Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

প্রেমের দ্বন্দ্বে ক্রিকেটার খুন

 ক্রিকেটার পাপন খুনের নেপথ্যে প্রেমঘটিত দ্বন্দ্ব রয়েছে। এর জের ধরেই প্রতিপক্ষের দুর্বৃত্তরা তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তুরাগ থানাধীন ধউর বেড়িবাঁধে ফেলে গেছে। গতকাল তুরাগ থানার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এমন তথ্য দিয়েছেন। তুরাগ থানার ওসি এ বি এম রেজাউল করিম বলেন, মোবাইল ফোন প্রযুক্তির সহায়তায় পাপনের ঘন ঘন ধামরাই যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে অবস্থিত এক তরুণীর মোবাইল ফোনে অসংখ্য কথা বলার তথ্য পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড। তবে খুনিদের গ্রেপ্তার করা না পর্যন্ত হত্যার মোটিভ সম্পর্কে পরিষ্কার করে কিছ বলা যাচ্ছে না। তদন্ত সূত্র জানায়, সন্দেহভাজন বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন নম্বর বিশ্লেষণ করে একই তরুণীর সঙ্গে একাধিক ব্যক্তির দীর্ঘক্ষণ কথা বলার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে পাপনের মোবাইল নম্বরও ছিল। ওই তথ্যের সূত্র ধরেই খুনিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ ও গোয়েন্দারা। গোয়েন্দারা জানান, হাত বাঁধা পাপনের লাশের দু’পায়ে মোজা পরা ছিল। কিন্তু ঘটনাস্থলে তার জুতা পাওয়া যায়নি। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, খুন হওয়ার আগে তিনি পরিচিত কারও বাসায় ঢুকেছিলেন। সেখানে ঘাতকরা শ্বাসরোধ করে হত্যার পর গাড়িযোগে লাশটি বেড়িবাঁধে ফেলে গেছে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে খুনের নেপথ্যে প্রেমঘটিত বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। গতকাল দুপুরে তুরাগ থানাধীন পাপনের লাশ উদ্ধারস্থল ধউর বেড়িবাঁধ এলাকা সরজমিন গিয়ে জানা যায়, পাপনের লাশ পড়েছিল বেড়িবাঁধের দক্ষিণ পাশে- যে পাশ দিয়ে আবদুল্লাহপুর থেকে মিরপুরগামী যানবাহন চলাচল করে থাকে। লাশটি পড়েছিল ধউর বেড়িবাঁধসংলগ্ন মোখলেছুর রহমানের বাড়ির প্রবেশপথে। ওই বাড়ির বাসিন্দা সাইজুদ্দিন বলেন, সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আবর্জনা সংগ্রহকারী দুই অপরিচিত বালক রাস্তার পাশে লাশটি পড়ে থাকতে দেখে আমাদের বাড়ির দরজায় নক করতে থাকে। এ সময় গেট খুলে বাইরে বের হলে তারা জানায়, আপনাদের বাড়ির রাস্তায় একজন লোক শুয়ে আছে। ডাকাডাকি করলেও নড়াচড়া করছে না। পরে ওই শুয়ে থাকা ব্যক্তির কাছে গিয়ে দেখতে পাই তার দুই হাত বাঁধা। খালি শরীর। পরনে জিন্সের প্যান্ট ও দুই পায়ে মোজা। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এলাকাবাসীর ধারণা, আবদুল্লাহপুর থেকে মিরপুরগামী কোন যানবাহনে তাকে বহন করা হয়েছিল। এ কারণে লাশটি বেড়িবাঁধের দক্ষিণ পাশেই ফেলে গেছে। অন্যদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ধামরাই থেকে গুলশান যাওয়ার সহজ রুট হচ্ছে সাভার-গাবতলী-গুলশান রুট। এর বদলে নবীনগর-আবদুল্লাহপুর-গুলশান রুটে দুস্কৃতকারীদের হাতে আক্রান্ত হলে পাপনের লাশ বেড়িবাঁধের উত্তর পাশে পড়ে থাকার কথা। এ থেকে তদন্ত কর্মকর্তার ধারণা ধামরাই থেকে ঢাকায় প্রবেশের মুখেই ঘাতকদের ফাঁদে পড়েছিলেন পাপন। এদিকে লাশ উদ্ধারের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্ত সম্পন্ন করে সোমবার মধ্যরাতে পাপনের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার থানাপাড়ায় দাহ করা হয়েছে। তার বড়ভাই কৌশিক বলেন, আমাদের সঙ্গে কারও কোন বিরোধ ছিল না। কি কারণে আমার সোনার মতো ছোটভাইকে হত্যা করা হয়েছে কিছুই বুঝতে পারছি না। নিহত পাপনের বন্ধু আজমির বলেন, আমাদের বাড়ি থানাপাড়ায় পাশাপাশি। এক সঙ্গে বিকেএসপিতে পড়শোনা করেছি। কয়েকদিন আগে পাপন অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট টিম থেকে বিমান ক্রিকেট টিমের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল। ওই টিমের খেলোয়াড় হিসেবে প্র্যাকটিস করার জন্য ১০-১২ দিন আমার বাসায় উঠেছিল। এরই মধ্যে ঘটনার আগের দিন দুপুরে তার বড় ভাই কৌশিকের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। তিনি বলেন, মাঝে-মধ্যেই পাপন ধামরাই যেতো। তবে কি কারণে যেতো সে বিষয়ে স্পষ্ট করে বলতো না। শুধু বউদি ও তার দেড় বছরের ছেলেকে দেখতে যাওয়ার কথা বলতো। পাপনের  বড় ভাই কৌশিকের শ্বশুড়বাড়ি ধামরাই পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ই ব্লকের ১১৬ নম্বর। পাপন থাকতো গুলশান থানাধীন কালাচাদপুরের শ্যাওড়াবাজারের পাশে বাবু নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে। তিনি আরও বলেন, গত ২রা ডিসেম্বর দুপুর ২টার দিকে তিনি গুলশান থেকে ধামরাই গোপনগরে যান। রাত সোয়া ৮টার দিকে তিনি ওই বাড়ি থেকে বের হন। রাত ১০টার দিকে তার ফোনে কল করলে ব্যস্ত পাই। এরপর থেকে বন্ধ ছিল।
লাশ উদ্ধারের পরও ফোন খোলা ছিল: এদিকে পাপনের লাশ উদ্ধারের পরও পাপনের খোয়া যাওয়া মোবাইল ফোনটি খোলা পাওয়া গেছে। তবে কেউ রিসিভ করেনি। তুরাগ থানার ওসি এ বি এম রেজাউল করিম বলেন, ঘাতকদের শনাক্ত করার জন্য ওই মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীকে খোঁজা হচ্ছে। তাকে ধরতে পারলেই হত্যার মোটিভ ও খুনিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, পাপন দেশের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। লাশ উদ্ধারের সময় তার মানিব্যাগটি প্যান্টের পকেটেই ছিল। মানিব্যাগে ছিল ২০-২২ টাকা। এছাড়া কয়েকটি কাগজে লেখা ফোন নম্বরের সূত্র ধরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি মো. মশিউর রহমান বলেন, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রেমসংক্রান্ত কিছু তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই বলা যাচ্ছে না।
ধামরাই প্রতিনিধি জানান, নিহত কুঞ্জল চন্দ্র পাপন গত রোববার দুপুর ২টার দিকে ধামরাই পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ব্লক নং ই, হোল্ডিং নং ১১৬ গোপনগর তার ভাই কৌশিক চন্দ্রের শ্বশুরবাড়িতে আসেন। সেখানে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করে রাত ৮টা ১৮ মিনিটে বাসা থেকে বের হন। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি। কৌশিকের শাশুড়ি সন্ধ্যারানী ঘোষ ও শ্বশুর রবীন্দ্র নাথ ঘোষ জানান, তার মেয়ে শান্তিরানী ঘোষ ও নাতি সনন চন্দ্র ঘোষকে দেখার জন্যই পাপন গত রোববার দুপুর ২টার দিকে তাদের বাসায় আসে। তারা আরও জানান, পাপনরা দুই ভাই। মলি চন্দ্র ঘোষ নামে তাদের এক বোন রয়েছে। তার পিতার নাম কমল চন্দ্র ঘোষ ও মাতার নাম হেনা চন্দ্র ঘোষ। মাকে দেখাশোনার জন্য কৌশিকের স্ত্রী শান্তিরানী ঘোষ প্রায় আড়াই মাস আগে থেকেই ধামরাইয়ে তার পিতার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট