Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

আদালতে ঘাতক রাফির স্বীকারোক্তি : জোসনা আমাকে বিয়ে করবে বলেছিল, না করায় খুন করেছি

শহীদুল ইসলাম বাবর, দক্ষিণ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, ৫ ডিসেম্বর : জোসনার সাথে আমার প্রেমের সর্ম্পক ছিল। সে আমাকে বলেছিল তুমি যেহেতু আমার আপন চাচাত  ভাই আমাদের পরিবার বিয়ে মেনে নিবেনা। তাই পালিয়ে বিয়ে করতে হবে। এ জন্য টাকা লাগবে। তুমি টাকা জোগাড় কর আমি তোমাকেই বিয়ে করব। আমি টাকা জোগাড় করেছি, কিন্তু জোসনা আমাকে বিয়ে না করে উল্টো আরেকটি ছেলের সাথে বিয়েতে রাজি হয়েছে তাই তাকে নিজ হাতে ছুরিকাঘাত করে খুন করেছি।
সাতকানিয়া পৌরসভার ভোয়ালিয়া পাড়ায় গত ২০ নভেম্বর ভোরে সাতকানিয়া কলেজের ছাত্রী ও পৌরসভার গোয়াজর পাড়ার আব্দুল খালেকের মেয়ে তানজিনা আক্তার জোসনার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত চাচাত ভাই মহিউদ্দিন রাফি (২০) মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামস্থ আদালতে জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আবু ছালেহ মোহাম্মদ নোমানের আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে উপরোক্ত কথা বলেন।
থানার পরির্দশক (তদন্ত) সিরাজুল ইসলাম ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই ইয়াছির আরাফাত স্বীকারোক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর থানার বড়পুলের একটি হোটেল থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সাতকানিয়া থানার এস আই প্রভাত কর্মকার ও  এস আই মুরাদ হোসেন রাফিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসেন।
সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ইসমাইল পিপিএম (বার) বলেন, রাফি থানা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদেও জোসানকে খুনের কথা স্বীকার করেছিল। আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেওয়ায় এ মামলা নিস্পত্তি অনেক সহজ হবে।
১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে রাফি বলেন, ১৯ নভেম্বর রাতে জোসনার ভাই তারেক আমাকে হুমকি দিয়ে বলেছিল জোসনা অভিযোগ করেছে তুমি নাকি জোসনাকে বিয়ে করার জন্য হুমকি দিচ্ছ, কোথাও নাকি তার (জোসনার) বিয়ে হতে দিবেনা। সে তারেক এসব কথা বলার পর আমি ধরে নিয়েছি জোসনা এসব কথা অবশ্যই তারেককে বলেছে না হয় সে জানবে কিভাবে। এরপর আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি চট্টগ্রামের বাস টার্মিনাল এলাকার আমাদের বাসা থেকে কোরবানীর পশু জবাই করার কাজে ব্যবহৃত ছুরি নিয়ে সাতকানিয়ায় চলে আসি। বাড়িতে এসে জানতে পারি সে (জোসনা) তার বোন পারভিনের শশুড় বাড়ি ভোয়ালিয়া পাড়ায় রয়েছে। অনেক ঘুরাঘুরির পর ফজরের আজান দিলে আমি পারভিনের বাড়িতে গিয়ে তাদের ডাকি। তখন দরজা খুলে দিয়ে জোসনা আবার আমার সাথে ভাল ব্যবহার করা শুরু করে। এবং আমাকেই বিয়ে করবে বলে জানিয়ে বাড়ির ভিতরে চলে যাওয়ার সময় আমি পিছন থেকে ছুরি দিয়ে তার পিঠে আঘাত করি। সে সামনে ফিরে চিতকার দিলে তার বুকের এক পাশে ছুরি দিয়ে আঘাত করি। সে মাঠিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য তোলার চেষ্টা করলে বোন পারভিন আমার পায়ে ধরে অনুরোধ করে আমি যেন পালিয়ে যাই। তখন আমি বললাম, আমি জোসনাকে হাসপাতালে দিয়ে থানায় আত্মসমর্পণ করব। এ কথা বলার পর পারভিন কেদেঁ উঠে আমাকে পালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করায় আমি পালিয়ে যাই। এর পর চট্টগ্রাম শহরে পালিয়ে গিয়ে বৌ বাজার এলাকায় হোটেল আরসে দৈনিক দেড়শ টাকা বেতনে চাকুরী নেয়। সেখান থেকে চাকুরী ছেড়ে বড়পুলে গেলে সেখান থেকেই পুলিশ গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। এদিকে ধৃত রাফির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন জোসনার পিতা আব্দুল খালেক।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট