়ন না করেই কমিশন নিয়োগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, বিষয়টি জাতীয়। জাতীয় ভাবে দেশব্যাপী এর মূল্যায়নের প্রশ্ন জড়িত। বিষয়টিকে আমরা সেভাবেই দেখছি। এটিকে নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনার অবকাশ আছে বলেও মনে করছি।
সবার মন জয়ে ভাল
কাজ করতে হবে
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, সব সময় সরকার ও বিরোধী দল পরস্পর বিরোধী অবস্থানে থাকে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসিসহ নতুন কমিশনের নিয়োগ অসাংবিধানিক ও বেআইনি বলছে বিএনপি। আর আওয়ামী লীগ একে স্বাগত জানিয়েছে। এটা সেই পরস্পরবিরোধী অবস্থানেরই নমুনা। অবশ্য যে কোন কারণেই হোক এই নিয়োগ বিএনপি’র কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। তবে তাদের যদি মনে হয় এটা সংবিধান সম্মত হয়নি তাহলে এটিকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ আছে এবং এর জন্য তারা আদালতে যেতে পারে। এটা বিএনপি করবে কিনা তা দেখতে হলে অপেক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, নিয়োগপ্রাপ্ত কমিশনকে সবার মন জয় করার মতো ভাল কাজ করতে হবে। গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে হলে অবশ্যই নিজেদের কাজের মধ্য দিয়ে ভাল কাজের প্রমাণও দিতে হবে। তারা যদি ভাল কাজ করতে পারেন তাহলে সবার মন জয় করা সহজ হবে। আর তা না হলে অতীতের মতো তারাও বিতর্ক ছড়াতে পারেন। এখন তাদের উচিত হবে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে নিজেদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট