Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

মুশফিকদের সিরিজ জেতার মিশন কাল

ঢাকা: ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ প্রথম আন্তর্জাতিক একদিনের ম্যাচে মাঠে নামে। আর আন্তর্জাতিক একদিনের ম্যাচে ১০ বছর দুই মাস পর (২২ ম্যাচ পর) ১৯৯৮ সালের মে মাসে লাল বাহাদুর স্টেডিয়ামে কোকা কোলা ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথম জয়ের স্বাদ পায় কেনিয়ার বিপক্ষে। সেই থেকে পথ চলা শুরু।

আজ পর্যন্ত মোট ২৬৪টি একদিনের ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। যার মধ্যে জয় ৭৪টি। আর সিরিজে জয় বলতে ২০০৫ সালে ভঙ্গুর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে প্রথম অর্জন। সিরিজের অতীতের প্রসঙ্গটি বার বার সামনে আসছে কারণ বুধবার বাংলাদেশের ১২তম ওডিআই সিরিজের হাতছানি।

২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়ের পরও বিশ্ব ক্রিকেট পন্ডিতরা বলেছিল এটা দুর্ঘটনা মাত্র। ২০১২ হোম সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ যদি কাল জিতে যায় তাহলে ৩-০ ব্যবধানে দুই ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজে জয় পেয়ে যাবে। তখনও কি বিশ্ব পন্ডিতরা দুর্ঘটনা বলতে পারবে?

বাংলাদেশ ২০০৫ সাল থেকে ২০১২ পর্যন্ত মোট ১১টি সিরিজে জয়ী হয়েছে। দেশের মাঠে ছয়টি আর দেশের বাইরে পাঁচটি সিরিজে। যা মধ্যে প্রতিষ্ঠিত শক্তি বা বড় দল বলতে ছিল ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এছাড়া কেনিয়া, জিম্বাবুয়ে আর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে জয় আলোচিত প্রসঙ্গ ছিল না। আর সে সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলটিও ছিল ভঙ্গুর শক্তির। তাই বিশ্ব ক্রিকেটে ২০০৯ সালের ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশের সেই সিরিজ জয়কে আমলে আনেনি। আবার ২০১০ সালে হোম সিরিজে নিউজিল্যান্ডকে ৪-০ ব্যবধানে হারালেও মুশফিকরা কৃত্বিত পেলেও তাতে ছিল প্রশ্নবোধক চিহ্ন!

ড্যারেন স্যামীর ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলটি বাংলাদেশে আসার আগে টি২০ বিশ্বকাপ জিতে ঢাকায় আসে। আর ঢাকায় পা দিয়েই জানিয়ে দেয় তারা সব ম্যাচে জিততে চায়। টেস্ট ম্যাচে সফল হলেও ওডিআই ম্যাচে বাংলাদেশ নিজেদের যোগ্যতা আর সামর্থ্য কতটা তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে স্যামীদের বুঝিয়ে দিয়েছে। তারপরও স্যামী বলছেন, এখনও তাদের হাতে তিন ম্যাচ আছে। মিরপুরে তারা আসল খেলাটা দেখাবেন।

৭ উইকেট আর ১৬০ রানের জয়ের পর তৃতীয় ম্যাচে মুশফিকরা একে বারেই সিরিজ জয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। একে বারেই মানসিক চাপ মুক্ত। জিতে গেলে সিরিজ জয় আর হেরে গেলে হাতে থাকছে আরো দুটি সুযোগ। যা স্যামীদের হাতে নেই। তবে মানসিক চাপ একটা তো থাকছেই। মুশফিকরা সেই চাপ কাটিয়ে জয় পাবে কিনা সেটাই এখন আসল আলোচ্য বিষয়। তবে এশিয়া কাপের ফাইনালে হাইভোল্টেজের ম্যাচে দুই রানে হারের যে চাপ মুশফিকরা কাঁধে নিয়েছে তাতে কালকের ম্যাচে বড় ধরনের চাপ এলেও তাতে সমস্যা হবার কথা নয়। ২০১১ সালের সিরিজে শেষ ম্যাচে সাত উইকেটে আর ২০১২ সালে সিরিজের দুই ম্যাচে সাত উইকেট আর ১৬০ রানের জয়। সব ফলাফলই বড় ব্যবধানের। টানা তিন ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ হেরেছে। এগিয়ে আছে মুশফিকরা। কাল সেই ধারা বাহিকতা ধরে রাখার মিশন।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সাকিব-তামিম প্রসঙ্গটি। কারণ বাংলাদেশ বলতে তো এখন সাকিব আর তামিমকেই বোঝায়। এ বছর এশিয়া কাপে বাংলাদেশ এই দুই তারকার যৌথ পারফর্মেন্সই ফাইনালে উঠেছে। তামিমের চার ম্যাচে চার ফিফটি আর সাকিবের এক ম্যাচে ৪৯ রানে আউট না হলে তারও চারটি ফিফটি এশিয়া কাপে লেখা হতো।

কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশের সিরিজ জয়ে সবচেয়ে বড় সাফল্যের সময় এই দুই জন একসঙ্গে দলে নেই। যেমন ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশের সিরিজে তামিম ইনজুরি আক্রান্ত হয়ে মাঠে বাইরে। ওপেনিংয়ে তামিমকে ছাড়াই বাংলাদেশ ম্যাচ জিতেছে। আর এবার ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজের আগেই সাকিব বাইরের ইনজুরির কারণে। সাকিব ছাড়াই তো বাংলাদেশ দুই ম্যাচে জিতেছে! শুধু কালকের ম্যাচটা পাড়ি দিতে পারলে তামিম-সাকিবের দল এই শব্দগুলো হয়তো পেছনে চাপ পড়বে। বাংলাদেশ দল তামিম-সাকিব নির্ভর এমন কথা গুলো আর শুতে হবে না। এ দুই জনের ওপর দলের নির্ভরতাও কমবে। তাতে দুই তারকার অহংকারটাও হয়তো কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে।

তাই সিরিজ জয়ের ম্যাচের আগে উপসংহারে বলা যায়, বুধবারের ম্যাচে তিনটি বিষয় সামনে থাকছে। এক-১২তম সিরিজে জয়, দুই-বড় দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় বার এগিয়ে থেকে মাঠে নামা, আর তৃতীয়-সাকিব ছাড়া জয়ী হয়ে মাঠ ছাড়া। এই তিনটি বিষয় কাল ফয়সালা হয়ে গেলে বাংলাদেশ দল বিশ্ব ক্রিকেটে আলাদা একটা অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট