Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

গঠনতন্ত্র সংশোধন, ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা বাদ: জামায়াত

ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা বাদ দিয়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা গঠনতন্ত্রে সংযোজন করেছে জামায়াতে ইসলামী। রবিবার বিকেলে ৮টি ধারা পরিবর্তন করে সংশোধিত গঠনতন্ত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে দলটি।

নিবন্ধন বাঁচাতে নিজেদের দলীয় গঠনতন্ত্রে ‘আল্লাহ ব্যতীত কাহাকেও স্বয়ংসম্পূর্ণ বিধানদাতা ও আইন প্রণেতা মানিয়া লইবে না এবং আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁহার দেওয়া আইন পালনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত নয় এমন সকল আনুগত্য মানিয়া লইতে অস্বীকার করিবে’ এ নীতিটি গঠনতন্ত্র থেকে বাদ দিয়ে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছে জামায়াত। এছাড়া আরপিও অনুযায়ী সব প্রকার কমিটিতে ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার বিষয়ে নতুন ধারা যোগ হয়েছে গঠনতন্ত্রে।

জামায়াতের সংশোধিত গঠনতন্ত্রের মুদ্রিত কপি কমিশনে জমা দেন দলটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন। জমা দেয়া কপিতে বলা হয়েছে, ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে ৪৯তম মুদ্রণ করা হয়েছে দলটির গঠনতন্ত্রে। প্রকাশক হিসেবে দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

জামায়াতের সংশোধিত গঠনতন্ত্রে যেসব পরিবর্তন এসেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, এর আগে ২(৫) উপধারায় বলা ছিল, ‘আল্লাহ ব্যতীত কাহাকেও স্বয়ংসম্পূর্ণ বিধানদাতা ও আইন প্রণেতা মানিয়া লইবে না এবং আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁহার দেওয়া আইন পালনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত নয় এমন সকল আনুগত্য মানিয়া লইতে অস্বীকার করিবে।’ সংশোধিত গঠনতন্ত্রে এ অংশটি বাদ দেয়া হয়েছে।

দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে ৩ ধারার কয়েকটি উপধারা পরিবর্তন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে মূল ইসলামী জীবনবিধান কায়েমের প্রচেষ্টার কথা বাদ দিয়ে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থা কায়েমের কথা বলা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার একটি বাক্য সংযোজন করা হয়েছে।

এছাড়া, ৫ ধারার ৩ উপধারায় ইসলামী সুবিচারপূর্ণ শাসন কায়েমের পরিবর্তে সংশোধিত কপিতে গণতান্ত্রিক শাসনের কথা বলা হয়েছে।

৬ ধারার ৪ উপধারায় সমাজের সর্বস্তরে খোদাভীরু নেতৃত্ব কায়েমের যে কথা বলা ছিল সেখানে চরিত্রবান নেতৃত্ব কায়েমের কথা বলা হয়েছে।

জামায়াতের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ইসলামে বিশ্বাস ও শরিয়তের নির্ধারিত ফরজ ও ওয়াজিব আদায়ের যেসব শর্ত ৭ নম্বর ধারায় ছিল সেগুলো বাদ দেয়া হয়েছে। এছাড়া অমুসলিমদের জামায়াতের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত উল্লেখ ছিল, এ সম্পর্কিত ১১ ধারার ২ উপধারা পুরোটিই বিলুপ্ত করা হয়েছে। মজলিসে শুরার সদস্য হওয়া সম্পর্কিত নিয়ম উল্লেখ করে ১৮ নম্বর ধারায় যে উপধারা ছিল তাও বিলুপ্ত করা হয়েছে।

এছাড়া নির্বাচন কমিশনের পরামর্শ অনুযায়ী দলের সব কমিটিতে আরপিও অনুসারে ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ মহিলা রাখা সংক্রান্ত ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

জামায়াতকে গঠনতন্ত্র সংশোধন করতে গত ৪ নভেম্বর চিঠি পাঠিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। চিঠি এক মাসের মধ্যে গঠনতন্ত্র সংশোধনের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছিল। সে হিসেবে ঠিক এক মাসের মধ্যেই জামায়াত তাদের সংশোধিত গঠনতন্ত্র জমা দিল।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট