Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

সিরিজে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ জহি

ঢাকা: আগেই আন্দাজ করা গিয়েছিল তৃতীয় ম্যাচে জয় তুলে অতিথি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ জমিয়ে দেবে। আর সেটা যদি না হতো তাহলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৯৭৩ সাল থেকে ৩৯ বছরে ৬৮০টি ওডিআই ম্যাচে খেলার অভিজ্ঞটাই প্রশ্নের মুখে পড়ত। কিন্তু স্যামিরা যে আজ কোমড় বেঁধেই মাঠে নেমেছিল। তবে মুশফিকরাও সহজে জয় নিয়ে হোটেলে যেতে দেয়নি। স্যামিদের আজ মিরপুরে ঘাম ঝরাতে হয়েছে ৪ উইকেটের জয় পেতে। তবে আসল যুদ্ধটা হয়েছে বাংলাদেশ বনাম স্যামুয়েলকে ঘিরে। কারণ তিনি (১২৬ রান ) একাই ম্যাচ টেনে নিয়ে গেছেন।

টি২০ বিশ্বকাপ শিরোপা জেতা ওয়েস্ট ইন্ডিজ যদি আজ ২ ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজে হেরে যেত তাহলে বিশ্ব ক্রিকেটে সম্মান অনেকখানি নষ্ট হত। আর সেটা ভালোই জানা ছিল স্যামিদের। তাই তো দেখে শুনে বুঝে টস জিতে মুশফিকদের আগে ব্যাট করতে পাঠিয়ে ২২৭ রানে আটকে দিল। এবং খুব স্বাভাবিক নিয়মে হেসে খেলে ম্যাচটা জিতে নেয়া সম্ভব হয়নি অতিথি দলের। এই হারের ফলে ৭ ডিসেম্বর ৪র্থ ওডিআইটা হয়ে গেল সিরিজ জেতার দ্বিতীয় সুযোগ। আর অতিথিদের জন্য সিরিজে সমতা আনার সুযোগ। আসলে আজ হতে পারত বাংলাদেশের জন্য উদযাপন করার একটি উপলক্ষ। হতে পারত ১৪তম ওডিআই সিরিজ জিতে আনন্দ করা। কিন্তু অপেক্ষায় রাখলেন মুশফিকরা। তবে ৪৯.১ ওভারে ২২৭ রানের জবাবে ৪৭ ওভার পর্যন্ত ২২৮ রানের জন্য লড়াই করার ম্যাচটাকে বড় ব্যবধানে জয় বলার কোনো সুযোগই নেই।

হোম সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে অতিথিদের টার্গেট ২২৮। এক কথায় মামুলি টার্গেট আর কি? স্যামীরা যতোই খারাপ খেলুক তাই বলে ২২৮ রান তাড়া করে জয় না পাবার মতো দলতো তারা নয়। বল হাতে তাদের স্পিনার বড় কোনো জুটি গড়তে দেয়নি বলেই আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এতো অল্প রানে শেষ হয়ে গেছে মুশফিকরা। অবশ্য এর জন্য নিজেরাই বেশি দায়ি। বিশেষ করে টপ অর্ডার আর মিডল অর্ডার যা করেছে তা রীতিমোত অপরাধ। যে স্পিনের বিপক্ষে মুশফিকরা ভাল খেলার সুনাম আছে সেই স্পিনেই কিনা ৭৮ রানে ৪ উইকেট নেই! অবশ্য এই ৭৮ রানের মধ্যে ওপেনার তামিম-এনামুলের জুটির ৫৭ রানই হেটে যাবার মুল ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে। আর মিডল অর্ডারে সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহর ৭ম ফিফটি না হলে হয়তো তাহলে ২২৭ রানেও পৌছানো যেতে না। বড় পার্টনারশিপ না হবার ফলেই স্কোর লো হয়েছে। যেমন ৫ম উইকেট জুটি মুশফিক-মমিনুলের ৩২, ৬ষ্ঠ উইকেট জুটি মুশফিক-মাহমুদুল্লাহ ৫৯ আর মাহমুদুল্লাহ-সোহাগের ৩৯ রানেই ছিল বাংলাদেশ ৪৯.১ ওভারের ইনিংসে আলোচিত ঘটনা।

প্রতিপক্ষ দলের অধিনায়ক স্যামি তো আগেই খুলনায় ঘোষণা দিয়েছিলেন ‘মিরপুরে তারা আসলটা খেলবেন’। সেটা যে এ রকম হবে তা হয়তো মুশফিকরা চিন্তা করেনি। বিশেষ করে স্পিনার নারিন ঝড়ে এভাবে মেরুদণ্ড ভেঙে যাবে কেন! এমন তো নয় মিরপুরের উইকেট মুশফিকদের জন্য নতুন! অথচ যেভাবে উইকেট পতন ঘটেছে তাতে সেটাই মনে হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। ১১০ রানে ৫ উইকেট পতন ঘটে! তামিম, এনামুল, নাইম, নাসির আর মমিনুল কেউ পারেনি অতিথি দলের স্পিনের মোকাবেলা করতে। যা খুলনার উইকেট সম্ভভ হয়েছে। ৫ উইকেট হারানো পর এখন অধিনায়ক মুশফিক আর সহ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ ব্যাটে ভর দিয়ে লড়ছে বাংলাদেশ।

অতিথি ওয়েস্ট ইন্ডিজ টানা তিন ম্যাচেই টস জিতেছে। আজ সিরিজ নির্ধারনী ম্যাচে টস জিতে মুশফিকদের ব্যাট করতে পাঠায়। ওপেনিং জুটিতে তামিম-এনামুল বেশ ভালোই শুরু করেন। এবং ১০ ওভারে ৪৪ রান যোগ করেন স্কোর বোর্ডে। কিন্তু ১২.২ ওভারে তামিম স্পিনে কাবু হলেন। নারিনের ডেলিভারি তামিমের (২২) ব্যাট স্পর্শ করে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে জমা নিলে বাংলাদেশ প্রথম উইকেট হারায়। ৫৭ রানে ১ উইকেট হারানো বাংলাদেশের ওয়ানডাউনে নামা নাইম ইসলাম (৪) ডিফেন্স করতে গিয়ে বল আকাশে তুলে দিলেন। উইকেটের উপরই থাকা বল ফিল্ডার পোলার্ড তালু বন্দি করলে নারিন পেয়ে যান দ্বিতীয় উইকেট। চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

এবার তৃতীয় উইকেট দ্বিতীয় ম্যাচের মতো মুশফিক-এনামুল জুটি। অবশ্যএ পর্যন্ত এনামুলের আসার কথা ছিল না। কারণ নিজস্ব ১০ রানেই এনামুল ক্যাচ তুলেছেন। যা ফিল্ডার মাটিতে ফেলে দেন। বেঁচে যাওয়া এনামুল ৩২ রানে ব্যাট করছেন। নিজের ৩৩ রানের মাথায় এনামুল যা করলেন তাতে দল আরও চাপে পড়ে। তামিমকে ফেরানো নারিনই আক্রমনে। ১৪.২ ওভারে নারিনের বলে এনামুল  ক্যাচ দিলেন। বল ফিল্ডারের হাতে জমাও হয়েছে। কিন্তু বোলার নারিনের পা লাইন অতিক্রম করেছে। তাই আম্পায়ার নো বল ঘোষনা করলে এনামুল ৩৩ রানে আবারও জীবন পান। পরে বলে ফ্রি হিটে তিনি চার মারলেন। মনে হলো সেট হয়ে গেছে। কিন্তু ১৪.৩ বলে নারিনের বলে বিট হলেন এনামুল। এলবি’র আবেদনে আম্পয়ার সাড়া দিলে। ৩ উইকেটে স্কোর ৬৭ রান। মনে হল খুলনার এই জুটিই তো ১৭৪ রানের পার্টনারশিপ গড়েছিলেন। কিন্তু কে জানত এনামুল দ্রুতই ফিরে যাবেন।

মুশফিকের সঙ্গে নাসির হোসেনের ৪র্থ জুটিও নিরাশ করল। নাসির ৬ রান যোগ করে রামপাউওয়েলের বলে পোলার্ডের হাতে ক্যাচ দিলেন। ১৭.১ ওভারে ৭৮ রানে ৪ উইকেটের পতন! মুশফিব রানের গতি সচল রাখতে সঙ্গী খুঁজে পাচ্ছিলেন না। আশা ছিল নতুন মুখ মমিনুল কিছু করবেন। সেট হবার পথে ১২ রান করে মমিনুল হক বিগ হিট করতে গিয়ে গেইলের স্পিন ডেলিভারিতে ক্যাচ দিলেন পোলার্ডেল হাতে। ৫ উইকেটের পতন হল। ৩২ রানের ৫ম উইকেট জুটি ভেঙ্গে যাবার সময় মুশফিক ১০ রানে ব্যাট করছিলেন। ক্রিজে এলেন সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ২৭ ওভার শেষে স্কোর ১২৪ রানে ৫ উইকেট। মুশফিক ২১ রানে আর রিয়াদ ১৮ রানে ব্যাট করছেন। এই জুটি ৫৮ রানের পার্টনারশিপটা যদি আরও একটু টিকতে পারত তাহলে আড়াই শত রানের কোট স্পর্শ করা হয়ে যেতে পারত। মুশফিক না বুঝেই তুলে মারলেন। ৩৫.৬ ওভারে মুশফিক পারমাউলের বলে ক্যাচ দিলেন তখন স্কোর ১৬৮ রানে ৬ উইকেট।

এরপর মাহমুদুল্লাহ শেষ চেস্টা করেন। সঙ্গী পেলেন মাশরাফিকে। কিন্তু শূন্য রানে ফেরত সাবেক অধিনায়ক। আর ৮ম জুটিতে মাহমুদুল্লাহর স্পিনার সোহাগ গাজীকে। এই জুটি শেষ দিকে ৩৯টি মহা মুল্যবান রান যোগ করলেন। মাহমুদুল্লাহ দলীয় ২১০ রানে ৪৫.৬ ওভারে স্মিথের বলে স্যামির হাতে ধরা পড়লেন। শেষ দুই ব্যাটসম্যান রাজ্জাক ৩ আর রুবেল ১ রানে ফেরত গেলেও সোহাগ ৩০ রানে অপরাজিত রইলেন।  ৪৯.১ ওভারে ২২৭ রানে শেষ হয় মুশফিকদের ইনিংস।

২২৮ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে দলীয় ১৫ রানের আর ব্যক্তিগত ৫ রানে বিপজ্জনক ব্যাটম্যান ক্রিস গেইলকে ফেরত পাঠান মাশরাফি ৩.৬ ওভারে। এরপর ২৬.৩ ওভার পর্যন্ত অপেক্ষার প্রহর গুনা। কখন উইকেট পতন হবে। অধিনায়ক মুশফিক একে একে ৬ বোলারকে ব্যবহার করলেন। শেষ অবদি মাহমুদুল্লাহ কাছে পরাস্ত হলেন ওপেনার পাউওয়েল। ৪৭ রানে মিস করলেন প্রথম ওডিআই ফিফটির স্বাদ। তবে পাউওয়েল আর স্যামুয়েল ১১১ রানের পার্টনারশীপ আসলে খেলাটা তখনই শেষ করে দেয়। এরপর মুশফিকদের আর করার কিছুই ছিল না। কিন্তু শেষ দিকে বোলারদের কারনে ম্যাচে উত্তেজনা তৈরি হয়। স্যামুয়েল ২৩ম ওডিআই ফিফটি সহজ জয়ের পথে বিশাল ভূমিকা রাখে। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১৩ রান যোগ হলে (দলীয় ১৫৮) নাইম ইসলাম সোহাগের হাতে ক্যাচে পরিণত করেন। আর এরপর রাজ্জাক স্মিথকে ৪ রানে আর দলের ১৭১ রানে সাঁজঘরের পথ দেখালেও স্যামুয়েল ৮৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।

জয়ের জন্য তখন দরকার ১২.২ ওভারে ৫৭ রান। যা ছিল অতিথি দলের জন্য মামুলি বিষয়। শেষ সময়ে জ্বলে উঠেন স্পিনার রাজ্জাক। ১ রানে থাকা পোলার্ডকে দলের ১৮২ রানে সরাসরি বোল্ড করে কিছুটা হরেও ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন। ৫ উইকেটের পতনের পর তখনস প্রার্থনা ছিল সেঞ্চুরির (৯৩ রানে) দ্বারপ্রান্তে থাকা স্যামুয়েলকে ফেরত পাঠানো। আর সময় ৪১তম ওভারে অধিনায়ক মমিনুলকে আক্রমনে পাঠালেন। আর মমিনুল-র ৪র্থ বলে ৯৬ রানে থাকা স্যামুয়েল স্লিপে মাশরাফির হাতে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে গেলেন। উইকেট না পেলেও মমিনুল মাত্র ৩ রান দিয়ে জানান দিলেন তিনি দলে স্থায়ী জায়হা দখল করতে এসেছেন। ৫ উইকেটে ৪৮ বলে ৩৯ রানের দরকার হলে ম্যাচে বেশ উত্তেজনা সৃস্টি হয়। মমিনুলের বল খেতেই পারছিল না অতিথি দলের ব্যাটসম্যানরা। সেটা বুঝেই মুশফিক আবারও মমিনুলেল হাতে বল তুলে দিলেন। দলের ১৯৪ রানে স্যামুয়েল পেয়ে গেলেন ৪র্থ ওডিআই সেঞ্চুরি আর থমাস রান আউট থেকে বেঁচে গেলেন। ৩৬ বলে দরকার ৩৪ রান! কঠিন পরিস্থিত তৈরি করে মুশফিক বাহিনী। কিন্তু কঠিন ম্যাচটাকে পেসার রুবেলে বলে ৪৫ ওভারে ৩টি চার ও ২টি ছক্কার মার দিয়ে ২৪ রানে পরিবেশ পাল্টে দিলেন স্যামুয়েলস। ১৭টি চার ও ২টি ছয় মারা স্যামুয়েলসকে ১২৬ রানে মাশরাফি ক্যাচে পরিণত করেন। থমাস ১২ রানে আর স্যামী ১ রানে অপরাজিত রইলেন। ৪৭ম ওভারের শেষ বলে আসে জয় সূচক রান। পরশু সিরিজের ৪র্থ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে একই মাঠে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট